Monday, January 17, 2022
Home > Uncategorized > বিশ্ব এখন নতুন এক আতংকে

বিশ্ব এখন নতুন এক আতংকে

Spread the love

মো. আবদুল জলিল : পারমাণবিক অস্ত্রের আঘাতে যেকোন সময়ে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে পুরো পৃথিবী। বর্তমানে বিশ্বে যে পরিমাণ পরমাণু বোমা মজুদ আছে তা দিয়ে গোটা বিশ্বকে ৩৮ বার পুরোপুরি ধ্বংস করা যাবে বলে জানিয়েছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসইপিআরআই)।
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকার নিক্ষিপ্ত দু’টি আণবিক বোমার বিস্ফোরণে জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকি শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। লিটল বয় এবং ফ্যাট ম্যান নামক বোমা দু’টির আঘাতে তাৎক্ষণিকভাবে মারা যায় প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার মানুষ এবং আয়নাইজিংয়ের ফলে ধীরে ধীরে আরো অসংখ্য মানুষ মারা যায়। ৭২ বছর পূর্বের লিটল বয় এবং ফ্যাট ম্যানরা এখন হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী ও ধ্বংসআত্মক। আর তাদের সংখ্যাও অনেক বেশি। তাইতো সাড়ে সাতশ’ কোটি মানুষের আবাস একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবী আজ তার বুকে আশ্রিত প্রাণিকূলসহ ধ্বংসের আশংকায় আর্তনাদ করছে। কিন্তু সে আর্তনাদ কি শুনতে পাচ্ছেন ভায়াবহ অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত বিশ্ব মোড়ল দেশগুলোর ক্ষমতাধররা?
বিগত ২৬ অক্টোবর ২০১৭ সামরিক মহড়া চলাকালে এক ভয়ংকর শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় রাশিয়া। শয়তান-২ বা আরএস-২৮ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্র হিরোশিমায় নিক্ষেপিত মার্কিন আণবিক বোমার চেয়ে হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। আকাশে ৩ হাজার ৮শ’ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ৪০ মেগাটন ক্ষমতাসম্পন্ন এ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ১২টি নিউক্লিয়ার ওয়্যারহেড যুক্ত করা সম্ভব। পুরো যুক্তরাজ্য, টেক্সাস অথবা ফ্রান্স ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এই বোমার আঘাতে।
এর আগে বিগত ২০ অক্টোবর ওয়াশিংটন পোস্টে অ্যানা ফিল্ড’র ‘পারমাণবিক বোমার ৬টি পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের পর উত্তর কোরিয়ার পাহাড় ক্লান্ত’ শীর্ষক অনলাইন প্রতিবেদনে বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ৭২০০ ফুট উচ্চতার চূড়া বিশিষ্ট ম্যানটাপ পাহাড়ের নিচে উত্তর কোরিয়া অনেকগুলো পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এতে ম্যানটাপ পাহাড়টি ‘ক্লান্ত পাহাড় উপসর্গে’ আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-কম্পনবিদ পল জি. বলেন, ‘রিচার্ডস সর্বশেষ পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর থেকে পাহাড়টিকে স্থানচ্যূত মনে হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে দেশেটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৬.৯ মাত্রার ভূকম্পণ রেকর্ড করা হয়। এরপর ঐ এলাকায় আরো ৩টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আমরা উত্তর কোরিয়ার ভূমিতে একটা পরিবর্তন লক্ষ করছি।’
একটি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণে এত বড় মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি হলো। ৬টি পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণে উত্তর কোরিয়ার ৭২০০ ফুট উচ্চতার বিশাল ম্যানটাপ পাহাড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এ ধরনের আরো বিস্ফোরণে এ পাহাড়টি ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কী দানবীয় শক্তি ছিলো বিস্ফোরক ছয়টির। পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংস ক্ষমতা যে কত ভয়াবহ তা অনুমান করা অত্যন্ত কঠিন।
পারমাণবিক অস্ত্র এমন এক ধরনের যন্ত্র যা নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার ফলে প্রাপ্ত প্রচন্ড শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করে। সে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া ফিসানের ফলে অথবা ফিসান ও ফিউশান উভয়েরই সংমিশ্রণেও সংঘটিত হতে পারে। উভয় বিক্রিয়ার কারণেই খুবই অল্প পরিমাণ পদার্থ থেকে বিশাল পরিমাণে শক্তি নির্গত হয়। ফিসান আধুনিক এক হাজার কিলোগ্রামের একটি থার্মো-নিউক্লিয়ার অস্ত্রের বিস্ফোরণ ক্ষমতা প্রচলিত প্রায় এক বিলিয়ন কিলোগ্রামের প্রচÐ বিস্ফোরক দ্রব্যের চেয়েও বেশি। এভাবেই শুধুমাত্র প্রচলিত বোমার সমান আকারেই একটি পারমাণবিক বোমা দ্বারাই একটি শহরকে ধ্বংস করে দেয়া যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকি শহরে দু’টি আণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় আমেরিকা। লিটল বয় নামের প্রথম বোমাটি ৬ আগস্ট ১৯৪৫ সালে হিরোশিমাতে এবং ফ্যাট ম্যান নামক দ্বিতীয় বোমাটি তিনদিন পর জাপানের নাগাসাকিতে নিক্ষেপ করা হয়। ২৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধ, ১০ ফুট দৈর্ঘ আর ৯,৭০০ পাউন্ড ওজনের লিটল বয়ের মধ্যে ইউরিনিয়াম জ্বালানি ছিল মাত্র ১৪০ পাউন্ড। লিটল বয়ের বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল ১৫,০০ টন টিএনটি সমতুল্য। আর ৬০ ইঞ্চি ব্যাসার্ধ, ১০ ফুট ৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ আর ১০,৮০০ পাউন্ড ওজনের ফ্যাট ম্যানের মধ্যে প্লুটোনিয়াম জ্বালানি ছিল মাত্র ১৩.৬ পাউন্ড। লিটল বয়ের বিস্ফোরণ ক্ষমতা ছিল ২১,০০০ টন টিএনটি সমতুল্য। এ বিস্ফোরণ দু’টির ফলাফল ছিল ভয়াবহ।
হিরোশিমা ও নাগাসাকির সেই বিস্ফোরণের পরেও এখন পর্যন্ত আরও পাঁচ শতাধিকবার পরীক্ষামূলকভাবে এবং প্রদর্শনের জন্য এ বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। বর্তমানে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং মজুদ রয়েছে এমন দেশগুলো হল- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত ও পাকিস্তান। এছাড়া এটা ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, উত্তর কোরিয়া, ইসরাইলেও পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।
জুলাই ৩, ২০১৭ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়েচভেলে বলেছে, বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে বর্তমানে ১৪,৯৩৫টি আণবিক বোমা আছে।
রাশিয়ার কাছে সবচেয়ে বেশি: স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইন্সটিটিউট সিপ্রি’র তথ্য অনুসারে রাশিয়ার কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আণবিক বোমা রয়েছে। দেশটিতে এ ধরনের বোমার সংখ্যা সাত হাজার। ১৯৪৯ সালে সেদেশ প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা করে রাশিয়া।
দ্বিতীয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক বোমা বানিয়েছে এবং একমাত্র দেশ যারা এটা যুদ্ধে ব্যবহারও করেছে। দেশটির কাছে এখন ৬,৮০০টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে।
ফ্রান্সের পারমাণবিক বোমা: ফ্রান্সের কাছে পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে তিনশ’র মতো। এগুলোর অধিকাংশই রয়েছে সাবমেরিনে। দেশটির অন্তত একটি সাবমেরিন সবসময় পারমাণবিক বোমা নিয়ে টহল দেয়।
চীনও পিছিয়ে নেই: ২৭০টি পারমাণবিক বোমা আছে চীনের। রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সংখ্যাটা কম হলেও দেশটি ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়াচ্ছে। স্থল, আকাশ বা সমুদ্রপথে এসব বোমা ছোঁড়া সম্ভব।
যুক্তরাজ্যেরও আছে পারমাণবিক বোমা: ২১৫টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে যুক্তরাজ্যের কাছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এই দেশটি ১৯৫২ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়।
দক্ষিণ এশিয়ায় এগিয়ে পাকিস্তান: ইতোমধ্যে তিনবার প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে পাকিন্তান। দেশটির আছে ১৩০ থেকে ১৪০টি আণবিক বোমা। সা¤প্রতিক সময়ে পারমাণবিক বোমার সংখ্যা বাড়িয়েছে দেশটি। অনেকে আশঙ্কা করেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে দেশটির লড়াই কোন এক সময় পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
থেমে নেই ভারত: ভারত প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ১৯৭৪ সালে। দেশটির কাছে আণবিক বোমার সংখ্যা ১২০ থেকে ১৩০টি। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, তারা আগে কোনো দেশকে আঘাত করবে না, আর যেসব দেশের পারমাণবিক বোমা নেই, সেসব দেশের বিরুদ্ধে তারা এ ধরনের বোমা ব্যবহার করবে না কোনো দিন।
ইসরায়েল সম্পর্কে তথ্য কম: ইসরায়েল অবশ্য নিজের দেশের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে তেমন কিছু জনসমক্ষে প্রকাশ করে না। দেশটির আশিটির মতো পারমাণবিক ‘ওয়ারহেড’ আছে বলে ধারণা করা হয়।
উত্তর কোরিয়া: এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ থেকে ২০টির মতো পারমাণবিক বোমা রয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক আর্ম কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে বর্তমানে যে পরমাণু অস্ত্র মজুদ রয়েছে তার বেশির ভাগ দু’টি দেশের হাতে রয়েছে। বিশ্বের ৯৩ শতাংশ পারমাণবিক অস্ত্র এই দুই দেশের হাতে রয়েছে। এ দেশ দু’টি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। এর মধ্যে ১০ হাজার অস্ত্র সেনাবাহিনীর কাছে কার্যোপযোগী অবস্থায় আছে।
পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার চেষ্টায় চলতি বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস- আইসিএএন। বিশ্বের ১০১টি দেশের ৪৬৮টি বেসরকারি সংগঠনের আন্তর্জাতিক মোর্চা আইসিএএন যাত্রা শুরু করে ২০০৭ সালে। এই জোটের সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। নরওয়ের নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান বেরিত রাইস আন্দারসেন গত ৬ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার যে বিশ্বে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে, সে বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করার পাশাপাশি এ ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় আইসিএএন-কে নোবেল দেওয়া হচ্ছে। আইসিএএন-এর চেষ্টা ও চাপে গত জুলাই মাসে জাতিসংঘের ১২২টি সদস্য দেশ পরমাণু অস্ত্র নিরোধ চুক্তির পক্ষে সমর্থন দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়াসহ পারমাণবিক অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত নয়টি দেশ তাতে সাড়া দেয়নি।
ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপনস (আইসিএএন)-এর দেয়া তথ্যানুসারে, আরো প্রায় ৪০টি দেশ ক্রমাগত পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলো এখনো নতুন নতুন পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে এবং অন্য যেসব রাষ্ট্র এই বোমা বানানোর চেষ্টা করছে তাদের নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।
কিন্তু মানবিকতা বিবর্জিত রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি আর টালমাটাল বিশ্ব পরিস্থিতিতে কত দিন এভাবে এই পৃথিবীকে ১৬ হাজার পরমাণু বোমার হাত থেকে রক্ষা করা যাবে, সেটাই প্রশ্ন। টেলিগ্রাফের একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্মিলিতভাবে যে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে তার ধ্বংস ক্ষমতা ছয় হাজার ৬০০ মেগাটন। সারা বিশ্ব প্রতি মিনিটে যে পরিমাণ সৌরশক্তি গ্রহণ করে তার ১০ ভাগের এক ভাগ রয়েছে ওই পারমাণবিক অস্ত্রের। নিউকম্যাপ ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, মার্কিন অস্ত্রাগারে সবচেয়ে ক্ষমতাসম্পন্ন বৃহৎ যে বোমা তার নাম বি-৮৩। এটি প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ১৪ লাখ লোক হত্যার ক্ষমতা রাখে। এ ছাড়া তাপ বিকিরণে আহত হবে ৩৭ লাখ মানুষ। এই বোমার বিকিরণ ছড়াবে ১৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধজুড়ে। অনুরূপভাবে রাশিয়ার সর্ববৃহৎ টাসার বোমা যেটি ইউএসএসআর নামে পরিচিত। এটি নিউ ইয়র্কে আঘাত হানতে সক্ষম। ধারণা করা হয়, এটি ৭৬ লাখ মানুষ হত্যা করতে পারে এবং ৪২ লাখেরও বেশি মানুষকে আহত করতে সক্ষম। এটি বিকিরণ ছড়াবে প্রায় সাত হাজার ৮৮০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে; যার প্রভাব পড়বে কোটি কোটি মানুষের ওপর।
ধ্বংসের আশঙ্কায় কম্পমান পৃথিবীকে, পৃথিবীর সকল প্রাণী ও বনি আদমকে বাঁচাতে হলে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। বিশেষকরে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্ধ করতে হবে। পারমাণবিক শক্তিধর সকল দেশেকে পরমাণু অস্ত্র নিরোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করতে হবে পরিমাণবিক অস্ত্রের সকল মজুদ। গড়ে তুলতে হবে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব ।
লেখক: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

Facebook Comments