বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২
Home > বই আলোচনা > “পাঠ প্রতিক্রিয়া” দাদারাজ্যে যাবার পথে

“পাঠ প্রতিক্রিয়া” দাদারাজ্যে যাবার পথে

Spread the love
রিভিউ লেখক
 প্রচ্ছদের চৌম্বকীয় আকর্ষনেই  যেসব বই পাঠক হাতে তুলে নেন, এটি সেরকম একটি বই। ছায়া ছায়া ছাই রঙের জমিনের ওপর এক  শৈল্পিক দ্যোতনায় কালো পিচঢালা পথ ‘ রস্ব ই ‘ র মাথার মত ফুটে রয়েছে তুলির একটানা প্যাঁচানো আঁচড়ে। উপন্যাস নয় বরং  বইটি একটি ভ্রমণের আখ্যান। কিন্ত ভাষাসৌকর্য, বর্ণনাভঙ্গি, নদীর মত কলকল বয়ে যাওয়া ভ্রমণের গল্প ও বৃত্তান্ত –  সবমিলিয়ে জীবন্ত উপন্যাস পাঠের  চেয়ে কম মনে হয় না ! এখানেই মূলত মুনশির কলমের মুনশিয়ানা। সাধারণ আলেখ্যগুলোও তার কলমে পায় শিল্পের ছোঁয়া, স্পর্শ করে সাহিত্যের অনন্য মাত্রা। তার মুক্তগদ্যেও দেখতে পাই একটা লিরিক্যাল ভাব।
৫২ পৃষ্ঠার এই বইটি অশান্তচিত্ত কোন পাঠককেও একচুমুকে পড়ে শেষ করতে বাধ্য করবে।
লেখালেখির সূত্রে বাংলাদেশে থাকাকালীনই ভারতের বাঙালি ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক শ্রীমান হরপ্রসাদ রায়ের সাথে লেখকের আলাপ।  লেখক সম্পাদিত লিটলম্যাগ
 ‘ প্রতিভাস ‘ এ লেখা দেন তিনি। অধ্যাপক হরপ্রসাদ দা বাস করেছেন ভারতের রাজস্থানের যোধপুরে। বছরখানেক আগের এই ভ্রমণের গল্প। বলা যায় বেড়ানোর গল্প।
লেখক যখন ভারতের বিশ্বখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপীঠ  দারুল উলুম দেওবন্দে অধ্যয়নরত। দাদার সাথে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে, দাদা লেখককে দাওয়াত করেন যোধপুর আসার জন্য। এটাসেটা নানান ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে আসি আসি করে করে দেড় বছর ভারতে কেটে গেলেও  দাদার সাথে মেলার ফুরসত হয়ে ওঠে না। দাদা অভিমান করে একদিন বলেন ‘ আগের মতো আর
দা’ কে মনে পড়ছে না তোমার ‘
এরপর কি  আর বসে থাকা যায়!
লেখক ঈদের ছুটিতেই তল্পি গুছিয়ে পা আগান  দাদারাজ্যে যাবার পথে।
দিল্লি রেলস্টেশন থেকে বর্ণনার শুরু – যেন লেখকের সাথে আমরাও ভ্রমণের সঙ্গী, তার প্রতিমুহূর্তর বর্ণনা, বিচিত্র কার্যকালাপ যেন আমরাই সাথে বসে দেখছি।  পথের পর পথ, স্টেশন, স্থান,  মানুষ, পরিবেশ, ইতিহাস ঐতিহ্য ,  লেখকের সামনে দিয়ে যাওয়া গল্প,দৃশ্য, চিন্তাভাবনা সবকিছু সাবলীল ছন্দে প্রকাশ করে চলছেন তিনি।
পুরো বইটা পড়ে মনে হয়, আমিই যেন দিল্লি থেকে রাজস্থানের এক্সপ্রেস ট্রেনে সফর করলাম,  অধ্যাপক ও ভাষাবিজ্ঞানী হরপ্রসাদ রায় দা র সাথে যেন আমারই মোলাকাত হলো, তার ধ্যানধারণা, চিন্তাচেতনা পড়লাম কথায় কথায়, ছন্দ-কবিতায়। চষে বেড়ালাম ও নিজ চোখে দেখলাম  রাজস্থানের যোধপুরের বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো, লেখকের সাথে চলে চলে উদঘাটন করলাম গান্ধীজী রহস্য! দাদা ও বউদি মণির অমায়িক আচরণ, আপন ব্যবহার এবং  আদর ভালোবাসা আপ্যায়নে আমিই যেন বেড়িয়ে আসলাম দুইদিন!
এমনই চমৎকার লেখকের বর্ণনাভঙ্গি, গদ্যের জাদু, গল্পের ঢং।
লেখক- পরিচিতি : সব্যসাচী লেখক মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ বহুমুখী এক প্রতিভার নাম। গল্প,কবিতা,ফিচার,মুক্তগদ্য,কলাম,প্রবন্ধ-নিবন্ধ সহ সাহিত্য-সাংবাদিকতার প্রায় সবক’টি বিভাগেই তার ছান্দসিক ও শক্তিমান পথচলা। নিয়মিত  লিখেন  বাংলাদেশের শীর্ষ জাতীয় দৈনিকসহ দেশের বিভিন্ন  দৈনিক, মাসিক, পাক্ষিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। উর্দু ও হিন্দিভাষাতেও দেখি তার অবাধ দখল। ভারত, পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিকগুলোতেও রাখছেন মেধার স্বাক্ষর। ২০১২ সালে পান অন্যধারা সেরা লেখা পুরস্কার। প্রকাশিত গ্রন্থ ছয়টি। দাদারাজ্যে যাবার পথে তার সপ্তম গ্রন্থ।
রিভিউ : সালমান সাদ
প্রকাশনী : দারুল ইশাআত
মূল্য : ৬০ টাকা
Facebook Comments