Sunday, January 16, 2022
Home > মনীষী > নোবেল জয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫)

নোবেল জয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫)

Spread the love

আলবার্ট আইনস্টাইন – এর নাম শোনেনি এমন মানুষ হয়ত পৃথিবীতে খুব কমই পাওয়া যেতে পারে। কারণ, তিনি শুধু বিজ্ঞানী নন, বরং তিনি হচ্ছেন বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞানী। তিনি বিজ্ঞানকে নিয়ে গিয়ে ছিলেন এক উঁচু স্থানে। এই মহা বিজ্ঞানী জার্মানির উল্ম শহরে ১৮৭৯ সালে ১৪ মার্চ জম্ম গ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব কেটেছে জার্মানির আরেক বৃহৎ শহর মিউনিখে। আইনস্টাইনের বাবা-মা ছিলেন ধর্ম নিরপেক্ষ মধ্যবিত্ত ইহুদি। বাবা হেরমান আইনস্টাইন মূলত পাখির পালকের বেড তৈরি ও বাজারজাত করতেন। পরবর্তীতে তিনি মিউনিখে একটি তড়িৎ যন্ত্র নির্মাণ কারখানা সত্যিই স্থাপন করে মোটামুটি সফলতা পান। এই কোম্পানির নাম ছিল Eleutrotechnisene fabrik j, Eihstein & cie যা মিউনিখের Oktober fast কে প্রথম বিদ্যুতায়িত করে এবং schwabing কে প্রথম বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে সংযুক্ত করে। তাঁর মা পলিনকখ পরিবারের অভ্যন্তরীণ সব দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর এক বোন ছিল যার নাম মাজা। আইনস্টাইনের দু’বছর পরেই তার জম্ম হয়।

দেশত্যাগঃ
আইনস্টাইনের বয়স যখন ১৫ তখন তাঁর বাবা প্রতিনিয়ত ব্যবসার ক্ষতির শিকার হতে থাকেন। এ সময় তার কোম্পানি মিউনিখ শহরের বিরাট অংশকে বিদ্যুতায়িত করার মত একটি লাভজনক চুক্তি স্থাপনে ব্যর্থ হয়। অগ্যতস হেরমান স্বপরিবারে ইতালির মিলান শহরে পাড়ি জমান। সেখানে এক আত্মীয়ের সাথে কাজ শুরু করেন। মিলানের পর কয়েক মাস তারা পাভিয়াতে থাকেন। সে সময়েই আইনস্টাইন জীবনের প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র লেখেন। যার নাম চৌম্বক ক্ষেত্রে টথারের অবস্থা সংক্রান্ত অনুসন্ধান। বাবা তাকে মিউনিখের একটি বোর্ডিং হাউজে রেখে গিয়ে ছিলেন পড়াশোনা শেষ করার জন্য। একা একা তার জীবন দুঃসহ হয়ে উঠে। একে তো স্কুলের একঘেয়ে পড়াশোনা, তার উপর ১৬ বছর বয়স হয়ে যাওয়ায় সামরিক দায়িত্ব পালনের চাপ তাকে হাঁপিয়ে তোলে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মাত্র ৬ মাস পরেই তাই মিউনিখ ছেড়ে পাভিয়াতে তার বাবা-মার কাছে চলে যান। হঠাৎ একদিন দরজায় আলবার্টকে উপস্থিত দেখে তাঁরা বেশ বিস্মিত হয়ে ছিলেন। তার উপর স্কুলের চাপের বিষয়টি বাবা-মা বুঝতে পারেন। ইতালিতে তাকে কোন স্কুলে ভর্তি করাননি তাঁর বাবা-মা, তাই মুক্ত জীবন পার করতে থাকেন আলবার্ট। তাঁর যোগ্যতা খুব একটা আশাব্যঞ্জক বলে কারও মনে হয়নি, ডাক্তারের চিকিৎসাপাত্রের অজুহাত দেখিয়ে তিনি স্কুল থেকে চলে এসেছিলেন। তারপর তিনি সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলাজি নামক প্রতিষ্ঠানে ভর্তির একটা সুযোগ পান, সেখানে কেবল ভর্তি পরিক্ষায় কৃতকার্য হলেই তাকে নিয়ে নেওয়ার কথা জানান হয়, যদিও তাঁর হাই স্কুল বা সমমানের কোন ডির্গ্রি ছিলনা, পরে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়, ফলাফল দিলে দেখা যায়, তিনি পদার্থ বিজ্ঞান ও গণিতে অনেক ভালো করার জন্য তাকে পলিটেকনিকে ভর্তি করে নেওয়া হয় এক শর্তে।তাঁকে সাধারণ স্কুলের পর্যায়গুলো অতিক্রম করে আসতে হবে, যেই কথা সেই কাজ, তিনি সুইজারল্যান্ডের আরাইতে জাস্ট উইন্ডেলার কর্তৃক পরিচালিত একটি বিশেষ ধরণের স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৮৯৬ সালে সেখান থেকে স্নাতক হন, সেখানে মূলত তিনি ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎচৌম্বক তত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন।একই সময়ে সমরিক দায়িত্ব পালন এড়ানোর জন্য তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জার্মান নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। এরপর প্রায় ৫ বছর তিনি কোন দেশেরই নাগরিক ছিলেননা। তার পর ১৯০১ সালের ২১ ফ্রেব্রুয়ারিত সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ করেন যা তিনি কখনই ত্যাগ করেননি। তার সর্বমোট তিনটি দেশের নাগরিকত্ব ছিল-
(১) জার্মান ১৮৭৯-১৮৯৬
(২)সুইজারল্যান্ড ১৯০১-১৯৫৫
(৩) মার্কিন ১৯৪০-১৯৫৫

পেটেন্ট অফিসঃ
স্নাতক হবার পর আইনস্টাইন শিক্ষকতার কোন চাকরি খুঁজে পাননি। প্রায় ২ বছর চাকরির জন্য ঘোরাঘুরি করেন। ২ বছর পর তার প্রাক্তন এক সহপাঠীর বাবা তাকে বার্নের এক দপ্তরে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। সেটা ছিল ফেজারেল অফিস ফর ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপাটি নামক একটি পেটেন্ট অফিস। তাঁর চাকরি ছিল সহকারী পরীক্ষকের। এবং তাঁর দায়িত্ব ছিল আগত পেটেন্টগুলোকে তড়িতচৌম্বক যন্ত্রের জন্য পরীক্ষা করা। ১৯০৩ সালে সুইস পেটেন্ট অফিসে তাঁর এই চাকরি স্থায়ী হয়ে যায়। অবশ্য যন্ত্রের কলাকৌশল বিষয় পূর্ণ দক্ষতা অর্জন না করা পর্যন্ত পদোন্নতি হবেনা বলেও জানিয়ে দেয়া হয়ে ছিল। সে সময় তিনি পেটেন্ট অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে বিদ্যুতিক সংকেতের সঞ্চালন, সময়ের বৈদ্যুতিক – যান্রিক সামঞ্জস্য বিধান বিষয়ে কিছু গবেষণা করেছিলেন। সঞ্চালিত সময় বিষয়কে চিন্তা ধারার দুটি প্রধান কৌশলগত সমস্যা ছিল। এই সমস্যাগুলো নিয়ে চিন্তা করতে গিয়েই সে সময়ে তিনি আলোর প্রকৃতি এবং স্থান ও কালের মধ্যে মৌলিক যোগসূত্র বুঝতে পেরেছিলেন।

তিনি ১৯০৩ সালের ৬ জানুয়ারি মিলভা মেরিকে বিয়ে করেন। মিলভার ঘরে তাঁর দু’টি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। ১৯০৪ সালের ১৪ মে তাঁদের প্রথম পুত্র মন্তান হ্যান্স আলবার্ট আইনস্টাইনের জন্ম হয়। আর ১৯১০ সালে তাঁদের দ্বিতীয় পুত্র এদুয়াদ আইনস্টাইনের জন্ম হয়।

অ্যানাস মিবাবিলিস গবেষণাপত্রঃ
১৯০৫ সালে পেটেন্ট অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে আইনস্টাইন Anhaleh der physib নামক জার্মান বিজ্ঞান সাময়িকীতে চারটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন-
১) আলোক তড়িৎ ক্রিয়া – আইনস্টাইনের আলোক তড়িৎ সমীকরণ প্রতিপাদন।
২) ব্রাউনীয় গতি – আলোবিক তত্ত্বের সর্মথন।
৩) তড়িৎ গতি বিজ্ঞান- আপেক্ষিকতার বিশেষ তও্ব আবিষ্কার।
৪) ভর – শক্তি সমতুল্যতা, বিখ্যাত E=mc2 সূত্র প্রতিপাদন।
২৬ বছর বয়সে তিনি জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর উপদেষ্টা ছিলেন পরীক্ষণমূলক পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অালফ্রেড ক্লাইনার। তারপর আসে তাঁর জীবনের সাফল্যের দিন। তিনি ১৯২১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর পুরস্কার লাভের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষ অবদান এবং বিশেষত আলোক- তড়িৎ ক্রিয়া সম্পর্কিত গবেষণার জন্য।

মৃত্যুঃ
তিনি ১৮ এপ্রিল ১৯৫৫ সালে (৭৬ বছর) বয়সে যুক্তরাষ্টের প্রিন্সটন এ মৃত্যুবরণ করেন।

Facebook Comments