বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২
Home > মনীষী > এমিলি ডিকিনসনের জীবনী

এমিলি ডিকিনসনের জীবনী

Spread the love
 কাজী লীনা : এমিলি এলিজাবেথ ডিকিনসন ১০ ডিসেম্বর, ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে ম্যাসাচুসেটসের অ্যামার্সটে জন্মগ্রহণ করেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তাঁর বাবা স্যামুয়েল ডিকিনসন একজন সরকারি আইনকর্তা ছিলেন। তিনি অ্যামার্সট্ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এমিলিও এখানেই পড়াশোনা করেছেন, তখন এটি অ্যামার্সট্ একাডেমি এবং মাউন্ট হলিওক ফিমেল সেমিনারি হিসেবেও পরিচিত ছিল। অসুস্থতা এবং বিষণ্নতাজনিত কারণে এমিলি নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারেন নি। ১৮৪৮ সালে তিনি পুরোপুরিভাবে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এর জন্য কোন আনুষ্ঠানিক কারণ দর্শাতে না হলেও মূলত বিষণ্নতাই এর জন্য দায়ী ছিল।
একাকী জীবন বেছে নেয়ার পর এমিলি তাঁর নোটবুক কবিতা আর চিঠি লিখে ভরিয়ে তুলতে লাগলেন। পারিবারিক বন্ধু বেঞ্জামিন নিউটনের মাধ্যমে কিশোর বয়সে প্রথমবারের মত উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের সাথে পরিচিত হবার সৌভাগ্য লাভ করেন। শব্দের প্রতি তাঁর ভালবাসা আর কবির অনুপ্রেরণায় তিনি ধারাবাহিকভাবে কবিতা লিখতে শুরু করেন। ১৮৫৫ সালে তাঁর বড়ভাই তাঁর বান্ধবীকে বিয়ে করে ঘর ছাড়ে। ফলে মায়ের দায়িত্ব এসে পড়ে এমিলি ও তাঁর ছোটবোন লাভিনিয়ার উপর। কারণ, তখন পর্যন্ত তিনি ও লাভিনিয়া বিয়ে করেন নি, একসাথেই থাকতেন সবাই, আর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন।
১৮৬০-এর শুরুর দিকে এমিলি খুব কম সময়ের জন্যই বাসা থেকে বের হতেন। চোখের জন্য ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়েছিল সে সময়। তবে সবাি মনে করত একাকীত্বের জন্যই বিষণ্নতা, উদ্বিগ্নতা আর এগোরাফোবিয়ায় ভুগছিলেন তিনি। এর মধ্যেই তিনি বেশকিছু বিখ্যাত কবিতা রচনা করে ফেললেন। সাকুল্যে ১৮০০ কবিতা লিখেছিলেন তিনি যার দুই-তৃতীয়াংশই লেখা হয়েছিল ২০-৩০ দশকের মধ্যে। এগুলোর খুব কম সংখ্যক লেখাই প্রকাশিত হয়েছিল। এর জন্য কবিতাগুলোকে এমনভাবে সম্পাদনা করা হয়েছিল যাতে সেগুলো সমসায়ময়িক লেখাগুলোর মত হয়। এর ফলে নিজস্ব ভঙ্গি আর কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত হয়েছিল। এজন্য লেখাগুলো কেবল পারিবারিক পরিমণ্ডলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। সে সময়ে ঔষধি লতাপাতা সংরক্ষণের দিকে ঝোঁক চলে আসায় উদ্ভিদতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করতে লাগলেন।
পরবর্তী সময়ে কম কম লেখা শুরু করলেন। বইয়ের মত করে আর লেখাগুলো সংরক্ষণও করা থেকে বিরত থাকলেন। নিজের শারীরিক ও মানসিক অবনতির পাশাপাশি পরিবারের বেশকিছু সদস্যদের মৃত্যু হতে দেখেছিলেন সে সময়ে। বাবা মারা যাবার ১ বছরের মাথায় ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মায়ের স্ট্রোক হয়। মায়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার দেখাশোনা করেছেন এমিলি। বাবার বিপত্নীক বন্ধুর সাথে এক মধুর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এক পর্যায়ে। ওটিস ফিলিপ লর্ডের সাথে বিয়ের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা করার ১ বছরের মাথায় তিনিও ইহলোক ত্যাগ করেন।
১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ মে জীবনের সব হিসেব চুকিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই খ্যাতিমান কবি। ৫৬ বছর বয়সে কিডনি রোগে মৃত্যু হয় তাঁর। ভগ্ন স্বাস্থ্য এবং মানসিক চাপের দরুণ এই অল্পবয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। টাউন সিমেট্রিতে তাঁর সমাধি হয়, আর বাড়িটিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। তাঁর প্রয়াণের পর লাভিনিয়া লেখাগুলো আবিষ্কার করেন। ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে লেখাগুলো প্রকাশিত হওয়া শুরু হয়। ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সমগ্র লেখাগুলো সংগ্রহ করা সম্ভব হয় নি। বিখ্যাত লেখাগুলোর মধ্যে ‘Hope is the thing with feather’, ‘Because I couldn’t stop for death’ (যার থিম ছিল মৃত্যুভাবনা) অন্যতম। নির্জনতা, বিষণ্নতা আর অদ্ভউততার জন্য সুপরিচিত ছিলেন তিনি যা তাঁকে কবিতা পড়া ও লেখার ক্ষেত্রে প্রভাবিত করেছিল। আমেরিকান সাহিত্যে তিনি একজন বিখ্যাত এবং পছন্দের কবি ছিলেন।
Facebook Comments