Monday, January 17, 2022
Home > ফিচার > “বিসর্জন” মুভি রিভিউ ।। রেদওয়ান জ্যোতি

“বিসর্জন” মুভি রিভিউ ।। রেদওয়ান জ্যোতি

Spread the love

মুভিঃ বিসর্জন

পরিচালকঃ কৌশিক গাঙ্গুলী
অভিনয়েঃ জয়া আহ্সান, আবীর চ্যাটার্জী, কৌশিক গাঙ্গুলী।

ইছামতী নদী। এপারে বাংলাদেশ ওপারে ভারত। একটা নদী বিভক্ত করে দিয়েছে দুটো দেশ, সংস্কৃতি আর জীবনধারাকে। নাছির উদ্দিনের (আবির) দেশ ভারত। প্রতীমা বিসর্জন দিতে গিয়ে নৌকা উলটে নদীতে পড়ে যায় আর চলে আসে বাংলাদেশের সীমান্তে। কাদামাখা মৃতপ্রায় অবস্থায় তাকে পায় পদ্মা (জয়া আহসান)।
নো ম্যান্স ল্যান্ডের মাঝে ইছামতি নদী।
এপারে বাংলাদেশে পদ্মার বাস,হিন্দুঘরের বিধবা,শ্বশুরকে ফেলে বাপের বাড়ি আসে না।
মাতাল স্বামী ধারেতেও মদ খেত
সমস্থ দেনার দায় মেটানোর ক্ষমতা পদ্মার নেই। তবু সেই ধনকুবের বিধবা পদ্মাকে বিয়ে করতে চায়।
দূর্গোৎসবে বর্ডার খুলে দেওয়া হয়।
দুই দেশের মানুষ আসা যাওয়া করে।

এমনি এক ভাসানে ভেসে আসে ওপার থেকে মুসলমান আবীর।
পদ্মা ঘরে নিয়ে আসে তাঁকে।
শুরু হয় নানান জটিলতা।
শ্বশুর বোবা বলেই কথা বলবে না, এটাই স্বাভাবিক।
সুতরাং ভিন্নদেশীয় পুরুষকে নিয়ে বলার আর কেউ নেই।
কাহিনী অসাধারণ নয়। কিন্তু মানব মনের অনুভূতির যে প্রকাশ, তা অনুভবে তোলপাড় তোলে।
জয়ার অসাধারণ অভিনয়,আবীরকে জয়ার পাশে নিষ্প্রভই লাগে।
লুকটা ভালো ছিল আবীরের ।
আর গান!
কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য।
মানুষটা নেই। তাঁকে শ্রদ্ধা! “বন্ধু তোর লাইগা রে”গানটি বাণের মতো বেঁধে বুকে।
সাদা শাড়ি পরে জয়ার দৌড়ানো,কী বলবো! চোখে জল আসবেই।
শেষে বিসর্জনটা কী বা কতোখানি!
দেখেন।
কথা দিচ্ছি, ভাল লাগবেই।
মেকাপ, সাউন্ড-এর ভাল কাজের জন্য ছবিগুলো সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠে।
আমাদের মেরিলিন মনরো নেই, বিদ্যা বালানও নেই,আছে জয়া আহ্সান। তাঁর ব্যপ্তি আমাদের দেশেও কামনা করি।
“বিসর্জন “জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ছবি।
জয়া ওদেশের নাগরিক নয় বলে, তাঁর নাম প্রস্তাব হওয়া সত্ত্বেও সিপিএম-এর বিরোধিতায় বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ওখানকার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল তাঁকে পুরস্কারে সম্মানিত করে।
আমার জানতে ইচ্ছে করে, পাকিস্থানের বেশ কিছু শিল্পী ভারতে কাজ করেন। তাঁরা কি জাতীয় চলচিত্র পান না?

আমার দেওয়া মুভি রেটিংঃ ৭.৫/১০

Facebook Comments