শুক্রবার, ডিসেম্বর ৯, ২০২২
Home > ফিচার > পাঠ প্রতিক্রিয়া

পাঠ প্রতিক্রিয়া

Spread the love

কাউসার মাহমুদ :  বিগত দিন কয়েক যাবত টানা কয়েকটা মৌলিক গ্রন্থ পড়লাম।এরমধ্যে উল্লেখ করে বললে প্রমথ চৌধুরীর “প্রবন্ধ সংগ্রহ “।এখনও পড়ছি বইটা।কি অপূর্ব আলোচনা। সমালোচনা যে এতোটা রসালো আর ধারালো হয় তা পড়ুয়া ব্যক্তিই অনুধাবন করতে পারে।শুরু থেকে সব।কথা ধরে কথা।পূর্বাপর সবটা টেনে এনেই মানুষটা যৌক্তিক ও নান্দনিক আলোচনায় উপস্থাপন করেন তার সমালোচনা। কোনও উদহারণ দিচ্ছিনে এখানে। তাই ভাবাবেগটাই প্রকাশ করছি আপাতত। তার লিপিকৌশলে পরিপ্লুত হতে হবে পাঠককে।আলোচনা ক্ষেত্র বিশেষ নিরস ঠেকাটাই স্বাভাবিক ছিলো।কিন্তু নিরসকে সরস করে চোখের বুদবুদিতে লাগিয়ে দিতে পারে কয়জন সমালোচক! বারবার পড়ে পড়ে আত্মস্থ করার সাধ জাগে যার গদ্যের প্রতিটা লাইন।ভাষার আবেদনে কতটুকুন ঔজ্জ্বল্য আসলে পরে বই বন্ধ করে ভাবতে হয়! ভাববেননা তাকে নিয়ে লিখছি।এসব পুরনো।প্রমথ চৌধুরীকে নিয়ে অত বলবার কিছুই নেই। মোটা মোটা পুস্তক রচনা হয়েছে তার উপর।তার প্রত্যেকটা প্রবন্ধ গুনি সমালোচকদের দৈনন্দিন খোরাক মনে হয় আমার কাছে।সেখানে আমি লেখবার কে? ১৮৬৮-র ৭ আগস্ট জন্ম নিয়ে ২সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ এ পরলোকগত হওয়ার পর।আজ ২০১৮-র ৮ মার্চ প্রমথকে প্রচন্ডভাবে ঈর্ষা করছে যে তরুণ সে আমি। হয়তবা ৪৬থেকে ২০১৮, এ দীর্ঘ সময়ে অনেকেই তাকে ঈর্ষা করে এসেছেন।কিন্তু আমার ব্যাপারটা একদমই ভিন্ন।এ ঈর্ষা শ্রদ্ধার।তার গদ্যপাঠে লেখার প্রতি যে ভালোবাসা জাগে সেটির। ভাষা সাহিত্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, অদ্ভূত রকমের উপস্থাপনশৈলী এবং সর্বোপরি মার্জিত সমালোচনা করে যে বাক্ তিনি তৈয়ার করেছেন।প্রবন্ধকে বাঙলা সাহিত্যের অমর ও দৃঢ়-শক্তিশালী অনুষঙ্গে দাঁড় করিয়ে যাওয়াটা প্রমথ চৌধুরী বলেই প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। বাঙলা সাহিত্যের পন্ডিতি সাধুভাষার যে অহম ছিল।ভাবটা এমন ছিল যে, চলিত ভাষা তাদের কাছে অস্পৃশ্য। সে অহম ভেঙ্গে টুকরোটুকরো করে চলিত ভাষার ব্যবহারে যে পূর্ণ সফলতা অর্জন করেছিলেন তিনিই ‘প্রমথ ‘।চলিত ভাষাকে সাহিত্যের বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথিকৃত তিনিই। সে হিসেবে তাকে পাঠ করার পর ভেতরেও একরকম ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। অবচেতনেই জেগে ওঠে বিস্তর আকাঙ্খা।মনে হয় আমাদের জীবন একটা স্রোত। সেখানে নিরন্তর প্রবাহিত হই আমরা।কিছু শেখা নতুন কিছু অর্জনে আরো ব্যাপৃত হওয়া চাই।জ্ঞানের প্রার্চুযতা একটা স্হির প্রতিকৃতি হয়ে যদি দাঁড়ায়।তাহলে কতটুকু হবে?এর ছায়াটাই বা কতদূর গিয়ে পৌঁছবে!সে ছায়া’র একাংশে আশ্রিত হতে পারাটাই পরম সৌভাগ্য বলে মনে হয়। বলছিলাম জীবনের কথা।যেটা স্রোতের মতন। আমরা নিত্য ভাসতে থাকি তার জোয়ার-ভাটায়।কখনও বর্ষার ভরা জল থৈ থৈ মনে হয় জীবনের একেকটা প্রবাহ।কখনওবা চৈত্রের দাবদাহে শুকিয়ে যাওয়া কুয়ো হয়ে পড়ে জীবনের খড়স্রোতা এ নদী।তারপরও আমরা কিছু একটা হয়ে ভাসি।ভাসতে থাকি।ব্যক্তিগতভাবে আমার জীবনকে উপলক্ষ করে অন্তত এমনটা বলা যায়।সেখান থেকেই অনুভবের শার্সি ভেঙ্গে ছড়িয়ে পরে অপরাপর জীবন বিশ্লেষণে।পইপই করে শার্সিতে ভেসে ওঠে স্রোতের একেকটা প্রতিবিম্ব। এসব প্রতিবিম্ব ছবি। ছবিতে ধরা পরে অর্জন-বিসর্জন। সুখ-নিরানন্দ,মোহ, হতাশা।এমনই জীবনের সকল কিছু যখন বিভিন্ন রকম ও ভিন্ন প্রকারে আসে। তখন দু’অবস্হা হয় আমাদের। কখনও বিপুল সোৎসাহে যেটা ধরার বা পাওয়ার সেটাকে খামচে ধরি কিম্বা ছিনিয়ে নিই।ঠিক তেমনিই যেটা কষ্ট বা খারাপ হয়ে আসে তার জন্য মুষড়ে পরি। ভেঙ্গে যাই। একদম মিইয়ে যাই। পারিনা বা পারছিনা বলে সব ছেড়েছুড়ে নিজেকে সর্বস্বহারা ভেবে তিলক এঁটে দিই মনের চারকোণে।আমাকে দিয়ে হবেনা এসব। (যেহেতু আমরা লিখি বা লিখতে চাই আর প্রথমে প্রমথ চৌধুরীকে নিয়েই কথা শুরু করেছিলেম।তাই লেখার উদহারণ টেনেই শেষ করছি) মৌলিক, মানসম্মত, এবং সুনিপুণ কালোত্তীর্ণ কিছু লেখা আমার দ্বারা সম্ভব নয়। অমরসৃষ্টি তো দূর কি বাত সাহিত্যমানে উতরে যাবে এমন লেখাই তো লিখতে পারিনে!? এসব ভাবনা একদম অযৌক্তিক এবং অবান্তর। আমি বলবো এগুলো নিরর্থ কথার মতোই অপাংক্তেয় ভাবনা।পারিনা বলে চুপসে যাওয়া মানে এক যুগ পিছিয়ে যাওয়া।যে কেউ যা কিছু করুক।স্বপ্নটা যেন মজবুত আর পরিশ্রমী হয়। ঐযে বলে এলাম “জীবন একটা স্রোত। যেখানে আমরা নিরন্তর প্রবাহিত হই”। যে প্রবাহটা থাকবে একদম শেষ দম পর্যন্ত। এখান থেকেই আমাদের স্হির করতে হবে আমি কে?কি হতে চাই!ব্যস! এবার এগোও। যতোটা পারো এগোও।পরিশ্রম করে করে শেষটা দিয়ে এগোতে থাকো। আমি লিখতে চাই।তো পড়ো আর লিখো। তীর্যক কথা একদিন হর্ষ্রধ্বনি হয়ে আসবে নিশ্চিত। …

Facebook Comments