Sunday, January 16, 2022
Home > বই আলোচনা > বুক রিভিউ “সাঁতারু ও জলকন্যা”

বুক রিভিউ “সাঁতারু ও জলকন্যা”

Spread the love

মুহাইমিনুল ইসলাম খাঁন : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় তার বিশেষ লেখনি শক্তি দ্বারা আমাদের বাঙালিদের মানসপটে বিশেষ জায়গা দখল করে রয়েছেন। দূরবীণ, পার্থিব, মানবজমিন ইত্যাদি জনপ্রিয় উপন্যাসের তিনিই অন্যতম স্রষ্টা। বাংলা সাহিত্যের অপ্রতিদ্বন্দ্বী একজন লেখক।

তারই ধারাবাহিকতায় “সাঁতারু ও জলকন্যা” হয়ে উঠেছে এক অনন্য উপন্যাস। এত অসাধারণ প্রেমের উপন্যাসটি পড়ে সত্যি আমার মনে হয়েছে এটি যেন বড়দের রূপকথা। বইটি পড়ে এতটাই মুগ্ধ হয়েছি যে টানা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো উপন্যাস শেষ করে ফেলি। ইতোমধ্যে চারবার পড়েও ফেলেছি।

কাহিনী সংক্ষেপঃ
উপন্যাসের কাহিনির সূত্রপাত হয় অলোক নামে এক সাঁতারু ছেলেকে নিয়ে। যে কিনা জলের মাঝে ঐশ্বর্যের সন্ধান পায়। জলে খুঁজে পায় নিজের অস্তিত্ব। জল তার খুবই প্রিয়। বি,এ পাশ করা সেই সাঁতারু ভাল চাকরি করে, কাপ-মেডেলে ঠাঁসা তার ঘর। মেয়েরা তাকে আপন করে পেতে চায়। কিন্তু তার নাগাল পায় না কোনভাবেই। সে যাকে চায় তার শরীর হবে জলের মত গভীর। যেখানে আকণ্ঠ ডুবে যাওয়া যায়। মাঝের মধ্যে সে দেখতে পায় জলকন্যাকে। কিন্তু সেটা কতটা বাস্তব, কতটা কল্পনা সে নিজেও জানে না।
হঠাৎ একদিন ডাঙ্গায় যেন সত্যি সত্যি দেখা পেল জলকন্যার। সত্যিকারের মানুষ রূপে। কিন্তু কী করে দেখা পেল সেই রাজকন্যার? সেটা তো আমি বলব না। এতে উপন্যাসের আসল মজাই নষ্ট হয়ে যাবে।

প্রতিক্রিয়াঃ
“শুধু বেঁচে থাকতে পারলে, কোনও রকমে কেবলমাত্র বেঁচে থাকতে পারলেও জীবনে কত কী যে হয়”- উপন্যাসের এই লাইনটি পড়ে আমি বিস্মিত ও অবাক হয়েছি। এত তাৎপর্যপূর্ণ কথা কীভাবে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এক লাইনে বললেন? আসলেই তো, শুধু বেঁচে থাকলেই আমাদের জীবনে ভালমন্দ কতকিছু যে ঘটে! তবে আমরা ধৈর্য ধরে এর জন্যে কতটুকুই বা অপেক্ষা করতে পারি? তাই বলতে পারি, এই লাইনটি শুধু আমাকে কেন যে কারও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

উপন্যাসটি পড়ে যেকোনো পাঠকের মনে হবে এটি যেন অসাধারণ রূপকথার প্রেমের কাহিনী। পড়তে গিয়ে আমি এর মোহে আবিষ্ট হয়ে ছিলাম। নিঃসন্দেহে বলা যায়, উপন্যাসটি অতি চমৎকার। বিশেষ করে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ভাষার কারুকার্য কোনও ভাবেই উপেক্ষা করার মত নয়। ভাব প্রকাশে লেখক ছিলেন অতি মাত্রায় সাবলীল। বইটির প্রথমদিকে মূল কাহিনীতে প্রবেশের আগে লেখক যেভাবে গল্পের আদলে ভূমিকা টেনে গেছেন তা যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

Facebook Comments