Wednesday, January 19, 2022
Home > বই আলোচনা > বুক রিভিউ “ডোম” -রুম্মান তার্শফিক

বুক রিভিউ “ডোম” -রুম্মান তার্শফিক

Spread the love

বইয়ের নাম:ডোম
কবি:গিরিশ গৈরিক
দাম:২০০৳
প্রকাশনী :বেহুলাবাংলা

আমি কবিতার বই খুবই কম পড়ি। কিন্তু এই বইটা খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ছি। কারণ বইয়ের ভিতরের ইলাস্ট্রেশন গুলো। বিখ্যাত শিল্পী kathe kollwitz – এর woman with dead child 1903 এর ছবিটি দিয়ে প্রচ্ছদ করা হয়েছে।

ভিতরে তিনটি পর্বে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
– কবিপর্ব
– গন্ধপর্ব
– সূর্যপর্ব
প্রতিটি পর্বে আলাদা বিখ্যাত পেইন্টিং বা স্থিরচিত্র দিয়ে কবিতার সাথে একটা সমন্বয় করা হয়েছে। এতে কবিতাগুলো আরো বেশি প্রাণবন্ত মনে হয়েছে। সহজ শব্দচয়ন আর ভাষাগত ব্যবহার ছিল পাঠকের বোধগম্য।

কবিপর্ব:
এখানে কবির জীবন আর কবির ডোম হওয়ার শুরু দিয়ে কবিতা উপস্থাপন করা হলেও সমাজের মানুষের বেড়ে ওঠা, একটা মানুষ থেকে অন্য মানুষে পরিণত হওয়া নিয়ে সুন্দর বিশ্লেষণ ছিল।
‘তবে কেমন করে দেহের বাইরে প্রাণ বেঁচে রয়’
এমন লাইনগুলো পাঠককে ভাবাবে তাদের জীবনবোধ ও সাধারণ জীবন যাপন নিয়ে। তারা জীবন – মৃত্যু উপভোগের যে সরলরেখা যাপন করে তা নিয়ে আবার আবার ভাববে নতুন করে।

‘তুমি আমায় উটপাখির মতো ডানা দিলে বটে
তবে কেন দিলে না অসীম আকাশে উড়বার বেদনা।’

ক্ষমতা পাওয়ার শক্তি আছে বা পেয়েছে কিন্তু ব্যবহারের জন্য কোন সাধারণ উপায় যখন মানুষ পায় না তখন যে জীবনবোধের অসহায়তা কত কষ্ট সৃষ্টি করতে পারে তা কবিতায় একটা নেশা সৃষ্টি করবে।

গন্ধপর্ব:
কাফনে আতরে মৃত্যুর গন্ধ কারো ভালো লাগে না, কিন্তু ডোমের নাকে সে গন্ধে কতটা খুশির বা উত্তেজনার সৃষ্টি করে তা কবিতায় চিতার ঘ্রাণের মত উপমায় বুঝতে পারবে পাঠকরা।

‘আমাদের চোখে হাজার বছরের ঘুম
আমাদের শরীরে লক্ষ বছরের ক্লান্তি
আমাদের মনে কোটি কোটি বছরের ঘৃণা’

আমাদের মৃত্যুর পরের স্নান সব ধুয়ে দিবে, আমাদের সকল ক্লান্তি আমাদের জীবনের সকল না পাওয়া। জীবন নামের ঘ্রাণ তখন আর থাকবে না। মৃতের হাসি আমরা দেখি না কিন্তু কবি আমাদের শ্মাশান থেকে পোড়া কাঠের বা কবরের পচা লাশের ঘ্রাণে নতুন জীবনকথার গল্প বলবে।

‘কলেরা সে তো মৃতদেহের উৎসব_আঁধারেরও অতীত।’

আমরা অসুস্থ হলে মৃত্যুভয়ের গন্ধ পাই, সে গন্ধ আমাদেরকে মমত্বময় জীবনের ইতিকালের কথা মনে করায়, তাও আমরা জীবনবোধের নতুন স্বপ্ন নিয়ে মৃত্যু ভুলে যাই।

সূর্যপর্ব:
আমাদের জীবনে আমরা বার বার ফিরে আসি, সূর্যকেন্দ্রিক এই জীবন দিয়ে আমরা মৃত্যু সময় মাপার চেষ্টা করি। কিন্তু ডোমের কাছে রোজ মৃত্যু আসে। সে জন্ম ও মৃত্যু খেলা দেখে শ্মাশানঘাটের অদূরস্থ কোনও বাড়ি থেকে।

‘অথচ আমার চোখে আজ জলের অভাব
তাই মৃত দেহ সম্মুখে রেখে প্রশ্ন করি – আমি কে?’

মহাবিশ্বে আমরা শুধু খুঁজি আমাদের অস্তিত্ব কিন্তু কখনও সেটা খুঁজে পাই না। কোথায় আমরা চারপাশে নিজেরে খুঁজে খুঁজে একটা সময় মৃত্যুপথে হারিয়ে যাই।

‘এমনি করে নবীনের চোখের সামনে স্রোতস্বিনী নদীটি একদিন লাশ হয়ে গেল ‘

আমাদের যৌবন ফুরিয়ে আমরা মৃত্যু লাশ হয়ে যাই। কিন্তু ডোম তখনও তার লাশকাটা টেবিলে লাশ কাটে আর খুনীদের অভিশাপ দিয়ে লাশ বেঁচে থাকে মৃত্যুর শহরের অলিগলিতে।

বিঃদ্রঃ আমি কিছু বিশ্লেষণ করি নি। শুধু পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখেছি।

Facebook Comments