Wednesday, January 19, 2022
Home > ছড়া/কবিতা > মোরশেদ আলমের তিনটি কবিতা

মোরশেদ আলমের তিনটি কবিতা

Spread the love

এক
মহাকালের নাকারা

বসে আছি সূর্যের পাটাতনে
হু হু ছুটে চলছে নক্ষত্রমন্ডলী
এক পশলা করে আলো ছুটে যাচ্ছে
বায়ুমণ্ডল পেরিয়ে বুড়িমার রান্নার ঘরে
বিশ্ববালিকার চমক চাহনিতে তৈরী হচ্ছে অ্যালবাম
ঝর্ণার গড়িয়ে পড়া পানিতে দুলছে ঘড়ির কাটা
সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা হয়ে আসছে সময়ের হিসাব-
পাশের বাগানে রক্তকরবীর বোঁটায় নিষিক্ত ডিম্বাণুতে এক একটি ভবিষ্যৎ জমা হচ্ছে
মাত্র কয়েক মুহূর্ত, অত:পর মৌ মৌ গন্ধ
গোলাপ, জবা, জুঁই-চামেলীর সাথে এভাবেই বিকশিত হচ্ছে অপক্ক শিশুগুলো
অত:পর গ্রাম-শহর মার্চ করে করে করুণ কৃষক, লোহার শ্রমিক, ভবঘুরে-ভাবুক
ভাবতে ভাবতে বুড়িয়ে যাচ্ছে
গণতন্ত্রের মিছিল চলছে মধ্যপ্রাচ্যে
শক্ত দণ্ডের উপর সবল সমাজতন্ত্র আর স্বৈরাচার
দুই ভাই শান্তির মহাকালিক ম্যানিফেস্টো নিয়ে হাজির
এবার দলিতের পক্ষে দস্তখত করবে অক্ষ-দ্রাঘিমা
এদিকে লক্ষ-কোটি আলোকবর্ষের দূর প্রান্থে চলছে সন্ত্রস্ত আত্মার সম্মেলন
পৃথিবীর সকল অ্যালবাম নিয়ে হাজির আলোর সৈন্য
যুগ-শতাব্দীগুলো যুবক হয়ে ধরে আনছে
কালের স্বৈরাচার, শোষক-তোষক যতসব উদ্ভট উদ্ভাবক সব
অত:পর আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে
প্রবল ঝাঁকুনিতে উচ্চ কম্পাঙ্কে বেজে উঠছে মহাকালের নাকারা
যেখানে প্রতিটি শব্দ তার প্রতিশব্দ নিয়ে হাজির
প্রতিটি ঘটনার পেছনের চিত্র
প্রতিটি মূহুর্ত স্ব-বর্তমান

দুই
আমাকে সন্ত্রাসী বলার আগে

আমাকে সন্ত্রাসী বলার আগে
তোমার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যাটা দেখে নিও
দেখে নিও, তোমার ভারী শিল্পগুলোর সাবমেরিন উৎপাদনক্ষমতা
এক কোটি ইরাকির মৃত্যুর শপথ
আমি যদি ত্রাস হতাম-
গ্রানাডার ইতিহাস অন্যরকম হতে পারতো
বেলগ্রেড হতে পারতো মহাশ্মশান
আমি হিংস্র হলে-
দানিয়ুবের স্রোতে কোনো ছন্দ থাকতো না
এথেন্স নিয়েও করতে না আস্ফালন
আমার মোসলের নিস্ফলা ভূমি
আমার ডেমাস্কাসের বাজারের মৌনতা
আমার ত্রিপোলির হারানো জৌলুস
আমার কুফা, আমার বসরা
আমার কাবুল! উফফ!!
আমার শিশুগুলো আয়লান হয়ে বলে-
তেলের জন্য মৃত্যু নয়
তোমরা তখন ‘আয়াত’ পড়-
‘গণতন্ত্র’- যুদ্ধ নয়!
তবুও তোমরা জিততে পারোনি
তোমার উন্মাদনার মতো
আমার সাহসেরও শেষ নাই
মৃত্যু আমার কাছে জীবনের নাম
আমি মৃত্যু তাড়া করে এগিয়ে যাই

তিন
গণতন্ত্র

পৃথিবীর বুকের উপর পারমাণবিক পাহাড়
তার উপর পাঁচটি পাথরে পাঁচটি নাম
ওয়াশিংটন, লন্ডন, মস্কো, প্যারিস, বেইজিং
ডান-বামে আরও দুই শক্তিমান শব্দ
ভোট এবং ভেটো
জল-স্থল, অন্তরীক্ষে প্রবল কম্পনে
ট্যাঙ্ক-কামান সাবমেরিন-মেশিনগান
সমুদ্র-পাতাল মহাকাশ ফাড়ি
প্রবল প্রলয়ে শোনা যাচ্ছে শব্দের কম্পাঙ্ক
গণতন্ত্র!
যার উপরে শাসন নাই
পৃথিবী জেগে উঠলো আনবিক শক্তির মতোই
নির্বাচন, রাজনীতি, ক্ষমতা, উন্নয়ন আর যুদ্ধ চলতে থাকলো দূর্বার গতিতে;
ঠিক সূর্যাক্ষের গতির মতোই।
মানুষ জানলো, ওরা পরস্পর শত্রু;
কেবল জানলো না গণতন্ত্রের আসল রহস্য
আণবিক পাহাড়ে কেন সাতটি নাম!

Facebook Comments