শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > গল্প > ভীতুর ডিম ।। আমিনা সুলতানা

ভীতুর ডিম ।। আমিনা সুলতানা

Spread the love

আজ ৮ই আষাঢ়। প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে সেই সকাল থেকেই। ঝুম বৃষ্টি। এরই মধ্যে অনন্যা টিএসসি তে একা দাঁড়িয়ে। তার হাতে এক গুচ্ছ লাল গোলাপ। এই বৃষ্টির মধ্যে নেহাৎ দরকার না পড়লে পাগল ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হবে না। কিন্তু অন্যন্যা আজকের দিনটাকেই বেছে নিল শুভ্রের সঙ্গে দেখা করার জন্য। আজই শুভ্রকে প্রথম দেখবে সে।

প্রায় দুবছর হল শুভ্র আর অনন্যার সম্পর্কের। সম্পর্কের শুরুটা ফেসবুকে হলেও শুভ্র ছিল আর পাঁচটি ছেলের চেয়ে আলাদা। এই দুই বছরে শুভ্র একটি বারের জন্যও অনন্যাকে দেখতে চায়নি। প্রথম প্রথম অনন্যা এতে মুগ্ধ হলেও পড়ে এই মুগ্ধতা বিরক্তিতে পৌছে।
একটা সময় অনন্যা চাইত যে শুভ্র নিজে থেকেই বলুক ভালবাসার কথা।
দুজনের দেখা করার কথা। কিন্তু দেখতে দেখতে দুটি বছর পার হল কিন্তু শুভ্র একটি বারের জন্যেও মুখ ফুটে বলেনি কিছুই। অবশেষে অনন্যা একরকম বিরক্ত হয়েই দেখা করার জন্যে আজকের দিনটাকে বেছে নিয়েছে।

শুভ্র ফিন্যান্স নিয়ে সদ্যই এমবিএ করে বের হল কোন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এই ছেলেটা কিছুটা ভীতু টাইপের। বড় হয়েছে মফস্বলে,কিন্তু ভাবসাব এমন যে অজপাড়াগাঁ থেকে উঠে এসেছে। আজ তার ডাক্তারবাবু হয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা ছিল।কিন্তু সে মাঝপথে এসে ডাক্তারি পড়ার ইতি টানে তার অসীম সাহসিকতার কারনে। অনন্যার ধারনা শুভ্র লাশকাটার ভয়ে ডাক্তারি পড়া ছেড়ে দিয়েছে,কিন্তু শুভ্র কিছুতেই এটা স্বীকার করতে নারাজ। এসমস্ত কারনেই অন্যন্যা শুভ্রকে ভীতুর ডিম বলে ডাকে। প্রায় দুই ঘন্টা ধরে রাস্তার ধারে অনন্যা অপেক্ষা করছিল কিন্তু শুভ্রর দেখা নেই।

এদিকে শুভ্র ছিল যাত্রাবাড়ী। ওখানকার একটা কোচিংয়ে পড়ায় সে। ক্লাস শেষ করে ঠিক সময় মতই বাসে উঠেছিল শুভ্র,কিন্তু জ্যামের কারনে আটকে গেল সে। অবশেষে জ্যাম একটা সময় তাকে বিরক্তির শেষ পর্যায়ে পৌছে দিলে শুভ্র বাস থেকে নেমে বৃষ্টির মধ্যেই হাঁটতে শুরু করে। বাসটি তখন ছিল প্রেসক্লাবের সামনের জ্যামে।সেখান থেকে হেটে টিএসসি তে পৌছুতে গিয়েই তার এত দেরি হয়ে গেল।

শুভ্র এক কদম হাঁটছিল আর তার কাছে মনে হচ্ছিল আর কত দেরি,আরও কত দূর,এই পথ কি আর শেষ হওয়ার নয়।

শুভ্র যখন টিএসসিতে পৌছুল তখন বেলা প্রায় ১২টা। বৃষ্টি আরও বাড়ল। রাস্তার দুইধারে তাকিয়ে শুভ্রর চোখ হন্য হয়ে কাউকে খুঁজছিল। অবশেষে দেখতে পেল রাস্তার ঠিক অপর পাশে কেউ একজন দাঁড়িয়ে তার দিকেই হাত নাড়ছিল। হাতে তার লাল গোলাপ,পড়নে নীল শাড়ি। এক মুহূর্তের জন্য শুভ্রর পৃথিবীটা কেউ যেন থামিয়ে দিল। শুভ্র স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ওখানেই। শুভ্রর বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল না যে নীল শাড়ি পড়ে কেউ তার দিকেই হেঁটে আসছে। শুধু হাতে তার লাল গোলাপ,পড়নের নীল শাড়িরজমিনে এক অদ্ভুত মমতা। এই মমতার পরশেই যেন তার অনাগত দিনের স্বপ্নগুলি রচিত হতে যাচ্ছে। কাছাকাছি এসেই অনন্যা তার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল- “এই যে ভীতুর ডিম। এত দেরি করলে কেন আসতে?

ওদের গল্পটা এখান থেকেই শুরু……

(আমার গল্পটা শেষ )

Facebook Comments