শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > গল্প > ভয়ার্ত চিৎকার ।। আতিক ফারুক

ভয়ার্ত চিৎকার ।। আতিক ফারুক

Spread the love

ইদানীং প্রায় রাতেই ভয়ার্ত এক চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গে আবিরের। গা ছমছম করে ওঠে ওর। টেবিলের উপর থেকে পানিভর্তি গ্লাস থেকে ডগডগ পানি পান করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবার বসে পরে খাটের উপর।
এই চিৎকার তার কাছে নতুন নয়। কিন্তু ইদানীং চিৎকারটা আরো ভয়ার্ত মনে হয়।
এর থেকে পরিত্রাণের উপায় সে খুঁজে পায়না। তাদের গ্রামটা উজিরপুর। সুনসান নীরব নিস্তব্ধতা আর লতাপাতায় ঘেড়া পুরো বাড়ী। উজিরপুরের পরের গ্রাম আজম নগর। সেখানে ২৫০ বছরের পুরনো একটি বটগাছ আছে। কয়েকগ্রামের লোকদের এখান দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। সন্ধের পরপরই যেন চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার হয়ে যায়। সন্ধের পর কেউ এদিক দিয়ে যাতায়াত করেনা, করলেও ভয়ে কাঁচুমাচু হয়ে যায়।
লোকমুখে শোনা যায় আদিকালের রাজা-বাদশাহরা অপরাধীদের এই গাছে ঝুলিয়েই শাস্তি দিত। ঐ সমস্ত মৃত মানুষের আত্নারাই নাকি সন্ধের পর গ্রামে গ্রামে ঘুরেবেড়ায়

আবির তার আব্বুকে প্রায়ই বলে এই গ্রাম ছেড়ে দূর কোথাও চলে যেতে। কিন্তু, তার আব্বু তাকে অভয় দিয়ে বলে। কিছু হবেনা বাবা! এগুলো সবি দৃষ্টিভ্রম। কিন্তু, আবিরের দৃষ্টিভ্রম নয়। সত্যি সত্যি সে প্রতি রাতে ভয়ার্ত চিৎকার শোনে, অতন্দ্রে কেটে যায় তার সারারাত। আবিরের মা নেই। বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছেন কোন এক দূর্ঘটনায়। মার কথা মনে পরলেই আবিরের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে যায়। কখনো কখনো সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে নীরবে নিভৃতে।

বিষণ্ণ মনে আবির তাকিয়ে আছে ঐ আকাশ পানে। আজ আকাশটা নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছে। চাঁদমামা তার সবটুকু আলো বিস্তার করেছে পৃথিবীজুড়ে। শুকতারাও জ্বলজ্বল করছে বিশাল আকাশে। রাত বারোটা বেজে গেছে। সহসা, তার গা ঘেষে এক চিলতে গরম বাতাস ছুঁয়ে গেল। বদ্ধ জানালাটি নিজ থেকেই খুলে গেল। তেমন ঝড়তুফানও নেই যে জানালা নিজ থেকেই খুলে যাবে! আবির ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে রুমের এক কোণে ধপ করে বসে পড়লো। এইতো কারো দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়ার শব্দ শোনতে পাচ্ছে আবির। মনে হচ্ছে এইতো, এখনি কেউ তার টুটি টিপে ধরবে! আবার সেই ভয়ার্ত চিৎকার!

Facebook Comments