Sunday, January 16, 2022
Home > ছড়া/কবিতা > সন্ধ্যা নেমেছে মনে – সালমান সাদের তিনটি কবিতা

সন্ধ্যা নেমেছে মনে – সালমান সাদের তিনটি কবিতা

Spread the love

সন্ধ্যা নেমেছে মনে

সালমান সাদ

ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে
আমার মুগ্ধপ্রহর কল্পনাগুলো,
আমার লুকোচুরি ভাবনাগুলো,
দেখতে না চাওয়া স্বপ্নগুলো
মনের গহীন বনে।
ক্রমেই ম্লান হয়ে আসছে
সন্ধ্যালালিমা অস্ত যাবার মতো
আমার অচেনা ভালোবাসাগুলো,
ঘোরলাগা বিষণ্ন মুহুর্তগুলো,
জীবনের বাস্তবতার ভীরে।
ক্রমেই মুছে মুছে যাচ্ছে
আমার শানিত চেতনাগুলো,
আমার দৃঢ় বিশ্বাসগুলো।
এবং এদ্দিনের ঘৃনিত চিন্তাগুলো
মনমানসে নাচে সোল্লাসে।

২.

জিজ্ঞাসা

 

আমার মনের জমির ওপর তোমার প্রেমের যেই বাসাটা –
মেয়ে শোন সেই বাসাটা ভেঙে গেছে।
আমায় প্রবল কাছে পেতে তোমার যে সেই ক্ষীণ আশাটা –
আমার অবহেলায় সেটা নিভে গেছে।

তোমার ঠোঁটের পাই না ছোঁয়া আমার এতে দোষ কী বলো,
শত শহর তোমার আমার মধ্যখানে আড়াল হলো।
আমার দেহে তোমার কোন ঘ্রাণ পাই না আমার এতে দোষ কী বলো!

তুমি ভালো আছো আমি ভালো আছি কি?
আমি দুখে আছি তুমি সুখে আছো কি?

 

৩.

শাহবাগনামা

রাতের বিশে টেলিগ্রাম এলো
নকল কবিতা লেখার দায় আপনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলো কবি!
রাত্রির চল্লিশায় আপনি আসুন শাহবাগ থানা।
ফাসির উত্তরীয় গলায় বেধে আধঘণ্টা ঝুলে অতঃপর বাসায় চলে যান।
আমি হৃদয়ের কাঁচা পিণ্ডটা চাবাতে চাবাতে পাবলিক লাইব্রেরীতে হাঁটতে থাকি বইয়ের পাপোষের ওপর।
গণশৌচাগার ভেবে ঢুকে পরে দেখি এ যে ঢাকা ভার্সিটি। শাস্তি মোতাবেক আমি এক যৌবনবতীকে খুলে দেই গায়ের কাপড়।
যাদুঘর দর্শনার্থীর একটা চোখ খুলে নিয়ে মুখের ভেতর পুরে দেই লিচির মতো। ইতিহাসের শাঁস ক্যালসিয়ামের মতো লাশা লাশা।
শিশুপার্ক থেকে কচি রক্তভাজা খেয়ে কাকরাইলের হাউজে গিয়ে মুখ ধুই।
দুই ঘোড়ার সোনালী ভাস্কর্যটার পিঠে চড়ে বসে চাবুক শানাই ফলে মূর্তির পাথরেরা আর্তনাদ করে কাঁদে ব্যথায়।
রমনাপার্কে ব্যভিচারের দন্ড স্বরুপ একটা বদমাশ জননাঙ্গ ও ক্ষতবিক্ষত যোনিপথ চাক চাক করে কেটে পুড়িয়ে দেই। সেই পোড়াগন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে গেলে শহরের শরীর উষ্ণ হয় উষ্ণতর হয়।
ঢাকার শক্তনরোম কলিজার গোশতে শাবলের
ঘাই দিতে থাকি ঘাই দিতে থাকি আর ঘাই দিতে থাকি।

Facebook Comments