রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২
Home > গল্প > ভুতুড়ে কান্ড : ঝুমাইয়া আফরোজ কবিতা

ভুতুড়ে কান্ড : ঝুমাইয়া আফরোজ কবিতা

Spread the love

ঝুমাইয়া আফরোজ কবিতা


রুমি বরাবরের মত কোনকিছুকেই ভয় পায় না। সন্ধ্যা রাতে এ বাড়ি ও বাড়ি দৌড়াদৌড়ি করে। বান্ধুবীর বাড়িতে না ঘুরলে পেটের ভাত হজম হয় না।বলতে গেলে দস্যি পনার জন্য রুমি সবার ওস্তাদ। বান্ধুবীদের সাথে আড্ডা হলে সেই আড্ডার মধ্যমণি হলো রুমি। রুমি ছাড়া কারো চলেই না।
রুমি সারাদিন টু টু করে ঘুরে বেড়ায়।সন্ধ্যায় পড়তে বসার কথা তার মনেই থাকেনা। সারাদিন শুধু দস্যিপনা করা। এজন্য মায়ের বকুনিও খেতে হয় শত। কিন্তু তাই বলে রুমি একেবারে যে খারাপ ছাত্রী তাও নয়। ক্লাশের সেরা ছাত্রী রুমি।

সেদিন সন্ধ্যাবেলায় রুমির কাছে মনি আসে। মনি আসতে রুমি বেড়িয়ে পড়ে তার সাথে। বলে চল আমরা রুমাদের বাড়িতে যাই। রুমি রুমা আর মনি তিন বান্ধুবী। পাশাপাশি বাড়ি ওদের। একজনকে ছাড়া আরেক জন চলতে পারেনা।

মনি বলে চল যাই তিনজনে বসে জমিয়ে আড্ডা দেব।যেই কথা সেই কাজ।দুজনে বেড়িয়ে পড়ে রুমাদের বাড়ি পথে। সময়টা ছিল এমন, মাগরিবের আযানের কিছু সময় পর। সন্ধ্যা ঘনিয়ে অন্ধকার নেমে এসেছে। দুজন পাশাপাশি হাটছে আর কথা বলছে।

রুমাদের বাড়ির কাছাকাছি আসতেই ওরা হঠাৎ দেখতে পেল একটা ইয়া লম্বা লোক। সাদা ধুতি পাঞ্জাবী পরনে মুখ ভর্তি সাদা দাড়ি বুক অবধি নেমে এসেছে। হাতে কিছু একটা হবে। রুমিদের দিকে এগিয়ে আসছে। এত লম্বা লোক রুমি কখনো দেখেনি। আর এধরনের পোশাক পরা লম্বা লোক রুমিদের এলাকাতেও নেই।

রুমি লোকটাকে দেখেই মনি দিকে তাকাল বলল তুই কি কিছু দেখতে পাচ্ছিস। মনি ভয় পেয়ে গেল বলল হ্যা। আমার খুব ভয় লাগছে। চল বাড়ি যাই।রাস্তার এমন একটা পর্যায় এসে দাড়িয়েছে ওরা দুজন যে দৌড় দেবে তার ও কোন উপায় নেই। দুজনের নিঃশ্বাস বাড়তে লাগল। এই সময়ের ভেতরে লোকটি ওদের কাছে চলে এলো।

দুজন চুপ করে রাস্তার পাশেই দাড়ানো। লোকটি রুমির গা ঘেষে পাশ দিয়ে চলে গেল। ওদের দিকে তাকাল না। এক মনে কিছু একটা পড়তে পড়তে চলে গেল। রুমি স্পষ্ট শুনতে পেল লোকটি আল্লাহর নামে দোয়া পাঠ করছে। লোকটিকে দেখে মনে হয়েছিল খারাপ কিছু একটা হবে কিন্তু না ওদেরকে লোকটি না কিছু করল না কিছু বলল।

লোকটি চলে যাবার পর রুমি আর মনি এক নিঃশ্বাসে একটা দৌড় দিল। দৌড়ে রুমাদের বাড়ির ভিতরে চলে এলো। রুমাদের এখানে এসে দুজন হাঁপাতে লাগল। মুখ দিয়ে কোন রা বের হচ্ছে না। পাঁচ মিনিট পর ওদের দম ফিরল।ঘটনা পুরোটা খুলে বলল ওদের। ওরা শুনে বলল এটা তেমন কিছুই না। হয়ত কোন লোক তসবিহ জবতে জবতে গেছে। ভয় পাওয়ার কিছুই নেই।

এই ঘটনার পরে রুমি এ ধরনের কোন লোক এলাকায় আছে কিনা খুঁজেছে।কিন্তু কোথাও খুঁজে পায়নি। আর কোনদিন এ রাস্তায় এমন লোক দেখাও যায়নি। লোকে বলে এ রাস্তায় আগে নাকি জ্বীন চলাচল করত কিন্তু এসব আর নেই। দিন দিন সবি বিলিন হয়ে যাচ্ছে। মায়ের মুখে শুনেছে কয়েবার নাকি রুমির বড় ভাইয়ের সাথে এ রাস্তায় এমন লোকের দেখা হয়েছে।

কিন্তু তার পরনে এমন সাদা আলখাল্লা ছিল না। তার পরনে ছিল কালো কুচকুচে কাপড়। হাতে কাসার একটি ঘটি। কিন্তু সেগুলো এখন আর নেই। সবাই শুনে বলে এটা নাকি রুমির মনের ধাঁধা। এটা মনের ধাঁধা ছিল নাকি অন্যকিছু রুমির আজো তা অজানাই রয়ে গেল—

Facebook Comments