Wednesday, January 19, 2022
Home > গল্প > রাইসুল ইসলাম রাণা’র গল্প – অনাথ

রাইসুল ইসলাম রাণা’র গল্প – অনাথ

Spread the love

নাতিকে নিয়ে আর পারে না সামর্তো বানু। এত জ্বালায়। কারুর বাড়িতে ফলের গাছে পাকা ফল দেখলে লালা ঝরে কালুর, চেয়ে দেও, না দিছ তো পাড়া মাথায় তোলা তুমুল আর্তনাদ! বাড়ি ফিরে চুলা ভাঙ্গবে, হাঁড়ি ভাঙ্গবে। আবার পাড়ায় কারুর বাড়িতে পিঠা তৈরী করা হলে চেয়ে এনে দাও; তা না হলে কিচ্ছু মুখে তুলবে না। স্কুলে যাওয়ার সময় সে আরেক জিদ দক্ষিণ পাড়ার হাজেরার বাড়ি বড়ই গাছ, সেকি মিষ্টি না, চিনিতে ভরা! দাও এনে, না হলে এই জামা খুললাম।
“না মা– মাঙনা মাঙনা কারুক বড়ই দিবার পারব না তো। একদিন না দুইদিন, সেদিনও এক কোচ নিয়া গেলা– দান করার জন্যি গাছ লাগাই নাই।” মুখ চেগরায়ে চেগরায়ে কথা শোনায় হাজেরা। সেসবের তোয়াক্কা না করে কাকুতি-মিনতি করে বড়ই এনে নাতিকে দেয় বুড়ি– “জ্বালাবার পারিসও! তোর লাইগা কথা শুনতে শুনতে জান তিতা তিতা হয়া গেল! বাপ-মা গোল্লায় গেছে তুই যাইবার পারিস না?” বলে বারান্দায় বসে আগে-ভাগে বেহেশ্তে স্থান দখল করা পুত্র-আর পুত্রবউকে উদ্দেশ্য তিরস্কার করে, আবার তাঁদের জন্যে বুক চাপড়ে আর্তনাদ করে শেষতক আল্লাহর কাছে দ্রুত নিজের মৃত্যু কামনা করে বাড়ির পেছনে বাঁশ ঝাড়ের পাতা ঝাড় দিতে শাড়ির আঁচল কোমরে পেঁচায়।
থান কাপড়ের ঢিলা হাফ প্যান্টের ট্যাকে বড়ইগুলো গুজে বই-শ্লেট বগলদাবা করে খোশ মেজাজে স্কুল চলে কালু। দাদীকে কত বার বলছে একটা ইংলিশ প্যান্ট কিনে দিতে। দুই পাশে পকেট। বড়ই, মার্বেল, খোলামকুচিয়ে লই খেলার কার্ড রাখা কত যুত। কিনে দিতেইছে।
আজ সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়ে বড়ই খাবে কালু। গতদিন মোল্লা পাড়ার হাদিস এক পলিথিন বড়ই নিয়ে আসছিল। কয়েকদিন আগে স্কুলের স্পোর্টসে মোরগযুদ্ধ খেলায় অবশিষ্ট চারজন থাকাকালীন হাদিসকে ফেলে দিতে সক্ষম হয় কালু। তার প্রতিশোধ সরূপ কালু ছাড়া সবাইকেই বড়ই খাওয়ানো। কালুর কান্না পেয়ে গেছিল প্রায়।

ঢাকায় মাটি কাঁটার ট্রলার ডুবিতে কালুর পিতা টেসে যায়। বাপ মারা যাওয়ার সপ্তাহ দুইয়ের মাথায় ছয় বছরের শিশুসন্তানকে রেখে ওর মাতৃহৃদয়হীন ও পতিব্রতা মা বাপের পথ অনুসরণ করে।
কালুর মায়ের মূমুর্ষকালে পাড়ার মহিলারা বলল, “ওই মাগি, ছাওয়ালের মুখের দিক তো একবার তাকাবু রো।” নির্বাক, স্তব্ধ, ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে ছেলের শুষ্ক মুখপানে তাকাল অবশ্য। সেই শেষ তাকানো। এমন পতিব্রতা নারী বিনা হিসেবে জান্নাতে যাবে এতে কারুরই কোন সন্দেহ নাই।
কালুর মায়ের জীবনাবসানের পর বোনের ছেলের ভবিষ্যৎচিন্তা করে ওর মেজখালা ওকে নিয়ে গেছিল। সপ্তাহ খানেক ছিল বটে। ঘুমের মধ্যে “দাদী দাদী” বলে কেঁদে উঠত। খেতে দিলে মিটমিট করে চেয়ে থেকে পরক্ষণেই “ভ্যাঁ” করে কেঁদে দিত। ওর খালু বাজার থেকে জিলাপি, রসগোল্লা, আপেল-কমলা ইত্যাদি এনে দিত, তবু “দাদীর কাছে যাব দাদীর কাছে যাব!” ছাড়া মুখে অন্য কোন বাক্যটি পর্যন্ত নেই।

দাদী-নাতি পাড়া বেড়িয়ে আসতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামল। পাড়া বেড়ানো বলতে কি, গেছিল পশ্চিম পাড়ার সরদারদের বাড়িতে। সরদার বাড়ির মেয়ে ফুলি। ওর বিয়ে হইছে পাঁচ গ্রাম দূরে গয়হাট্টা। কদিন ধরে দন্তশূলের বিষম যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিল বুড়ি, কুলাতে না পেরে ওই গাঁয়ে কবরেজ বাড়ি গেছিল। ওমা, দশ-বারটা পোঁকা বের হলো। দেখে গা রি রি করে ওঠে যেন। সেদিন আর বাড়ি ফেরা হয়না, কিন্তু থাকবেটা কোথায়? এ গাঁয়ে না ফুলির বিয়ে হইছে, মনে পড়লে বুড়ি ফুলির শশুড় বাড়ির খোঁজ করে। বাপের গাঁয়ের মানুষ পেলে মেয়েরা বর্তে যায়। হলোও তাই- বুড়ি যতটা না ভাবছিল তার বেশীই অতিথিসৎকার পেল। দেখামাত্র নিজের তিন বছরের মেয়েকে নামিয়ে কালুকে কোলে উত্তোলন করল, আদর করল, মাতৃ-পিতৃ হারা এতটুকুন ছেলের জন্য হৃদয়ের সবটুকু সহানুভূতি নিঙ্গড়ে দিল। রাতে গাই দোহানে দিয়ে ভাত দিল। এহেন অপরিচিতস্থলে আহার করতে কালুর লজ্জার আর সীমা নাই। শিশুরা স্বভাবতই দুধপ্রিয়। কালু মনে করতে পারে না শেষ কবে দুধভাত খাইছে। স্মরণ করার প্রয়োজনও নাই এই মুহূর্তে। মস্তকবনত করে আহারকার্য সমাপ্ত করল, একটা ভাতও নষ্ট করল না। পাত নিঙ্গড়ানো দুধটুকু চুমুক দিয়ে খেতে নাকে দুধ লেগে যায়, তা দেখে পিচ্চি মেয়েটি হেসে ওঠে এবং দুগ্ধচিহ্নিত স্থানে আঙ্গুলের ডগা দিয়ে মুছে দেবার চেষ্টা করে। মেয়ের প্রচেষ্টা ব্যর্থ পর্যবসিত হলে ফুলি শাড়ির অঞ্চলে মুছে দেয়।
আসার সময় বুড়ির আঁচল প্রান্তে লাউয়ের বীজ বেঁধে দিতে দিতে ফুলি বলে, “ও খালা, তুই কিছু লিস আর মা’ক দিস। বড় বড় লাউ হয়। বাড়ির ধোপে লাগাইছি, চল দেখাই।”
সেই লাউয়ের বীজ দিতেই গেছিল। “সন্ধ্যা হয়ে গেল বাবা! নাদবোনে কহন আর খাবনে কহন।” বলে কাঁখে কলসি নিয়ে পাড়ার টিউবওয়েলের দিকে যায় বুড়ি।
মাগরিবের নামাজ আদায় করে রাঁধতে বসে– “ও কালু, আলু কয়টাও দিয়া যা, ভাতে দেই, খাইসুনি।”
কালু বাতির আলোতে কাঁচামরিচের ঢালা খুঁজতে খুঁজতে বলে, “আগে ভাত-টাত নাদ। তারপর হেঁশেলে আলু পোড়া দিস। মৌ আলু সেদ্ধ কইরা খাওয়ার চে পোড়া খাতিই বেশী স্বাদ!”
খেতে বসে দাদীর দিকে চোখ পাকায় কালু। আল্লার তিরিশ দিন শাঁক-পাতারি ভাঁজা খেতে রোচে না কালুর। কাঁদো কাঁদো গলায় বলে, “শাঁক ছাড়া দ্যাশে আর কিছু নাই মনে হয়।”
বুড়ির চোখও অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। কালুর থালা নিজের দিকে টেনে একটা শুকনা মরিচ ডলে বেশ করে মাখিয়ে মুঠো বানিয়ে পরম স্নেহে তুলে খাওয়া নাতিকে।
রাতে বহুবার শ্রুত সেই একই রূপকথার গল্প শোনে দাদীর কাছে। গল্পটিতে একটা ছন্দ আছে, যেটা মাঝে মধ্যে আউড়ায়-
“আফাল-দুলাল দুই ভাই,
পথে পাইল মড়াগাই,
আফাল কয় নানির লাইগা নিয়া
যাই,
দুলাল কয় থুয়া যাই”
গল্প শুনতে শুনতে বুড়ির বাহুবেষ্টনের মধ্যে কখন যে ঘুমিয়ে যায় কালু,তা টের পায় না।
পরদিন সকালবেলা মিষ্টি আলুর গাছ উপড়ানোর অভিযোগ নিয়ে বুড়ির কাছে হাজির হয় ইসমাঈলের দর্জ্জাল বউ। এক পাঁজা মিষ্টি আলুর লতা উঠানে ফেলে বাঘিনীর মতো ক্ষিপ্র স্বরে বলতে আরম্ভ করে, “ও সার্মতো বু– দেইহা যাও তোমার লাতি আর শরাদ্দিনি ছাওয়াল এই দুই জন মিল্যা কী অন্যায়ডো হরিছে! এই কী মানুষের ছাওয়ালের কাম? খালি শেকড় ল দেহোতো? এমন ল যে আলু হইছে। পাছে লাগাইনা গাছ। লাতির কী বিচার হইরব্যা হইরো। কাইল বিকালেই একবার দেহাইব্যার আইছিলাম। আইসা দেহি ঘরে চাবি দেওয়া।” বুড়ি বোবাবৎ স্তব্ধ হয়ে উঠানে দাঁড়ায়ে থাকে আর ভাবে, আইজ আসুক নাহি বাড়িত। অরি একদিন নাকি আমারি একদিন দেখপনে। এত জ্বালালি এ্যাক লিয়া ক্যাবা হরবো আমি? পারিও নাতো আর!

পাড়ার টিউবওয়েল হতে বহু কৃচ্ছ্রসাধন করে নিজের শ্রমাতীত টিনের কলস ভরে দু’হাতে ধরে কয়েক গজ আসতে না আসতেই থামছে, রক্তাভ আঙ্গুলগুলো দেখছে আবার হাঁটছে– বাড়ি পৌঁছানোর আগ মুহূর্তে পরম হৈতষী এক বন্ধু মারফত কালু জানতে পারে যে, ঈসমাইলের বউ ওর দাদীর কাছে চৌর্যকর্মের বিরুদ্ধে নালিশ জানাচ্ছে। এক্ষণে বাড়িতে উপস্থিত হওয়ার আশু অমঙ্গল কল্পনা করে পানির কলস ওখানে রেখেই কিঞ্চিত ভয়ে ও ততোধিক আনন্দে সারাদিনের জন্য অন্তর্নিহিত হয়। আজকে স্কুলেও যাওয়া লাগবে না, কালাম স্যারের ইংরেজী বিষয়ের পাঠ সম্পূর্ণ না করার দায়ে মাইরও খেতে হবে না। খুশির চোটে দৌড়ের গতি যেন আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হয়।

পেটে তা লাগলে এমনি বাড়ি ফিরবে এমন ভেবে নিশ্চিত বুড়ি, কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়, দুপুর গড়িয়ে বিকাল, না, কালু বাড়ি ফেরে না! উদ্বিগ্ন হয়ে এপাড়া-ওপাড়া খোঁজ করে। কালুর দেখা মেলে না। হাড়-হাভাতে গোল্লায় গেছে ভালো হইছে! শেষে এমন আত্মবিরোধী বাক্য উচ্চারণ করে সান্ত্বনা নেয়।
সকালে একবাটি মুড়ি ছাড়া সারাদিন আর কোন দানা-পানি মুখে দেয়নি কালু। ক্ষুধায় কাতর হয়ে মাগরিবের নামাজের পরপরই বাড়ি ফিরে ঈষৎ ভেজান দরজায় উঁকি দিয়ে দেখে মেঝেতে বাতিদানীর উপর রাখা বাতি টিপটিপ করে জ্বলছে, সে অনুজ্বল আলোয় দাদী নামাজ আদায় করছে। ধীরপদক্ষেপে, নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে ডিশ থেকে ভাত বেড়ে গ্রোগাসে গিলতে শুরু করে কালু। বুড়ি কালুর আগমন টের পেলেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে আপন মনে সালাত আদায় করতে থাকে। সালাত শেষ হলে তজবিহ জপতে জপতে স্নেহার্দ্রকন্ঠে বলে, “সারাদিন কোনে আছিলু ভাই? আমি কী তোক কিছু কইল্যাম নে? আহারে, সারাদিন কিছু না খায়া মুখ শুকায়া রইছে। আর যানি মানষির অন্যায় হরিস না। আল্লা গোনা দিবি কইল। লে খা।” উমুরী সবিস্ময়ে অল্পকাল বুড়ির মুখপানে তাকায়ে ফের খেতে থাকে। ঘটনা যা ভাবছিল তার উল্টা ঘটল।
আজ রাতে আর গল্প শোনার আবদার করে না কালু। দাদীই নীতিশাস্ত্র শোনায়, এবং পাড়ার কোন হিতকামী ব্যক্তি উমুরীকে হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়ানোর সুপরামর্শ দিছে; নাতিকে আরবী শিক্ষা দিলে মৃত মাতা-পিতা, পরিবারের চৌদ্দগোষ্ঠী ও বুড়িরও জান্নাতে যাবার পথ সুগম হবে। মাদ্রাসায় ভর্তি করানো ও জায়গীর রেখে দেবার সকল ভার সে নিজে বহন করে অনাথসেবা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কালু তদ্বিষয়ে জানালে আঁধারেই ও দাদীর দিকে জ্বলন্তদৃষ্টি নিয়ে তাকায়, মা-বাপের বিস্মৃতপ্রায় মুখাবয়ব স্মরণ করে রাগ ও দুঃখ মিশ্রিতস্বরে বলে, “আর একবার যদি তুই এই কথা কইস তালি আমি আব্বা-মা’র মতো মইরা যাব যা।” জগতে সামর্তো বানুর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন কালু। নাতির মৃত্যু কল্পনা করে সে ভরকে যায়। থাক তবে হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়ে কাজ নেই।
এর কিছুদিন পরে একদিন প্রাইমারী স্কুলের নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ের অল্প-উচ্চ সিড়ি থেকে লাফাতে গিয়ে পড়ে পা মচকে যায় কালুর এক সহপাঠীর। এর দায় পড়ে এই নতুন খেলার উদ্ভাধনকারী উমুরীর ওপর। অভিযুক্তকারীকে সর্বসমক্ষে কানধরে উঠবস করানো তো হয়ই আবার দু’হাতের তালুতে দশবার কষে বেত্রাঘাত করা হয়, ফলে আঘাতের চিহ্ন হাতে প্রকট দেখা যায়। বাড়ি ফিরে অশ্রাব্য ভাষায় আঘাতকারী শিক্ষককে ধুয়েমুছে দেয় এবং দাদীকে জানায় নাম-ঠিকানা তো সবই শিখেয় ফেলছে; সুতরাং ওর আর বিদ্যাশিক্ষার প্রয়োজন নাই। তাছাড়া অতি দারিদ্র্য পরিবারের সন্তানদের বিদ্যাশিক্ষার দৌড় এদ্দূর পর্যন্তই। বৃথাই দেশের পড়া শেষ করে জজ-ব্যারিস্টার হবার দিবাস্বপ্ন তারা দেখে না।
চতুর্থ শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন লেখাপড়ার ইতি ঘটে কালুর। সুতরাং এখন থেকে সারাদিন টো টো কোম্পানির মতো ঘুরে, ডাংগুলি, মার্বেল ইত্যাদি খেলে দিন কাটে ওর।
কয়েকদিন হলো শরীরটা ভালো যাচ্ছে না বুড়ির। রাতে রাতে জ্বর আসে। নাতিকে দিয়ে বাজার থেকে কয়েক পুরা হোমিও ওষুধ আনাইছে। বাচ্চু ডাক্তারের ওষুধ দুই পুরা খেলে জ্বর কোমে যায়– আর আচ্ছাই কয়েকদিন ধরে জ্বর– বেশ কয়েক পুরা খায়া তাও কিচ্ছু হচ্ছে না। শেষে কুলাতে না পেরে গায়ে জ্বর নিয়েই সমাজ বাজারে এলাকাখ্যাত এলোপ্যাথিক ডাক্তার শ্রী নান্টুর শরণাপন্ন হয়। ওতেও কোন উপকার আসে না। উত্তরোত্তর জ্বর বৃদ্ধি পেতে থাকে, রাতে প্রলাপ বকে, “কালু, কালু রে, কোন যাইস আমাক থুয়া? গরু ছুটল কার আবার– হ হ তিনদিন ধরা জ্বর।” স্বপ্নে দেখে বাপ-ছেলে মিলে ঘরের কাশবনের ভাঙ্গা বেড়া মেরামত করে দিচ্ছে আর সে ভাত বেড়ে বসে ডাকছে, “ও অফেলার বাপ, আইস চারটা খায়া যাও। লোকমান, বাপ আয়।” অতিনিকট হতে ডাকছে তবু তারা শুনতে পাচ্ছে না, আপনমনে কার্য সম্পাদন করছে। কিন্তু শুনতে পেলে পায় কালু। “অফেলা” ছিল ওর ফুফু, যে কি না চার বছর বয়সে পানিতে ডুবে মারা যায়। কতদিন “অফেলা” নামোচ্চারণ করে অশ্রুবিসর্জন দিয়েছে দাদী। দাদীর মুখে শুনেছে যে, ফুফু মরার বছরই জন্ম হয় ওর বাপ ঝুমুর আলীর। ওর বাপ যখন সবে অধোবুলিতে “আব্বা” ডাক দিতে শিখেছে, তখন একদিন ওর দাদা স্ত্রী-পুত্র নিঃসহায় রেখে ধরাধাম ত্যাগ করে।

রাত পোহাতে না পোহাতেই আর কালবিলম্ব না করে গত হয় বুড়ি।
দাফনকার্য শেষ করে আসার পথে কতক সিনেমায় ছোটকালের সীন ভিলেনের হাতে পরিবারের সকল সদস্য খতম হলেও বেঁচে যাওয়া পিচ্চি নায়কের সাথে নিজের সামঞ্জস্যতা খুঁজে পায় কালি। প্রতিশোধস্পৃহ হয়ে ওঠে শিশুমন; কিন্তু ভিলেন কে, আর বুঝে উঠতে পারে না!

Facebook Comments