Monday, January 17, 2022
Home > Uncategorized > শা’বানের পনেরোতম রাত্রিতে জাগ্রত থাকার হুকুম

শা’বানের পনেরোতম রাত্রিতে জাগ্রত থাকার হুকুম

Spread the love

শা’বানের পনেরোতম রাত সম্পর্কে আকাবিরদের থেকে বিভিন্ন ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায় ।তাবেঈন ও পরবর্তীদের মধ্যে থেকে খালিদ বিন মা’দান , মাকহূল, লুকমান বিন আমির, ইসহাক ইবনে রাহওয়াই, ইমাম আওযাঈ , প্রমুখ উলামায়ে কেরাম রাত জাগ্রত থেকে এবাদত করতেন ।আনুষ্ঠানিকতা, লৌকিকতা, ভণিতা ছাড়া ঐকান্তিকতার সাথে এ রকম রাত জাগরণ ও এবাদত করা “মুস্তাহাব”।খলীফা উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহঃ একদা বসরার গভর্নর কে পত্র লেখেছিলেন যে, গোটা বছরে চারটি রাতে বিশেষ করে বেশী বেশী এবাদত করবে । কেন না আল্লাহ তা’আলা উক্ত রাত সমূহে প্রচুর রহমত প্রভূত বরকত অবতীর্ণ করেন । এক, রজব মাসের প্রথম রাত্রি, দুই, শা’বানের পনেরোতম রাত , তিন ও চার, ঈদুল ফিতির ও ঈদুল আযহার রাত ।ইমাম শাফেঈ রহঃ বলেন : পাঁচটি রাত এমন যেখানে দুআ কবুল হয় । প্রথম জুম’আর রাত, দুই ও তিন উভয় ঈদের রাত, চার, শা’বানের পনেরোতম রাত, পাঁচ, রজবের প্রথম রাত ।মোটকথা সাহাবা তাবেঈন, তাবে তাবেঈনদের সকল যোগে উক্ত রাতে এবাদতের গুরুত্ব বহন করে আসছে ।অতএব উক্ত রাতের এবাদত কে ‘বেদআ’ত বলা যায়না ।

শবে বরাতের শিক্ষা ও আমল 
এক : নিজের মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য ও মৃতদের মাগফিরাতের জন্য দু’আ করবে ।কবরস্তানে যাওয়া জরুরী নয় । কবর যিয়ারতের রসম রেওয়াজ করা ঠিক নয় । কারণ রাসূল সাঃ চুপিসারে একাকী জান্নাতুল বাকি , যিয়ারত করেছেন । আয়শা সিদ্দিকা রাঃ কে নিদ্রা থেকে জাগান নাই ।পরবর্তীতে কবর যিয়ারতের জন্য যেথে ও বলেন নাই এবং রাসুল সাঃ তাঁর জীবদ্দশায় উক্ত তারিখে একাধিকবার কবর যিয়ারতের জন্য গমন করেন নাই ।
দুই : শা’বানের পনেরোতম দিনে রোযা রাখা মুস্তাহাব ।
তিন : ব্যক্তিগত ভাবে আনুষ্ঠানিকতা ও জামাত ছাড়া সামর্থ অনুযায়ী নফল এবাদত করা। মসজিদে গিয়ে সমবেত ভাবে এবাদতের জরুরত নেই । সমবেত ভাবে মসজিদে গিয়ে জামাতে নফল আদায় করা বৈধ নয় । যে সকল এবাদত, নামাজ জামাতে ও সমবেত ভাবে আদায় করার প্রচলন রাসূল সাঃ থেকে প্রমাণিত রয়েছে তা জামাতে আদায় করা হবে ।বাকী অন্যান্য এবাদত একা ঘরে আদায় করবে । এবাদতের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট রয়েছে ।কখনও ইজতেমায়ী শেকেলে সমবেত ভাবে এবাদত করা প্রসংশনীয়, আবার কোন সময় ইনফেরাদী ভাবে একাকী এবাদত করা শ্রেয় ও বান্চনীয়। যোগল প্রণয়ীরা একাকিত্বে প্রেমের অভিসারে মিলিত হয় । তখন আশিক – মাশুকের মাঝে (প্রেমিক ও প্রীয়া ) কী কথা কী ভাব বিনিময় হয় তা কেবল প্রেমিক মন ছাড়া কেউ বলতে পারেনা, উপলব্দি ও করতে পারেনা ।
“প্রেম যে কি চায় প্রেমিক ও জানেনা ,বিশ্বে জানেনা কেউ
ঢেউয়ের সাথে ঢেউ মিশে শান্ত হয় না – কেন উঠে আরো ঢেউ ”

নশ্বর এ পৃথিবীতে অনেক সময় রাজ রাজড়াগণ আন্তরিক লোকদের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে একান্তে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে থাকেন । সুবর্ণ এ সুযোগে বাদশাহ মহোদয়ের কাছে প্রাইভেট সাক্ষাত না করে, বন্ধু বান্ধব সহকারে রাজ দরবারে উপস্থিত হয়, তাহলে এটা হবে আহমকি, বেকুবি ।লোক তাকে নির্বোধ ও কপর্দক বলে ভৎসনা করবে । এতে বাদশাহ উষ্মা ও অসন্তোষ প্রকাশ করবেন ।পরিনামে প্রজাদের বন্চিত হতে হবে অনেক রহস্যময় বিষয়াদি ও রাজকীয় হাদিয়া উপঢৌকন হতে ।এ সব রহস্যের কারণে আল্লাহ তা’আলা নফল এবাদত একাকীত্বে আদায় করাকেই বেশী ভালবাসেন ।এখলাসের সাথের সামান্য আমল ঐকান্তিকতাহীন অধিক আমল থেকে উত্তম ।উল্লেখ্য যে শবে বরাতের ভিন্ন কোন নামাজ নেই ।নির্দিষ্ট সূরা দিয়ে নির্দিষ্ট রাকাত পড়ার রেওয়াজ নেই ।
চার, মুশরিক ,হিংসাপরায়ণ , আত্মীয়তাবন্ধন ছিন্নকারী, পিতামাতার অবাধ্য সন্তান , শরাবখুর এরা নিজের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে । পাঁচ, বিশেষ করে নিম্নের দু’আ টি পড়বে ।আল্লাহুম্মা বা রিক লানা ফি রাজাবা ও শা’বানা ও বাল্লিগনা রামাদানা ।বুখারী ও মুসলিম ।

Facebook Comments