Wednesday, January 19, 2022
Home > ইতিহাস-ঐতিহ্য > পঞ্জিকার পাতা ঘুরে আবার এলো ৭ মার্চ

পঞ্জিকার পাতা ঘুরে আবার এলো ৭ মার্চ

Spread the love

তবে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটি এবার এসেছে ভিন্ন মহিমায়; ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই প্রথম দিবসটি উদযাপিত হতে চলেছে বাংলাদেশে।

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। দিনটিকে বাঙালির ইতিহাসের অবিস্মরণীয় দিন বলে উল্লেখ করেছেন তারা। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার ভোর থেকে দিনভর থাকছে নানা কর্মসূচি।

সুদীর্ঘ আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তৎকালীন রেস কোর্সের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস ২৩ মিনিটে তুলে ধরে একাত্তরের সেদিন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আমরা যখন মরতে শিখেছি; কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।

“রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

কবি নির্মলেন্দু গুণের ভাষায়- ‘তারপর থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের’।

ঐতিহাসিক এ দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বাণীতে বলেছেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকণ্ঠে যে কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন তার মধ্যে নিহিত ছিল বাঙালির মুক্তির ডাক।”

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণকে বাঙালির মুক্তির সনদ অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ।”

দিবসটি উপলক্ষে ভোর সাড়ে ৬টায় ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয়- এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করবে আওয়ামী লীগ।

সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। দুপুর ২টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের জনসভা হবে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় ঘটনা। এ ভাষণ বাঙালিকে উজ্জীবিত স্বাধীনতার স্বপ্নে। পরাধীনতার দীর্ঘ প্রহর শেষে স্বাধীনতার জন্য এমন একটি মাহেন্দ্রক্ষণের জন্যই যেন অধীর অপেক্ষায় ছিল পুরো জাতি। ৭ মার্চ তাই বাঙালির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একটি দিন হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

মুলত বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণের আহ্বানেই মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে বাঙালি। পরে ২৫ মার্চের কালরাতে পাকবাহিনীর নৃশংস গণহত্যার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।

নয় মাসের যুদ্ধ শেষে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার এবং বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ হবে।

সুত্র : বিডিনিউজ24

Facebook Comments