Monday, January 17, 2022
Home > Uncategorized > ছোট শাকিলের গল্প ।। আবিদা আফরিন টুম্পা

ছোট শাকিলের গল্প ।। আবিদা আফরিন টুম্পা

Spread the love

পরিবারের বড় ছেলে শাকিল। বাবা খুলনা জুট মিলের সাধারন কর্মচারী। মা গৃহিনী। পাশাপাশি টেইলারী কাজ করে টুকিটাকি আয় করেন। বেশ পরিশ্রমী তিনি। মাস শেষে যা আয় করেন ছোটো ছেলেটা নিয়ে দু জন মিলে মোটামুটি সেভিং না হলেও চলে যায় তাদের দিনকাল। শাকিলকে ভর্তি করিয়েছেন জুট মিলের পাশের একটা ছোট্ট মাদরাসায়। প্রতিদিন দুপুরে মা এবং রাতে বাবা গিয়ে খাবার দিয়ে আসেন। মাদরাসায় বসে যে খাবার অর্ডার করছে, শত কষ্ট হলেও বাবা মা তা দিয়ে আসার চেষ্টা করছেন আপ্রান। কিছুদিন পর তার ভালো লাগে না এই মাদরাসা। অনেক মারধর করে। এই অভিযোগ টেনে দাঁড় করালো মায়ের কাছে। মা সে তো বড়ই দয়ালু। খালাতো ভাই উপমহাদেশের বড় ইসলামী বিদ্যাপীঠ গওহরডাঙ্গা মাদরাসার সহকারী মুফতী। তার কাছে ভর্তি হবে বলে আবদার করে বসে মায়ের কাছে। আবদার রাখতে ভাগিনা মুফতীকে ফোন করে বললো ছোট ভাইয়ের আবদারের কথা। ভাগিনা বেচারা নিরুপায়। ছোট্টবেলা বড় আদরেই বড় করেছেন তার খালামনি তাকে। ‘ঠিক আছে নিয়ে আসেন’ বলে খালামনিকে আশ্বাস দিলেন। শাকিল এখন গওহরডাঙ্গা মাদরাসার হিফজ বিভাগের একজন ছাত্র। তার ভাব সাবই এখন সম্পূর্ণ অন্যরকম। মুফতী ভাইয়ের রুমে খানা খায় সে। মুফতী সাহেবের ভাই বলে কথা। বুক ফুলিয়ে মাদরাসার মধ্যে বিচরন তার। মুফতী সাহেবের ছোটো ভাই বলে হুযুর থেকে শুরু করে সমস্ত ছাত্র পর্যন্ত সকলেই খুব আদর করেন তাকে। কিছুদিন পর মুফতী ভাই আর এখন তাকে আদর করে না। আগের মতো ভালোবেসে রুমে আসার সাথে সাথে মোবাইলটা হাতে দিয়ে গেমস খেলতে দেয় না। সর্বপরি তাকে রুমে আসলেই পড়ার কথা জিগ্যেস করে। সেই মুফতী ভাই আর এখন ভাই নেই। বনে গেছে এক কর্কশ মার্কা বিরক্তিকর হুযুর। শাকিল এবার মাকে ফোন করে বললো, এখানটাতেও তার ভালো না লাগার যতো অযুহাত। এখান থেকে তাকে না নিয়ে গেলে সে কোথাও হারিয়ে যাবে। এমন হুমকির মুখে মা কি করবেন ভেবে না পেয়ে আগের মাদরাসায় আবার ফিরিয়ে আনলেন তাকে। শাকিলের প্রত্যাবর্তন পেছনের মাদরাসায়। কিছুদিন এভাবেই চললো। ইতিমধ্যে সাত পারার হাফেজও হয়েছে শাকিল। কথায় আছে সাত পারাতে একটা ছোটো শয়তান ঘাড়ে ভর করে বসে। কথানুযায়ী শাকিল এখন মাদরাসায় পড়তে চাচ্ছে না। তাকে এ মাদরাসায় পড়ালে সে আর পড়বে না ইত্যাদি নানা ধরনের অযুহাত। এবার ধৈর্যের বাঁধ আর মানছে না তার মায়ের। ছেলের এমন অযুহাতে একটার পর একটা মাদরাসা পাল্টানো, পরিবারের নানা ধরনের ঝামেলা আর সহ্য হচ্ছে না। শাকিলকে ইচ্ছে মতো উত্তম মাধ্যম পুরস্কারে ভূষিত করলেন তার মা। মুফতী ভাইয়ের বড় ভাইয়ের সাথে এবার সে আসলো ঢাকার বুকে। দু চোখ ভরে তার নানা স্বপ্ন।ভালো হাফেজ হবে। বাবা মার স্বপ্ন পূরন করে বাড়ি ফিরবে একদিন বড় হাফেজ আলেম হয়ে। ঢাকাস্থ একটা প্রাইভেট মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দিলেন তার বড় মুফতী ভাই। পাঁচ বেলা নাস্তাসহ মজার মজার খাবার থাকছে মাদরাসায়। খুব পছন্দ ওর মাদরাসাটা। বৃহস্পতিবার আসলেই ভাইয়ার সাথে বাসায় যায় শাকিল। কিন্তু মা ঢাকায় আসছেন না কেনো এমন অভিমানের সুরে আবারো হারিয়ে যাবেন বলে হুমকি যায়নি এখনো তার।

Facebook Comments