রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২
Home > ইসলাম > মুমিনের হজ | কাউসার মাহমুদ

মুমিনের হজ | কাউসার মাহমুদ

Spread the love

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। একজম মুমিনের অন্তরে এই বাণীটি ক্রমাগত অনুরণিত হতে থাকে সবসময়। প্রভূর প্রেমে পাগলামো করার খোলা ময়দানে হাজিরা দেবার ইচ্ছায় উদ্বেল হয়ে থাকে তার মন। কখন যাবে সেই কাবা গিলাফের ধারে। পাগলের মতো দৌড়াবে সাফা-মারওয়ায়। মদীনায় গিয়ে বলবে আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ।

এই প্রেম আরো বেশী জেগে ওঠে এই মওসুমে। জিলকদেই মুমিনরা ছুটে যেতে থাকে মক্কায়। মালিকের পায়ে গিয়ে সমর্পণ করে নিজের সত্বাকে। নিজেকে বিলীন করে দেয় কান্নায় কান্নায়। ক্ষমার চাদরে জড়িয়ে নেবার আহাজারি নিয়ে তারা ঘুরতে থাকে কাবার চারপাশে। তাওয়াফে তাওয়াফে জানান দেয় নিজের উপস্থিতির। লাব্বাইক লাব্বাইকে মুখরিত হয়ে ওঠে পবিত্র মক্কা।

হজ ইসলামের মূল পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম একটি। মুসলিম সামর্থবান নর-নারীর ওপর ইসলামে এটি ফরজ করা হয়েছে। তাই এ সময় আসতেই সারা দুনিয়ার মুসলমান ছুঁটে যায় একই স্থানে, একই ঘরের চৌহদ্দিতে।


মুসলিম সামর্থবান নর-নারীর ওপর ইসলামে এটি ফরজ করা হয়েছে। তাই এ সময় আসতেই সারা দুনিয়ার মুসলমান ছুঁটে যায় একই স্থানে, একই ঘরের চৌহদ্দিতে


মহান আল্লাহ সামর্থবানদের ওপর হজ ফরজ হওয়ার ব্যাপারে বলেন,
১। মানুষের উপর আল্লাহর এই অধিকার রয়েছে যে যারা তার ঘর (বাইতুল্লাহ্ শরীফ) পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ রাখে তারা যেন এর হজ সমাপন করে। বস্তুত: যারা এই নির্দেশ পালন করতে অস্বীকার করবে (তাদের জেনে রাখা উচিত যে) নিশ্চই আল্লাহ্ সমগ্র সৃষ্টিজগতের কারও মুখাপেক্ষী নন। আয়াত : ৯৭, সূরা আল-ইমরান

২। তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও ওমরা পূর্ণ কর। আয়াত : ১৯৬, সূরা বাকারা

৩। নিশ্চয় মানবজাতীর জন্য সর্বপ্রথম যে ঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা তো বাক্কায় (মক্কা); তা বরকতময় ও বিশ্ব জগতের দিশারী। এতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন রহিয়াছে। যেমন মাকামে ইবরাহীম। আর যে ব্যাক্তি তাতে প্রবেশ করিবে সে নিরাপদ। আয়াত : ৯৬-৯৭ সূরা আল-ইমরান

৪। মানুষের নিকট হজ এর ঘোষণা করে দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পদব্রজে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উষ্ট্রসমূহের পিঠে চড়ে তারা আসবে দূরদূরান্তের পথ অতিক্রম করে। [আয়াত : সূরা হজ ২৭]

পবিত্র হাদীস পেয়ারে হাবীব বলেন,

১। হযরত আবু সাঈদ (রা:) হতে বণিত রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সম্মুখে ভাষণ দিতে যেয়ে বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের উপর হজ ফরজ করেছেন। সুতরাং তোমরা অবশ্যই হজ পালন করবে। মুসলিম শরীফ

২। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে ওমর (রা:) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলেছেন, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। যথা: (১) আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল- এই সাক্ষ্য প্রদান, (২) নামায কায়েম করা, (৩) যাকাত প্রদান করা, (৪) বায়তুল্লাহ্ শরীফের হজ্ব পালন করা এবং (৫) রমযানে রোজা পালন করা। বোখারী ও মুসলিম শরীফ

৩। হযরত আবু হোরায়রা (রা:) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, একটি উমরা হজ অপর উমরা হজ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সমুদয় গুনাহর জন্য কাফ্ফারা স্বরূপ। আর হজে মাবরুর বা মকবুল হজের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত আর কিছু নয়। বুখারী ও মুসলিম শরীফ

বোখারি, মুসলিমের এক রেওয়াতে আছে, হজরত রসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত কর। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় কর, রমজানের রোজা রাখ, তোমাদের প্রতিপালকের ঘরে (বাইতুল্লাহ শরিফ) হজ কর এবং খুশি মনে তোমাদের মালের জাকাত প্রদান কর। আর হাসতে হাসতে জান্নাতে বিজলির মতো প্রবেশ কর।

Facebook Comments