Saturday, January 22, 2022
Home > ফিচার > “কিছু জন্ম নিছক কো-ইনসিডেন্ট” বইটি বেশ মমতা এবং পরিশ্রম দিয়ে লেখা

“কিছু জন্ম নিছক কো-ইনসিডেন্ট” বইটি বেশ মমতা এবং পরিশ্রম দিয়ে লেখা

Spread the love

 মদিনা জাহান রিমি,একটি সুপরিচিত নাম,একজন সমর্পিত গল্পকার।জীবনের নানা দিক নিয়ে লিখে যাচ্ছেন অবিরত।ছোটবেলা থেকেই গল্পের সাথে সখ্যতা,তারপর একটু একটু করে গল্পের দুনিয়ায় নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করা।
অক্ষর বিডি.কম গিয়েছিলো তার কাছে, অকৃপণভাবে তিনি সময় দিয়েছেন। কথোপকথনে উঠে এসেছে নানা বিষয়।লেখকের ব্যক্তি জীবন,লেখালেখি,সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সাবলীলভাবে।
তার সাথে কথা বলেছে অক্ষর এর সম্পাদক  শেখ মাহমুুদুল ইসলাম মিজু 
প্রিয় পাঠকের জন্য সাক্ষাতকারটি তুলে দেয়া হলো হুবহু।

অক্ষরঃ কেমন আছেন আপনি?
রিমিঃ আলহামদুলিল্লাহ্, আমি ভালো আছি।
অক্ষরঃ আপনার লেখা উপন্যাস সম্পর্কে বলতে বললে এক লাইনে কি বলবেন
রিমিঃ আমি গতানুগতিক ধারার বাহিরে নিজের স্টাইলে লিখতে চেষ্টা করি।
অক্ষরঃ লেখালেখিতে আসার কারণ কী?
রিমিঃ স্কুল জীবনে শিশু সাংবাদিকতা করতাম এবং প্রচুর বই পড়তাম। নিজের জন্য কিছু গল্পও লিখতাম। সেগুলো কাউকে পড়তে দিলেই তারা মুগ্ধ হয়ে আমার দিকে একবার তাকাতো, গল্পের দিকে একবার তাকাতো। আমি নাকি গল্প লিখে মানুষের আবেগ স্পর্শ করে ফেলতে পারি। এসব থেকে মোটিভেশন পাই।
অক্ষরঃ আপনার সর্বপ্রথম বই প্রকাশিত হয় কবে?
রিমিঃ ২০১৫ সালের বইমেলায়।
অক্ষরঃ এবার বইমেলাতে কি আপনার কোনো বই আসছে?
রিমিঃ উপন্যাস আসছে “কিছু জন্ম নিছক কো-ইন্সিডেন্ট”।
অক্ষরঃ প্রিয় লেখকের নাম কী?
রিমিঃ প্রিয় লেখক অনেকেই আছেন, ইন্টার্ভিউ শেষ হয়ে যাবে বলতে শুরু করলে। লিও তলস্তয়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সেলিনা হোসেন এবং প্রিয় কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
অক্ষরঃ সাহিত্যজগতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কার নাম উল্লেখ করতে চান?
রিমিঃ হৃদয় ইসমাইল। উনি নিজে একজন তরুণ কথা-সাহিত্যিক।
অক্ষরঃ সবচেয়ে প্রিয় লেখা কোনটি?
রিমিঃ আমি প্রতিদিন কিছু না কিছু পড়ি। লাইব্রেরিতে বসে, নিজের পড়ার ঘরে বসে। বাংলা সাহিত্য পড়া আমার প্রিয় কাজ। তাই বেশ কয়েকটি নাম বলছি,”সমরেশ মজুমদার- সাতকাহন, উত্তরাধিকার; মুহাম্মদ জাফর ইকবাল- অবনীল; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর- গোরা, চোখের বালি, যোগাযোগ, শেষের কবিতা; বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়- আরণ্যক, অপুর সংসার, পথের পাঁচালী; মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়-পুতুল নাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, অহিংসা;তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, কবি ; কাজী নজরুল ইসলাম- মৃত্যুক্ষুধা; মৈত্রেয়ী দেবী- ন হন্যতে ;সেলিনা হোসেন- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর, মর্গের নীল পাখি; জহির রায়হান- শেষ বিকালের মেয়ে, বরফ গলা নদী, আরেক ফাল্গুন; সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়- পূর্ব-পশ্চিম; আখতারুজ্জামান ইলিয়াস- খোয়াবনামা, চিলেকোঠার সেপাই ;হাসান আজিজুল হক- আগুনপাখি; আহমদ ছফা- ওঙ্কার, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী।”
অক্ষরঃ নিজের কোন লেখাটির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতে চান?
রিমিঃ”কিছু জন্ম নিছক কো-ইনসিডেন্ট” বইটি বেশ মমতা এবং পরিশ্রম দিয়ে লেখা।
অক্ষরঃ বাংলাসাহিত্য এবং বিশ্বসাহিত্যের মিল ও অমিলগুলো কী কী?
রিমিঃ সাহিত্যগত দিক থেকে বাংলা সাহিত্য আবেগ নির্ভর। বিদেশি সাহিত্য আমার কাছে আবেগহীন লাগে।
অক্ষরঃ বাংলাদেশের বর্তমান সাহিত্যচর্চা নিয়ে কিছু বলুন।
রিমিঃ আমি খুবই নগণ্য এই সম্পর্কে বলার জন্য। তবে আমি অনুরোধ করি প্রচুর বাংলা সাহিত্য পড়তে।
অক্ষরঃ সাহিত্যিকদের মধ্যে রাজনীতি সচেতনতা কম কিনা? হলে কেনো?
রিমিঃ আমার তো মনে হয় সাহিত্য রাজনীতির বাহিরে থাকাই সুখের।
অক্ষরঃ সাহিত্যিকের দায় কতোটুকু সমাজ বদলের ক্ষেত্রে?
রিমিঃ খুবই সুন্দর প্রশ্ন। শিল্পসাহিত্য সমাজ বদলের হাতিয়ার। যে বই পড়ে না তার মনের বিকাশ হয় না। একটা প্রজন্ম যদি প্রচুর বই পড়ে, তারা কখনো হাবিজাবি ভাইরাল জিনিস নিয়ে সোশ্যাল সাইট গরম না করে সমাজের ত্রুটি গুলো নিয়ে কাজ করবে।
অক্ষরঃ জাতীয় দৈনিকে ও ম্যাগাজিনে প্রায় আপনার গল্প দেখা যায়।মাঝে মাঝে টিভিতেও দেখা যায়। নিজেকে তবুও আড়াল রাখার এতো প্রচেষ্টা!
রিমিঃ হাহা! আড়াল নয়। আমি একটু ইন্ট্রোভার্ট। নিজের কথা বলতে লজ্জা পাই। ছোট বেলায় প্রচুর চঞ্চল ছিলাম, কিন্তু যতো দিন যাচ্ছে আমার কথা বলতে ভালো লাগেনা। তাই একটু একা থাকার চেষ্টা করি।
অক্ষরঃ বই মেলা নিয়ে কিছু বলুন।
রিমিঃ বইমেলা তো আমাদের প্রাণের মেলা। ছোটবেলা থেকেই আমার সমগ্র আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু বইমেলা। বাঁশ-দড়িতে যখন বইমেলা প্রাঙ্গণ সাজে, একবার ওদিক দিয়ে বন্ধুদের সাথে হেঁটে যাচ্ছিলাম। আমি নিবিষ্ট মনে তাকিয়ে ছিলাম। ওদের মধ্যে এক বন্ধু বললো, “তুই এই প্রাঙ্গণ জয় করতে পারবি তো দোস্ত।”আমার চোখে পানি এসে গিয়েছিলো। ওদের রেখে দ্রুত হেঁটে আমি পানি লুকাতে ব্যস্ত। এই হলো আমার অবস্থা।
অক্ষরঃ অনুজদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী?
রিমিঃ বলেন কী! আমি কী পরামর্শ দেবো? আমি নিজেই অধম। তবে আমাদের সবার প্রচুর বাংলা বই পড়া উচিৎ। ফেসবুকে জীবনের সব কিছু করা যাবে না।
অক্ষরঃ কখন লেখালিখি করতে ভালবাসেন?
রিমিঃ আমি দিনের বেলা লাইব্রেরিতে থাকি, থিসিসের কাজ করি। তাই রাতে লিখি। তাছাড়া আমার তেমন নির্দিষ্ট সময় নেই। যখন খুব মন ভালো থাকে তখন লিখি, খুব মন খারাপ থাকলে তখনো লিখি।
অক্ষরঃ আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ!
রিমিঃআপনাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটি সাক্ষাতকার আয়োজন করার জন্য!

Facebook Comments