শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > বই আলোচনা > বুক রিভিউ “লস্ট কমরেড” রুম্মান তার্শফিক

বুক রিভিউ “লস্ট কমরেড” রুম্মান তার্শফিক

Spread the love

বইয়ের নামঃ লস্ট কমরেড।
লেখকের নামঃ মাসউদুল হক।
প্রচ্ছদঃ দেওয়ান আতিকুর রহমান।
বইয়ের ধরনঃ উপন্যাস, ফিলোসফিক্যাল উপন্যাস, সামাজিক উপন্যাস, পলিটিকাল ফিকশন।

প্রকাশনীঃ চৈতন্য প্রকাশনী।
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১৮৪
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৩০টাকা

গত চার দশকে অনেক কিছু বদলে গেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম হয়েছে। ইন্টারনেট, মোবাইল আরো কত শত প্রযুক্তি এসেছে। কিন্তু পরিবর্তন হয়নি শুধু কমরেড মুকুলের। সে আগের মতো সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে, এখনো সে ঘুরে বেড়ায় গ্রামে গ্রামে, সমাজের বৈষম্য পরিবর্তন করার লক্ষ্যে। কিন্তু মুকুলের সমাজতান্ত্রিক দল ‘জনমুক্তি পার্টি’ থেকে সে কীভাবে হারিয়ে গেলো? কমল-রুহুল তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী, ওরা তো বেশ আছে সরকারী দলের মন্ত্রী উপমন্ত্রী হয়ে। সমাজতন্ত্র রাজনীতি করে বলে আমরা ভেবে নেবো মুকুলের কোনো পারিবারিক জীবন নেই। কমরেড মুকুলের জীবনে সংসার, প্রিয়তমা ‘বিনু’ এবং একটি কন্যা সন্তান ‘পঙক্তি’ সবই ছিলো। কিন্তু সমাজতন্ত্রের কঠিন বাস্তবতাকে কমরেড মুকুল মেনে নেয় আর ত্যাগ করে তার পারিবারিক মোহ। মুকুলের কি কখনো তার মেয়ে বড় হওয়ার পর মেয়ের সাথে দেখা হয়েছে?
অনির্বাণকে মুকুল ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করে, অনির্বাণেরও মুকুলের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কোনো কমতি ছিলো না। তাহলে কেনো অনির্বাণকেই বিয়ে করে বিনু? বিনু যখন পুরনো ফিদেল কাস্ট্রোর পোশাকের আদলে তৈরি পোশাক পরা মুকুলকে দেখেছে, তখন সে পুরনো দিনের স্মৃতিচারণে হারিয়ে যায় বারবার, কখনো নিজের শৈশব, কখনো নিজের কৈশোর। ফিদেল কাস্ট্রোর সাথে মুকুলের দেখা করতে যাওয়ার কথা ছিলো, মুকুল কি পেরেছে তার আদর্শিক নেতার সাথে দেখা করতে?
কিন্তু ফিদেল কাস্ট্রো মারা যাওয়ার পর তার উদ্দেশ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠান ‘ লাল সালাম’- এ কমরেড মুকুলকে সবাই লাইভে দেখে ভয় পেয়ে যায়, কেউ কেউ অবাক হয়, কারো কারো বিস্ময় প্রকাশের ভাষাও থাকে না। কেনো সবাই কমরেড মুকুলের মতো এমন ত্যাগী নেতাকে নিয়ে এতো বিস্ময় প্রকাশ করছে?

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
মুকুল, বিনু, রুহুল, কমল, অনির্বাণসহ প্রতিটি চরিত্রে লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু স্বভাবতঃ আমরা কল্পনাশ্রয়ী উপন্যাস পড়তে অভ্যস্ত না। কিন্তু পুরো উপন্যাসে কল্পনাকে কেন্দ্র করে বাস্তবিক জীবনকথা এতো স্পষ্ট ছিলো,পড়তে গিয়ে আমার পরিচিত মানুষদের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছি।
পঙক্তিকে এতো কঠোর করে তুলে ধরাটা বাস্তবিক ছিলো, তবে উপন্যাস পড়ে যে আবেগ তৈরি হয়েছে তার সাথে হঠাৎ করে ধাক্কা লাগে, মনে প্রশ্ন জাগে, এমন করেই কি বেঁচে থাকে ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তানরা।
রুহুল-কমল ছিলো আমাদের সমাজের প্রতিচ্ছবি। বিনু আর অনির্বাণরা সমাজের কঠিন শিকল ভেঙ্গে নিজেদের তৈরি করে নতুন সমাজের আশায়। কিন্তু মুকুল? মুকুলরা কি কল্পনাতে থাকে, তাদের সততা নিয়ে। বাস্তবিক জীবনে তারা ব্যর্থ বা লস্ট কমরেড কিন্তু তাদের জীবনে কখনো তারা পরিতাপ অনুভব করে কি?

উপন্যাসটা পড়ে সবচেয়ে যে বিষয়টি ভালো লেগেছে তা হলো, উপন্যাসের শুরু আর শেষের পর্বে একই দৃশ্যপটের মিল রাখা, এটা একজন লেখকের জন্য কষ্টকর। লেখক তার কল্পনার সুন্দর উপস্থাপন করেছেন।

Facebook Comments