Monday, January 17, 2022
Home > বই আলোচনা > বই পর্যালোচনাঃ ( মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই) হুমায়ূন আহমেদ

বই পর্যালোচনাঃ ( মৃন্ময়ীর মন ভালো নেই) হুমায়ূন আহমেদ

Spread the love

বই পর্যালোচনা ঃ তারিক বাপ্পি
মৃণ্ময়ীর মন ভালো নেই।
হুমায়ূন আহমেদ।

বইটি কাকলী প্রকাশনী থেকে ২০০৬ সাথে প্রথম প্রকাশিত হয়।এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১২। দাম ১০০ টাকা।
এটি একটি প্রেমের উপন্যাস।

রেটিং:৮|১০

মানুষ তিন বেলা খায়।মৃণ্ময়ীর দাদা আলিমুর রহমান তিন বেলা খেতে পারেন না,এ নিয়ে তাকে খুব বিচলিত হতেও দেখা যায় না।কারণ তিনি তা পুষিয়ে নেন মৃণ্ময়ীর বাবা শাহেদুর রহমানকে বিভিন্ন কায়দায় গালি দিয়ে দিয়ে।শাহেদুর রহমানের মতো সাদাসিধা একজন মানুষ, যার প্রধান কাজ সারাদিন বই পড়া আর ছবি সংগ্রহ করা তার উপর তার বাবার কেন এতো রাগ?একজন বাবা তার ছেলের উপর এতো বিরক্ত,তার তো অবশ্যই একটা যৌক্তিকতা থাকবে তাইনা?কি সেই যুক্তি?

মৃণ্ময়ী তার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী ছন্দাকে নিয়ে একরকম চোর পুলিশ খেলা শুরু করেছে এবং এই খেলায় সে খুব মজা পাচ্ছে।মানসিক এক দুর্বলতার কারনে ছন্দা বারবার মৃণ্ময়ীর পাতা টোপ গিলে ফেলছে।কি সেই মানসিক দুর্বলতাটা? এদিকে ছন্দার বাবা ইয়াকুব আলি তার তিনটা মেয়ে থাকা সত্ত্বেও ছোটো মেয়ে ছন্দার বান্ধবী মৃন্ময়ীকে অসম্ভব রকম পছন্দ করেন।তিনি ঠিক করেছেন গ্রামের বাড়ির সব জায়গাজমি বিক্রি করে হলেও তিনি মৃন্ময়ীর বিয়েতে সোনার কিছু একটা উপহার দিবেন।এখন কথা হচ্ছে তার এই ভালবাসার উৎসটা আসলে কোথায়?

ছন্দার এইসব উদ্ভট আচরনে সবচেয়ে যে ব্যক্তিটি বেশি অবাক সে হচ্ছে ছন্দাদের বাড়ির কাজের মেয়ে বিন্তি।অসম্ভব রূপবতী এই কাজের মেয়ের নামে ছন্দার দাদা ছন্দাদের এই বাড়িটা লিখে দিয়েছেন।এখন ছন্দাদের কি হবে? ব্যাংকেও তাদের কোনো টাকা নেই!থাকার জায়গাটাও এখন কাজের মেয়ের নামে!তাহলে ছন্দারা এখন যাবে কোথায়?তাদের চলবে কিভাবে?

ছবির কারিগর জহির নানান ব্যস্ততার মাঝেও ফজলুর খোঁজখবর নিতে ভোলে না।জহিরের বোন মীনা তার স্বামী আর শিশুকন্যা টুনটুনি কে নিয়ে বেড়াতে এসেছে জহিরের কাছে।অবশ্য এটাকে বেড়ানো বলা ঠিক হচ্ছে না।কেন ঠিক হচ্ছেনা? এদিকে নিজের ই চালচুলা নেই তার উপর তিনজন অতিরিক্ত মানুষ জহিরের ঘাড়ে সিন্দাবাদের ভুত হয়ে চেপে বসেছে! এই চাপ জহির সামলাবে কিভাবে? সে কি ফজলুর মতো ভিক্ষা করবে?এভাবে গল্প যখন হাসি আর ঠাট্টার অলিগলি পেরিয়ে এগিয়ে ছলছে তখন মীনা সব অলিগলির মুখ একবারেই বন্ধ করে দিলো দুঃখের চাটাই দিয়ে!কি করেছিল মীনা?

এমন অসংখ্য প্রশ্নের জবাব মিলবে বইটাতে।তারচেয়ে বড়কথা বইটার এমন একটা নাম কেন রাখা হল,তা জানতে হলেই বইটা আপনাকে পড়তে হবে।

মতামতঃবইটা পড়ার সময় আমার কাছে মনে হচ্ছিল বইটার নাম ভালবাসার তিন রঙ হলে মন্দ হত না।জহির,মৃন্ময়ী, ছন্দা,মীনা, ইয়াকুব এইসব চরিত্রের সাথে হুমায়ূন ভক্তরা পরিচিত। তারপরেও তিনি এই গল্পে চরিত্রে কিছুটা ভিন্নতা দিতে পেরেছেন। এই গল্পে বিন্তি বাদে কাজের মহিলাদের মজার মজার কাণ্ডকারখানাগুলির যে শূন্যতা তা মীনা আর মৃন্ময়ীদের ম্যানেজার পুষিয়ে দিয়েছে।তবে শেষ দিকে মীনা যে কাজটা করেছে তা পাঠকের মনে দাগ কাটবেই।

Facebook Comments