রবিবার, নভেম্বর ২৭, ২০২২
Home > বই আলোচনা > বুক রিভিউ ‘সিদ্বার্থ’

বুক রিভিউ ‘সিদ্বার্থ’

Spread the love

বইঃ সিদ্বার্থ

লেখকঃ হেরমান হেস

অনুবাদকঃ জাফর আলম

রিভিউঃ মাহবুব আলম কাউসার

প্রকাশনাঃ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

মূল্যঃ একশত চল্লিশ টাকা মাত্র

রেটিংঃ ৯/১০

লেখক পরিচিতিঃ

সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ লেখক হেরমান হেস। তার জন্ম ১৮৭৭ সালের ২ জুলাই দক্ষিণ জার্মানির ছোটশহর উইটেম্বার্গের কালভ-এ। ১৯৪৬ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পান।

পাঠ পরিচিতিঃ

সিদ্বার্থ গৌতম বুদ্ধের আরেক নাম। কিন্তু এই বইতে সিদ্বার্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মানুষ। যার জীবন আশ্চর্যতায় পরিপূর্ণ। কত নতুন, কত অজানা পথে সে ঘুরেছে। অথচ জীবনের অর্থ সে বোঝে নি। কিশোর বয়সে দেবতার অর্চনা ও যজ্ঞ নিয়ে মগ্ন ছিলেন তিনি এবং পিতার অবাধ্য হয়েই কৈশোরে তিনি পরিবার ছেড়ে সন্ন্যাসী জীবন বেঁচে নিয়েছিলেন। যৌবন কেটে গেছে তার ধ্যান ও তপস্যায়। যার জন্য সে সংসার জীবনকে ত্যাগ করেছে। ব্রহ্মকে সে খুঁজে ফিরেছে। আত্মার মধ্যে শাশ্বতের প্রকাশকে সে পূজা করেছে। যৌবনে প্রায়শ্চিত্ত ও কঠোর জীবনযাপন তাকে আকৃষ্ট করেছে। গ্রীষ্মে ও শীতে সে বনে বনে ঘুরেছে। শিখেছে উপবাস, জেনেছে দেহকে জয় করবার কৌশল। তারপর হঠাৎ একদিন সে আবিষ্কার করলো বুদ্ধের বানী। যেই বানী থেকে সে সংসার, জ্ঞান, ঐক্য এই অনুভূতিগুলো পরিপূর্ণভাবে পায় এবং তা রক্তের মত তার সর্বাঙ্গে সঞ্চারিত করে ফেলে। কিন্তু তবুও সিদ্বার্থ বুদ্ধ ও তার মহান উপদেশ ত্যাগ করেছিল, কারণ তার কাছে মনে হয়েছিল হাজার হাজার বুদ্ধের অনুসারী এবং ভিক্ষু থেকে সে ভিন্ন। বন ছেড়ে সে চলে এল নগরে। নগরে এসে সংসার জীবনে সে পা বাড়াল। তার মনে হল এটাই হয়ত সঠিক পথ। কমলা নামের এক রূপবতী তরুণীর প্রতি আকৃষ্ট হল। তার কাছে শিখেছে সে প্রেমের কলা ও ব্যবসায়ী কামস্বামীর কাছে শিখেছে সে ব্যবসা। যা শিখতে গিয়ে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ তিনটি শিক্ষা জলাঞ্জলী দিতে হয়। সেই মহামূল্যবাণ তিনটি শিক্ষা হল – উপবাস, প্রতীক্ষা ও গভীর চিন্তা করবার ক্ষমতা! যা সে বহু সাধনা করে অর্জন করেছিল। তারপর তার সামনে ধরা দিল অন্য এক জগৎ। সেই জগতে সে দু’হাতে অর্থ উপার্জন করতে থাকল আর ঠিক সেই দু’হাতেই অর্থ উড়িয়েও দিতে থাকল। উপবাস করে থাকবার ক্ষমতা হারিয়ে গেল, অভ্যাস হলো উপাদেয় খাবার। কমলার কাছে সে শিখতে পারল ইন্দ্রিয় উত্তেজিত করবার কৌশল। অনেক অনেক বছর একইভাবে কাটবার ফলে তার বুদ্ধি গেল হারিয়ে, চিন্তার শক্তি আর রইল না, ভুলে গেল সে বৈচিত্র্যের অন্তরালের বোধকে! নতুন জীবন লাভ করার জন্য তাকে পাপ, ভুল, বিরক্তি, দুঃখ ও মোহ ভঙ্গের মধ্য দিয়ে আসতে হয়েছে!

সে শিশুকাল থেকে শুনে এসেছে পার্থিব সুখ এবং ঐশর্য মঙ্গলকর নয়। অথচ এর ভেতর দিয়েই তার যেতে হয়েছে। এক সময় সংসার জীবন তার কাছে সহ্যহীন হয়ে উঠল। তার কাছে হঠাৎ মনে হল এটা জীবন নয়! সে কমলা, তার ব্যবসার সঙ্গী কামস্বামী ও ঐশ্বর্য তথা সংসার জীবন আবার ত্যাগ করল।

বুদ্ধের অনুসারিত্ব ত্যাগ করে যখন সে নগরে আসবার জন্য তড়িঘড়ি করেছিল তখন বন থেকে নদী পেরিয়ে নগরে আসতে এক মাঝি তাকে সাহায্য করেছিল, দীর্ঘ বিশ বছর পর সে আবার সেই মাঝির কাছেই ফিরে গেল। শুরু হল তার জীবনের আরেক অধ্যায়। সেই কৈশোর থেকে যে সবার আলাদা কেউ হতে চেয়েছিল সেই সিদ্বার্থ বুড়ো বয়সে এসে হয়ে গেল সাধারণ একজন মাঝি, তবুও সে যেন এবার তৃপ্ত, আনন্দিত। জীবনের মানে বুঝি এই!

.

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ

জীবনের মানে কি, এই শিক্ষা সিদ্বার্থ পুরো জনমভরে জানবার চেষ্টা করেছে অথচ সে সমস্তকিছু ত্যাগ করেও তা জানতে পারে নি। শেষমেশ বৃদ্ধ বয়সে এই শিক্ষা পেয়েছে সে একটি নদীর কাছ থেকে। জীবন হয়ত এমনি! হেরমান হেসের বিখ্যাত একটি উপন্যাস সিদ্বার্থ। পড়তে পারেন আপনিও। আমার খুব ভালো লেগেছে। আশা করছি আপনারও ভালো লাগবে।

Facebook Comments