Monday, January 17, 2022
Home > গল্প > খেলার নাম পুরুষগিরি-তকিব তৌফিক

খেলার নাম পুরুষগিরি-তকিব তৌফিক

Spread the love

একে একে ওরা তিনজন কামরায় ঢুকল। শ্যামল, হারুন, নাহিল। সব শেষে ঢুকল কাদির। দল হল চারজনের। কাদির যখন ঢুকল বাকিরা তখন টেবিলের চারপাশে গোল চক্কর ধরে বসে আছে।
কাদির কাঁধ থেকে ব্যাগ টেবিলে রাখতে রাখতে জিজ্ঞাসা করল, ‘আজকের কাজটা কে করেছিলি?’
‘আমি আর হারুন’, উত্তর দিল শ্যামল।
‘নাহিল, তুই কোথায় ছিলি?’, জানতে চাইল কাদির।
‘ড্রাইভিং সিটে’, উত্তর দিল নাহিল আর উত্তর শুনেই বাকি দুইজন আচমকা হেসে উঠল।কাদির বোকা বনে গেল।
‘এ কীরে! এটা কেমন ফাজলামো? তবে তো তোরা তিনজনেই গিয়েছিস!’
‘হ্যাঁ, তবে তুলে আনার কাজটা করেছে শ্যামল আর হারুন। আমার ভূমিকা কমই ছিল’, বলল নাহিল।
‘কেউ কিছু টের পায়নি তো?’
‘না। যারা টের পেয়েছে তার রোজই টের পায়। চোখ ফিরিয়ে চলে যায়। বুকে বুলেটাঘাতের ভয় আর কারো না থাকলেও সাধারণ পথচারীর থাকেই’, অনেকটা বাহাদুরি স্বরে বলল শ্যামল।
‘তবুও, সবসময় সাবধানে থাকবি তোরা। বলা তো যায়না।’
‘তা ভুল বলিসনি’, বলল হারুন।

সিগারেটে আগুন দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ল কাদির। ধোঁয়া হাওয়ায় মিলাবার আগেই হারুনকে উদ্দেশ্য করে জানতে চাইল, ‘তা মেয়েটাকে কোথা থেকে তুলে আনলি?’
‘কমলাপুর স্টেশন মোড় থেকেই। হয়ত ট্রেনে কোথাও ফিরছিল। খুব ভোর বেলা, রাস্তা ফাঁকা ছিল। কাজটা খুব কঠিন হয়নি। দু’একজন পথচারী ছিল, তবে যথেষ্ট দূরত্বে’, জবাব দিল হারুন।
শ্যামল আর নাহিল দাবাখেলায় মগ্ন হল। কাদির সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে সিগারেট নিচে ফেলে দিল। হারুন দু’কদম এগিয়ে এসে জলন্ত সিগারেটে পা রেখে আগুন নিভালো আর কাদিরের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রসিকতার ছলে বলল, ‘আজ তোমার পুরুষত্বের চ্যালেঞ্জ ছিল, মনে আছে কি?’
হারুণের রসিকতা বুঝে কাদিরও বলল, ‘এই কাদির কতটা পারদর্শী তা এরই মধ্যে প্রমাণ হয়ে যাবে জনাব। তুমি কেবল আমার চোখ দু’টো ঐ কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে দাও।’
টেবিলের এক পাশে থাকা একটা মোটা কালো রংয়ের কাপড় পড়ে আছে। হারুন সেটা হাতে নিল। তারপর সে কাপড় দিয়ে শক্ত করে কাদিরের চোখ বন্ধ করে দিল। পরীক্ষামূলক কাদিরের কপালে একটা টোকা মারল হারুন। তারপর অন্য একটি কামরার দিকে মুখ করে দিয়ে কাদিরকে সামনে এগিয়ে যেতে বলল সে।

কাদির কয়েক কদমেই কামরার দরজায় পৌঁছে গেল। তার ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি।
তারপর পেছনের দিকে হাত দিয়ে হারুন, শ্যামল ও নাহিল-এর উদ্দেশ্যে ভিক্টোরি সাইন দেখাল।
তিনজনই একসাথে বলল, ‘বেস্ট অব লাক!’

কাদির এগিয়ে গেল ভেতরের ঘরে। এই ঘর পরিপাটি থাকে। থাকে অসাধারণ সুগন্ধির ঘ্রাণ। সাজানো গুছানো এই ঘরটিতে ‘পুরুষগিরি খেলা’ নামের একটি খেলা হয়। এই খেলার নিয়ম হল দলের যেকোনও তিনজন একটি উঠতি বয়সী মেয়ে তুলে আনবে এবং বাকিজন কালো কাপড়ে চোখ বন্ধ করে সেই মেয়েকে ভোগ করবে। যদি এই কাজে সে ব্যর্থ হয় তবে বাকি তিনজনকে পনের হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর যদি এই কাজ সে চোখ বন্ধ করে করতে সক্ষম হয় তবে ঐ তিনজন পনের হাজার টাকা পরিশোধ করবে।

কাদির শুরুর দিকে রুমের ভেতর থাকা মেয়েটিকে আবিষ্কার করতে পারল না। কিন্তু হাত-পা, মুখ বাঁধা মেয়েটি গোঙায়ে উঠতেই কাদিরের কান আরও খাড়া হল। ধীরে ধীরে সে মেয়েটির খুব কাছে পৌঁছে গেল। যতই কাছে যাচ্ছে ততই মেয়েটির গোঙানোর শব্দ বেড়ে যেতে লাগল। মেয়েটির চোখ খোলা, কিন্তু মুখ আর হাত একেবারেই শক্ত করে বাঁধা। মেয়েটির চোখ দিয়ে পানি ঝড়ছে না, তার চোখে ভয়ও দেখা যাচ্ছেনা। যাচ্ছা দেখা যাচ্ছে তা হল কিছু বলতে চাওয়ার আহ্বান। কিন্তু সে কিছুই বলতে পারলনা। তার আগেই কাদির তার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মেয়েটির বস্ত্রহরণ করল। ক্রমশ হিংস্র পশুর মত ভোগে মেতে উঠল কাদির। মেয়েটি কুমারিত্ব বিসর্জনের ভয়ার্ত আঘাতের জ্বালা হয়ত ঠোঁট চেপে সহ্য করল। তবুও চিৎকার করবার সুযোগ হল না। সর্বনাশের করুণ খেলা কিছুক্ষণ চলল।

খানিকবাদেই কাদিরের তৃপ্তি যেন মিটে গেল। সে সরে আসল নারীদেহ থেকে। জিন্সের প্যান্টটিকে নিজের স্থান দিতে দিতে বুঝতে পারল ফোনটা ভাইব্রেট হচ্ছে। রিসিভ করে বলো, ‘হ্যালো।’
ওপাশ থেকে তার মা বলল, ‘বাবা কাদির! গতরাতের ট্রেনে কুহেলি ঢাকায় গেল, অথচ এখনো কোনও খবর পেলাম না। ফোনটাও বন্ধ বলছে। তুই একটু তোর খালার বাসায় খোঁজ নিয়ে দেখবি ওখানে গেল কিনা!’
কাদিরের ভেতরটা কেমন করে উঠল। মায়ের কথার জবাব না দিয়ে তড়িঘড়ি করে নিজের চোখের কালো কাপড় সরিয়ে নিল সে।
মুহুর্তেই গ্রীষ্মের মেঘহীন আকাশে ভয়াবহ বজ্রপাত ধ্বনি যেন কাদিরকে ধুলোয় মিশিয়ে দিল।
চোখের সামনে নিজের বোন কুহেলি পরে আছে আর ড্যাবড্যাব করে তার দিকে তাকিয়ে আছে। যাকে কিনা নিজেই সে ধর্ষণ করল।
ধর্ষিতা কুহেলি ধর্ষক ভাই কাদিরের দিকে তাকিয়ে থাকলেও কাদির সেটা পারল না। পাপবোধ থেকে কখন যেনও পকেটের পিস্তল কপালে ঠেকলো আর ট্রিগারে চাপ পড়ল তা টেরই পাওয়া গেল না। কাদির শুধু এটা বুঝতে পেরেছিল যে বুলেট যখন মাথা ভেদ করবে তখন বোন কুহেলি ‘না’ সূচক মাথা নেড়েই যাচ্ছিল।

Facebook Comments