Monday, January 17, 2022
Home > Uncategorized > বলাহক : মাহবুব আলম কাউসার

বলাহক : মাহবুব আলম কাউসার

Spread the love

মাহবুব আলম কাউসার :
ইউসুফের ঠাণ্ডা লেগেছে, ভয়াবহ ঠাণ্ডা। ঠাণ্ডায় তার নাক বন্ধ হয়ে আছে। তার নিঃশ্বাস নিতেও হচ্ছে মুখ দিয়ে, ফেলতেও হচ্ছে মুখ দিয়ে। এটা এক মহা বিরক্তিকর ব্যাপার। বিছানার এক কোণায় বসে যখন অফিসে যাওয়ার জন্য ইউসুফ পায়ে মোজা পড়ছিলেন, ঠিক তখনি শায়ান পেছন থেকে ইউসুফের গলা জড়িয়ে ধরে বললো, শুভ সকাল আব্বু!
ইউসুফ ছেলেকে কোলে নিয়ে চাপা হেসে বললেন, শুভ সকাল বাবা।
শায়ান বলল, আব্বু আজ আমরা কোথায় ঘুরতে যাবো?
ইউসুফ বললেন, আমিতো এখন অফিসে যাচ্ছি বাবা! কাল তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবো, কেমন?
শায়ান ঠোঁট উল্টে বলল, কাল তুমি অফিস থেকে ফিরেই বলেছিলে আজ ঘুরতে যাবে। তুমি ভুলে গেছ, আমি কিন্তু ভুলি নি!
ইউসুফের মনে পড়ে গেল গতকাল রাতের কথা। অফিস থেকে ফিরে সত্যি সত্যিই সে এই কথা বলেছিলো, কিন্তু সেটা কেবল ছেলেকে শান্ত করাবার জন্য। গতকাল রাতের বেলা ছেলেটা ঘুরবার জন্য একেবারেই পাগল হয়ে গিয়েছিলো। এত রাতে সে তাকে কোথায় ঘুরতে নিয়ে যাবে? বাধ্য হয়েই তাকে মিথ্যা বলতে হয়েছিলো। কিন্তু এখন সে কি করবে? তার এই ছেলেকে বোঝ দিয়ে রাখাটা সহজ কথা নয়!
ইউসুফ চাপা হেসে বললেন, কাল তোমায় সত্যি নিয়ে যাবো, একদম সত্যি।
শায়ান মুখ কালো করে বলল, তোমার একদম সত্যি নিয়ে তুমি বসে থাকো। তোমার যাওয়া লাগবে না, আমি একাই যাবো।
ইউসুফ অবাক হয়ে বললেন, একা তুমি কোথায় যাবে?
শায়ান কোনো জবাব দিলো না। সে বাবার কোল থেকে নেমে গেল। ইউসুফ নিশ্চিৎ জানে সে এখন হাতের নাগালে যাই পাবে, তাই সে ভাঙবে। কিছু একটা না ভাঙতে পারলে চিৎকার চেচামেচি করে পুরো বাড়ি সে মাথায় তুলবে। তার রাগ যেন তেন রাগ নয়। এই রাগ সামলানো ভয়াবহ ব্যাপার।
ইউসুফ তাড়াহুরো করে মোজা পড়লেন। তারপর ছেলের কাছে যাওয়ার আগেই, ছেলে তার কাণ্ড ঘটিয়ে ফেললো। টেবিলে রাখা এ্যকুরিয়াম ফ্লোরে ফেলে দু’টুকরা করে ফেললো। তারপর পেছন ফিরে সে বাবার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললো। ইউসুফ বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো। তার এই ছেলেকে নিয়ে সে খুব শঙ্কার ভেতর থাকে। এই ছেলে কথন কি করে বসে কিছুই বলা যায় না। ইউসুফ জানে ক্ষাণিক পর এই এ্যকুরিয়ামের জন্যই সে কেঁদে বুক ভাসিয়ে ফেলবে। কারণ, এই এ্যকুরিয়ামটা শায়ান নিজেই তাকে নিয়ে শখ করে কাঁটাবন থেকে কিনে নিয়ে এসেছিলো।আর সেই এ্যকুরিয়ামে রাখার জন্য সে নিজেই দুটা গোল্ডফিশ আর দুটা ক্যাট ফিশ নিয়ে এসেছিলো। এখন সেই মাছগুলো মাটিতে তিড়িং বিড়িং করে লাফাবে আর শায়ান সেই দৃশ্য দেখে আনন্দে লাফাবে, তা কখনোই হবে না!

কিন্তু ঘটনা ঘটলো ঠিক তার উল্টো। শব্দ শুনে জুলেখা দৌড়ে যখন ছেলের কাছে ছুটে আসলেন, তখন দেখলেন ছেলে এ্যকুরিয়াম ভেঙে মুগ্ধ হয়ে মাছগুলোর তিড়িং বিড়িং লাফানোর দৃশ্য দেখছে। এই সুযোগে ইউসুফ অফিসে বেরিয়ে গেলো।
জুলেখা আদুরে গলায় বললেন, তোমার নুডুলসটা তো খেয়ে শেষ করলে না বাবা! নাও, এখন শেষ করো।
জুলেখার আর কষ্ট করতে হলো না। মাছগুলো যতক্ষণ জীবিত ছিলো ততোক্ষণ সে কোনোরকম ঝামেলা করে নি। শায়ান তার পছন্দের নুডুলস পুরো বাটি শেষ করে ফেলেছে। মাছগুলো যখন লাফানো বন্ধ করে দিলো, বেচারার মুখ সঙ্গে সঙ্গে ঘোর অন্ধকার হয়ে গেল। শায়ান ঠোঁট উল্টে বললো, আম্মু আম্মু, আমার মাছ! আমার মাছ!
জুলেখা কোনো কথা বললেন না। এখন কথা বললেই শায়ান পুরো বাড়ি মাথায় তুলবে।
জুলেখা ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলেন। ছেলেকে সঙ্গ দেওয়া মানে এখন ভয়াবহ বিপদ! সে তার মরা মাছের চিকিৎসা করতে থাকুক…

ধারাবাহিক উপন্যাস বলাহক পর্ব-১ ।। মাহবুব আলম কাউসার

-আর.টি

Facebook Comments