Sunday, January 16, 2022
Home > গল্প > গোলাপ ও চিরকুট ।। তামিম আব্দুল্লাহ

গোলাপ ও চিরকুট ।। তামিম আব্দুল্লাহ

Spread the love
সাজুর হাতে একটা গোলাপ ও ছোট্ট একটা কাগজের টুকরা।গোলাপ ফুলটা সাজু সবেমাত্র ২৫ টাকা দিয়ে কিনেছে।এই ফুল আর কাগজের টুকরোটা সে তার মাকে দিবে।কারণ আজ তার মায়ের জন্মদিন। তাই সাজু তার নিজের জমানো টাকা দিয়ে মায়ের জন্য উপহার কিনেছে। ।আজ সারাদিন অন্যদিনের তুলনায় চে বেশি কাগজ কুড়িয়েছে।এইজন্য দুপুরে তার খাওয়া দাওয়া হয়নি। সাজু তবু, আনন্দিত। বরং তার খুশি বেড়েছে।দুপুরে বেলায় যে খুব ভালো খাওয়াদাওয়া করে ব্যাপারটা তা নয়, বরং বেশির সাধারণত ৮ টাকা দামের শুকনা রুটি। সেই রুটিটাও আজ খেলো না তার মাকে দিতে যাওয়া উপহারের জন্য। আজ রাতের বেলা খুব পেট ভরে খাবে সাজু। আজ টাকা বেশী জমা দিয়েছে যে! তাকে সকালের বাসি ভাজি আর পান্তা ভাত দেয়া হবে।সাজুদের মহাজন থাকা খাওয়ার জন্য ১০০ টাকা করে নেয়।এই মহাজন যদি না থাকতো তাহলে হয়তো সাজু এই পৃথিবী আলোয় এতদিন টিকতে পারতো না।
হাঁটতে হাঁটতে সাজু আজিমপুর গোরস্তানের সামনে এসে পড়েছে।গত ৫ বছর আগে সাজুর বাবা মা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।তবে বেঁচে যায় সাজু। তারপর সাজুর মামা তার বোন এবং দুলাভাইকে এখানে কবর দেয়।আর সাজুকে তুলে দেয় মহাজন রহীম আলীর কাছে।সাজুর মহাজন যেখানে তাকে রেখেছে সেটা একটা শিশুদের আশ্রম।কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, মাত্র ৪ বছর বয়স থেকে কাগজ কুড়িয়ে দিন শেষে জোটে বাসি ভাজি আর পান্তা ভাত।
গত ৩ বছরে সাজুর মায়ের কবরের উপর অনেক কবর হয়েছে।তবু সাজু আসে।তার মায়ের কবরের সামনে এসে দাঁড়ায় সাজু।গোলাপের পাপড়িগুলো তার মায়ের কবরের ওপর ছিঁ টিয়ে দেয়। কাগজের টুকরোটা পকেট থেকে বের করে নিয়ে তার মায়ের কবরের উপর রাখে। কবরের মাটিতে হাত রেখে কাগজের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে,
কেমন আছো মা? কেমন আছো?
Facebook Comments