Wednesday, January 19, 2022
Home > ইসলাম > শবে বরাতের কুসংস্কার

শবে বরাতের কুসংস্কার

Spread the love

মাওলানা আবদুল্লাহ মাসরূর
আলেম, লেখক

বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারনা না থাকার কারণে, অনেকে মনে করেন শবে বরাত হালুয়া, রুটি ও আলোক সজ্জার রজনী ।আবার এক শ্রেণীর আল্লাহর বান্দা এমন যারা শা’বান মাস কে ‘বাত্তির চান্দ’ বলে অভিহিত করেন । বিভিন্ন ধরনের আগরবাতি , গোলাপজল ও সুঘ্রাণ স্প্রে করে মনে করেন শবে বরাতের হক্ব আদায় হয়ে গেছে । বাজারের কৃত্রিম কসমেটিক্স , আগরবাতির সুঘ্রাণের চেয়ে আল্লাহর রঙে রঙিন হওয়া , তাকওয়া তাহারাতের সুঘ্রাণে সুভাশিত ও আমুদিত হওয়া এটাই শ্রেয় ও বান্চনীয় । শবে বরাতের হালুয়া রুটি তাবারুকের আয়োজন ও দাওয়াত খাওয়ার পিছনে অযথা অতিরিক্ত খরচ করা অপচয়ের শামিল । আল কুরআন অপচয় কারী কে শয়তানের ভাই বলে আখ্যায়িত করেছে ।

এসব অহেতুক অনুষ্ঠানের পিছনে পড়ে শবে বরাতের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য, তাৎপর্য ও বৈশিষ্ট্য বিনষ্ট ও ব্যহত হয় । জিকির , দু’আ, কোরআন শরীফ তেলাওয়াত , মৃতদের ও নিজের জন্য মাগফিরাত কামনা করা এসব অতিশয় প্রয়োজনীয় বিষয়াদি থেকে মানুষ গাফিল, অমনোযোগী ।

আরেকটি ব্যাপার লক্ষণীয় যে, শবে বরাতের রাতে মসজিদে, ঘর বাড়িতে আলোকসজ্জা করা, আধুনিক নয়নাভিরাম বর্ণিল ঝাড় বাতি জ্বেলে দিকদিগন্ত দিনময় করা।লালে লাল হয়ে যাওয়া দুনিয়া, ঝলমলে নীড়, পটকা ফাটিয়ে আতশবাজীর অসহনীয় আওয়াজে অসুস্থ পরিবেশ, বিকট ও বিরক্তিকর শব্দ ধুষণ মূলক কার্যকলাপ, অলি গলিতে, হাট – বাজারে যুবকদের আড্ডা, আস্ফালন ও উন্মাদনা সহ সকল অশুচি প্রতিযোগিতা এ সব কিছু নিতান্ত গর্হিত কাজ এবং নির্লজ্জ কুসংস্কার ও কু-প্রথা ।

আল্লামা আলী ইব্রাহীম রহঃ বলেন : আলোকসজ্জার এ সকল প্রোগ্রাম ও প্রচলন “বার্মাকেউ” নামক সম্প্রদায়ের লোকদের আবিষ্কার ।এরা আকীদাগত ও বংশগত দিক থেকে অগ্নিপূঁজক। (রুহবানুল লাইল, ড, সাইয়েদ হুসাইন আল আফ্ ফানী ।)
ইয়া আল্লাহ বরকতময় ও ফযীলত পূর্ণ এ রাতে আমাদের সকল কে যাবতীয় কুসংস্কার থেকে হেফাজতে থাকার তাওফিক দান করুন । আমীন!

Facebook Comments