Wednesday, January 19, 2022
Home > নতুন বই > এবং আরও একটি ধর্ষণ

এবং আরও একটি ধর্ষণ

Spread the love

সুপণ শাহরিয়ার

ধর্ষণ করতে কেমন লাগে?

এখনকার পত্রিকায় প্রতিদিন ধর্ষণের খবর আসে। আজও এসেছে। আজ এসেছে সম্ভবত দুইটা। খবর দুটো এরকম—

খবর ১ : গাজীপুরের টঙ্গিতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের এক নেতা কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে একটা মেয়ে। মেয়েটার বাড়ির পাশেই ওঁৎ পেতে দাঁড়িয়ে ছিলো সেই নেতা। চারপাশে সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এলে মেয়েটার মুখ চেপে ধরে সে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। নেতার নাম মাসুদ পারভেজ। বর্তমানে সে গাজীপুর মহানগরের ৪৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

খবর ২ : হাটহাজারীতে এক বখাটে ছেলে কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে একটা মেয়ে। হতদরিদ্র পরিবারের হওয়ায় মেয়েটাকে নিজের বাড়িতে রেখে পড়াশোনা করাচ্ছিলেন একই এলাকার এক শিক্ষিকা। উল্লেখ্য, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে মেয়েটাকে নিয়মিতই উত্যক্ত করে আসছিলো ছেলেটা। তারই ধারাবাহিকতায় সেদিন সুযোগ পেয়ে কৌশলে মেয়েটাকে সেই শিক্ষিকারই বাড়ির ছাদে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ছেলেটা হলো শিক্ষিকার বাড়িতেই থাকা রনি দাশ, বয়স ২১।

_____সকালে খবরগুলো পড়ে যখন শেষ করলাম, ভাবনাটা তখন আসা উচিত ছিলো। আসে নি। এবং এই জাতীয় খবরগুলো কি আজই প্রথম পড়লাম? যেদিন থেকে পত্রিকা পড়া ধরেছি— প্রায়ই তো খবরগুলো পড়ি— এমনকি, কোনোদিনই ভাবনাটা আসে নি! ভাবনাটা মাথায় আসলো সম্পূর্ণ অন্য সময়ে, ভিন্ন পরিবেশে।
_____বিকেলে বিন্তীর সাথে বসে আছি এক পার্কে। আমাদের তেমন কথা হচ্ছে না। বিন্তী খুবই শান্ত স্বভাবের, খুব স্বল্পভাষী— আমাদের খুব একটা কথা বলাবলি হয় না। আমাদের হয় ‘কথা বলিবলি’— কথা যা বলার, আমিই বলি। আমাকেই বলতে হয়। ও শুধু অনেকক্ষণ পরপর একটু একটু কথা বলে আর পুরোটা সময় জুড়ে ঠোঁটে মিষ্টি একটা হাসি নিয়ে আমার কথা শোনে। শুনে যায়।
_____অবশ্য, বাতাবি লেবুর মতো স্তন, মেদহীন কোমর, ভারী নিতম্ব, কাটা কাটা নাক চোখ, টসটসে ঠোঁট এবং গোলগাল চন্দ্রমুখের জন্যই আমি ওকে পছন্দ করেছিলাম— এটা যতোটা সত্য, তারচেয়ে অনেক বেশি সত্য হলো ওর শান্তশিষ্ট, স্বল্পবাকের কারণেই ওকে আমি বেশি পছন্দ করি।
_____এমনই তো হতে হবে মেয়ে মানুষকে। পুরুষ মানুষ হবে অশান্ত স্বভাবের। পুরুষ মানুষ বলবে অতিকথা। অতিকথাই শুধু না— পুরুষ মানুষ অশ্রাব্য গালিগালাজ করবে, হাতাহাতি করবে, রক্তারক্তি করবে, এমনকি মেয়ে মানুষ অবাধ্য হলে পুরুষ মানুষ তার গায়ে হাত পর্যন্ত তুলবে। এবং প্রেক্ষিতে মেয়ে মানুষ কিছু বলবে না। চুপ করে থাকবে।
_____আমাদের সামনে একটা লেক। লেকের শরীর জুড়ে টলটলা জল। আমি কথা বলছি আর পুরোনো অভ্যেসমতো পায়ের কাছ থেকে ছোটো ছোটো ঢিল খুঁজে নিয়ে ছুঁড়ে দিচ্ছি লেকের জলে। ঢিলগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। পরপরই ছোট্ট ছোট্ট ঢেউয়ের বৃত্ত বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে জলের অনেকখানি শরীর জুড়ে। চমৎকার দৃশ্য!
_____আরো একটা ঢিল ছুঁড়বো বলে হাতে নিয়েছি— অমনি ভাবিত হয়ে পড়লাম— ধর্ষণ করতে কেমন লাগে? ঢিলটা ছোঁড়া হলো না। হাত নামিয়ে নিলাম। একটু অন্যার্থক চোখ ফেললাম বিন্তীর দিকে। কাটা কাটা নাক চোখ। টসটসে ঠোঁট। গোলগাল চন্দ্রমুখ। বাতাবি স্তন।
_____’বিন্তী!’
_____’বলো।’
_____কিছু বললাম না। চোখ নামিয়ে ঢিলটা আবার তুলে নিলাম। আবার ছুঁড়তে গেলাম। না ছুঁড়ে আবার থেমে গেলাম। বিন্তীর দিকে আবার তাকালাম।
_____’বিন্তী!’
_____’কী? বলো।’
_____’এখানে কতো মানুষ! ভাল্লাগছে না।’
_____’পার্ক তো। মানুষ তো থাকবেই। অন্যসব দিনেও তো থাকে।’
_____’চলো না একটু অন্য কোথাও যাই!’
_____’কোথায়?’
_____’চলো নয়নের বাসায় যাই। ওর মা-বাবা আজ বাসায় নেই। আমাকে বলেছিলো— আসিস। মুভি দেখবো। চলো, ওর ওখানে তোমাকে একটু নিরিবিলি পাবো। এখানে কতো মানুষ! ভাল্লাগে না।’
_____নয়নই আমার একমাত্র ভালো বন্ধু— যে কখনো কোনো মেয়ের দিকে তাকায় না— যে বন্ধুদের আড্ডায় মেয়েদের শরীর নিয়ে নোংরা আলোচনা উঠলেই চুপচাপ কেটে পড়ে— যে কখনো মদ-গাঁজা তো খায়ই নি, বিড়ি-সিগারেটও খেয়েছে কিনা, কেউ বলতে পারে না— যে কখনো মিথ্যে কথা বলে না— যে, প্রচণ্ড সিনেমা দেখার ঝোঁক থাকলেও কখনো কোনো পর্ন দেখেছে বলে মনে হয় না। বিন্তী জানে। বিন্তী আরো জানে— এর আগে বহুবার নিরিবিলি পরিবেশ পেতে আমি ওকে আমার যেসব বন্ধুর বাসায় নিয়ে গেছি, তাদের প্রত্যেকেই যেমন মদখোর, যেমন গাঁজাখোর, যেমন জুয়াড়ী— তেমন বেশ্যাবাজ। তারপরেও বিন্তী আমার সাথে কারো বাসাতেই যাবার প্রশ্নে না করে নি এতোদিন— সেইখানে আজ নয়নের বাসায় যেতে কোনোরূপ আপত্তি করার কথাই না।
_____আপত্তি করবেই বা কেনো? শুধুমাত্র আমার সাথে সম্পর্ক থাকার কারণেই এলাকার টপ সুন্দরী হওয়া স্বত্তেও ওর দিকে কেউ সামান্য অন্যদৃষ্টিতে তাকায় না পর্যন্ত। তাকাবেই বা কেনো? সবাই খুব ভালো করে জানে— কেউ ওর দিকে অন্যদৃষ্টিতে তাকালে তার চোখ আর কোটরে থাকবে না। তার চোখ আমি বের করে ঝুলিয়ে দেবো চোয়ালের উপরে।
_____তাছাড়া, বিন্তী এও জানে যে, মুখখারাপ-মদ-গাঁজা-সিগারেটের অভ্যেস থাকলেও জুয়া আর বেশ্যাবাজি আমার পছন্দ না। এবং এক বছরের সম্পর্কসময়ে আমি ওকে যেখানেই, যার বাসায়ই নিয়ে গেছি— একটু জড়িয়ে ধরা, গালে খুব সাধারণ দু-একটা চুমু খাওয়া, কোলে মাথা রেখে একটু শোয়া— এর বাইরে বাড়াবাড়ি রকমের কিছুই করি নি। বিন্তী, সুতরাং আমার সাথে পৃথিবীর যে কোনো কোথাও-ও যেতে কোনো আপত্তি কেনো করবে?
_____বিন্তী একবার চোখ বুজলো। তারপর চোখ খুলে নরম একটা হাসি দিয়ে উঠে দাঁড়ালো।
_____’চলো।’
.
নয়নের ঘরে ঢুকে কে বলবে— ঘরটা কোনো একটা ব্যাচেলর ছেলের? ঘরে লক্ষ্মীমন্ত একটা বউ না থাকলে কোনো ব্যাচেলর ছেলের ঘর নয়নের ঘরটার মতো হওয়া অন্যায়।
_____বিছানার উপর শোভা পাচ্ছে সুদৃশ্য একটা চাদর। মাথার কাছে মশারিটা সুন্দর করে ভাঁজ করে রাখা, বালিশটা, কোলবালিশটাও মশারির কাছেই সাজানো। আলনাটায় গোছালো প্যান্ট, শার্ট, গেঞ্জি, লুঙ্গি। টেবিলটাতে গোছগাছ কিছু বই-খাতা, একটা ল্যাপটপ, একটা কলমদানি। ড্রেসিং টেবিলের উপর পরিপাটি দুটো চিরুনি, একটা পারফিউমের বোতল, একটা ফেয়ারনেস ক্রিম। নতুনের মতো ঝকমকে করে রাখা টেবিলের গ্লাসটা।
_____গ্লাসটার ভেতরে এবং বাইরে দাঁড়িয়ে বিন্তী। ওর একটা রোগ আছে— ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ালেই ও দীন-দুনিয়া সব ভুলে যায়। ভেতরের বিন্তীর দিকে বিভোর হয়ে তাকিয়ে থাকে। কিংবা কে জানে— শুধু বিন্তীই না, হয়তো প্রত্যেক সুন্দরী মেয়েই আয়নার ভেতরে থাকা তার মতো সুন্দরীটাকে দেখতে পছন্দ করে! তাকিয়ে থেকে বিভোর হতে ভালোবাসে!
_____বিন্তীর আত্মসৌন্দর্যপ্রেম দেখে আমি মনে মনে বললাম, বিন্তী, ভালো করে দেখো। ভালো করে দেখে নাও নিজেকে। আজ তুমি আমাকে জানাবা, তোমার এই শরীরটা আমাকে জানাবে— ধর্ষণ করতে কেমন লাগে। আজ আমি তোমাকে ধর্ষণ করবো। ধর্ষণ! ধ-র্-ষ-ণ!
_____আমার ক্রুর হাসি আর ধারালো দৃষ্টির চোখের সামনে ফুটে আছে বিন্তীর মাংসল, ভারী নিতম্ব। আমি এগিয়ে গেলাম বিন্তীর কাছে। একটা হাত রাখলাম ওর কাঁধের উপর। ও একটু হেসে আস্তে করে মুখটা ফেরালো আমার দিকে। কিন্তু আমি সেই হাসি-টাসি সব উপেক্ষা করে বিদ্যুতের মতো ঝটকা দিয়ে ওর পুরোটা শরীর ঘুরিয়ে নিলাম আমার দিকে। ও শুধু একবার বলার সুযোগ পেলো—’কী করছো!’ ওর মাথাটা ধরে আমি ওর টসটসে নরম ঠোঁটের উপর শক্ত করে ঠেসে ধরলাম আমার সিগারেটে পোড়া খসকসে পুরু ঠোঁট। ও প্রথমে কয়েকবার নিজেকে ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করলো। পারলো না। ওকে ব্যর্থ করে আমি আমার শক্তি আরো বাড়িয়ে দিলাম। ডান হাতের কব্জিটা নামিয়ে দিলাম ওর নিতম্বের উপর। বাড়িয়ে দেয়া শক্তিটা পৌঁছে দিলাম কব্জিটাতেও। খানিক পরে খেয়াল করলাম আমার গোঁফের উপর পড়ছে ওর তপ্ত নিঃশ্বাস। ঘনঘন। এবং ওর শরীরটা আর বিদ্রোহ করছে না একটুও। বরং আমার শরীরটাসহ নিজের শরীরটাকে ও আস্তে আস্তে সরিয়ে নিচ্ছে পেছনের দিকে— যে পেছনে বিছানাটা— যে বিছানার উপর সুদৃশ্য চাদর— যে চাদরের মাথার কাছে সাজানো বালিশ। কোলবালিশ।
_____বিছানার কোণে ঠেকে যেতেই বিন্তী ওর সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করলো আমার উপর। আমার বুকে হাত বাঁধিয়ে ধাক্কা দিলো সজোরে। পরপরই আমি হাত দুই পেছনে আবিষ্কার করলাম নিজের শরীরটাকে!
_____হ্যাঁ, এটাই তো চাই— কী এক নিষিদ্ধ আনন্দ খেলে যেতে থাকলো আমার ভেতরে ভেতরে— এমনটাই তো চাই— বিদ্রোহ! আমি ওর ঠোঁট চুষেছি, নিতম্বে বসিয়েছি কব্জির কঠিন আঙুল, আঙুলের নখ— বিন্তী বিদ্রোহ করেছে। আমি এখন যা কিছু করবো— বিন্তী বিদ্রোহ করবে। এখন আমি ওর স্তনের দিকে চোখ তাক করে এগিয়ে যাবো, ও বুকের উপর দু’হাত ক্রস চিহ্নের মতো ধরবে শক্ত করে— তারপর আমি ওর হাত সরিয়ে বুকের বস্ত্রে হাত বাঁধিয়ে দেবো হেচকা টান, কটকট করে ছিঁড়ে পড়বে ওর বুকের কাছের সবগুলো বোতাম, আমি ধাক্কা মেরে ফেলে দেবো ওকে বিছানায়, দু’হাতে ওর হাত দুটো চেপে ধরে মুখ নিয়ে যাবো নামিয়ে, দাঁতের দাগ বসাবো স্তনে স্তনে— তারপর আমি ওর অবশিষ্ট্য বস্ত্র ছিঁড়েছুটে খুলেমেলে ফেলবো ওর বাকিটা শরীর, শরীর বাঁচাতে চেষ্টা করে ও আবার ব্যর্থ হবে, আমি নখের আঁচড়ে রক্তাভ করে তুলবো ওর নাভিদেশ, তলপেট, উরু— তারপর আমি…
_____ধর্ষণ তো এমন রকমই হতে হয়— না? এবং একারণেই ধর্ষণ করার আনন্দ পৈশাচিক— না? কোনো মেয়ে যদি নিজেকে তুলে দেয় কোনো ছেলের হাতে, ছেলেটা তারপর মেয়েটাকে বিবস্ত্র করতে গেলে যদি মেয়েটা তার বস্ত্র রক্ষা না-ই করতে চায়, ছেলেটা তারপর মেয়েটার শরীরটা নিয়ে যাচ্ছেতাই রকমের কাজ করলে মেয়েটা যদি বিদ্রোহ না-ই করে, কাজটা শেষ করে তারপর ছেলেটা যদি মোড়ল-মাতব্বর, পুলিশ, ইত্যাদির কোনো রকম ভয় না-ই পায়, ঘটনাটা কি তাহলে ধর্ষণ হয়?
_____আমি চোখ তাক করলাম বিন্তীর বুকে। তারপর আস্তে আস্তে এগোতে থাকলাম ওর দিকে। ভেতরের আনন্দটা প্রবল হয়ে উঠতে থাকলো আমার। হঠাৎ চোখ সরে বিন্তীর চোখের উপর গিয়ে পড়লো। থেমে গেলাম আমি— মিচমিচ করে হাসছে বিন্তী। প্রশ্রয়ের হাসি।
_____বিন্তী হাসবে কেনো? ও তো ভয় পাবে। ভয়ে কুঁকড়ে যাবে। এমনকি, হাত জোড় করে ভেউ ভেউ করে কাঁদবে— আমাকে ছেড়ে দাও! আমাকে ছেড়ে দাও! বিন্তী কি তবে চাচ্ছে আমি ওকে…?
_____কতোক্ষণ কেটে গেলো জানি না। সেই হাসি ধরে রেখেই বিন্তী একসময় বললো, ‘কী হলো?’
_____আমি বললাম, ‘না, কিছু না। চলো বাসায় ফিরি।’
_____বিন্তীর ততোক্ষণে ওড়না খসে পড়েছে নিচে। বিন্তী তখন খুলে ফেলেছে কামিজের শেষ বোতামটাও। কামিজের ফাঁক গলে তাকিয়ে আছে বিন্তীর কিছুটা কাঁচুলি, কাঁচুলির উপর দিয়ে হালকা উপচে পড়েছে বিন্তীর সাদা স্তনের আংশিক। আমি ওদিকে তাকিয়েই আছি শুধু— চোখে কোনো তেজ নেই আমার।
.
.
।। ২ ।।
‘মাল একখান!’
_____আমাদের পার্টি অফিসের সাজিদ— আমারই বয়সী, সম্পর্কও গলায় গলায়— ফট করে বললো কথাটা। এবং ঠিক এই খারাপ কথাটা যখন ও বলে— ওর আশপাশে তাকালেই দেখতে পাওয়া যায় কোনো না কোনো মেয়ে, যে চেহারায়, দৈহিক গঠনে সত্যি সত্যিই লোভনীয়। সাজিদের চোখ আছে!
_____আমি চোখ তুলে তাকালাম। পার্টি অফিসের সামনে, আমাদের থেকে বেশ একটু দূরে দুইটা মেয়ে। মুখচেনা। হেঁটে হেঁটে আসছে। একটা মেয়ে চিকন-চাকন, দেখতে ভালো না। আরেকটার শরীর খুব নাদুস-নুদুস, দেখতেও সুন্দর। দু’জনেরই ডান কাঁধে একটা করে ব্যাগ। ব্যাগে সম্ভবত বই। সাজিদ নাদুস-নুদুসটার দিকেই চোখ দিয়েছে। আমি নিশ্চিত।
_____কিছুক্ষণের মধ্যে মেয়ে দুটো আমাদের সামনে দিয়ে চলে গেলো। এবং মেয়ে দুটো আমাদের সামনে দিয়ে এভাবেই চলে যায়, ঠিক এই সময়, প্রতিদিন বিকেলে। তারপর যখন সন্ধ্যে হবো হবো করে, তখন ফিরেও যায়, এই পথেই। আমি প্রতিদিন দেখিও। নাদুস-নুদুসটাকে বেশ ভালোও লাগে। তবে নাম-ধাম-পরিচয় জানা হয় নি কখনো।
_____মেয়ে দুটো এখন বেশ একটু দূরে। আমি তাকিয়েই আছি মেয়ে দুটোর পেছন দিকে। চোখ নামাই নি। সাজিদ কথা বলছে। ওর মুখে কিছু আটকায় না। যা মনে চাচ্ছে— বলে যাচ্ছে। আমি সেভাবে থেকেই জবাব দিচ্ছি, কথা বলছি।
_____‘দেখেছিস? মাথা ঠিক থাকে? কিছু করতে ইচ্ছে করে না?’
_____‘করেছিস কাউকে কখনো কিছু?’
_____‘আরে নাহ্। মুখেই যা বলি।’
_____‘করবি?’
_____সাজিদ খপ করে আমার হাত চেপে ধরলো— ‘একটা লাইন করে দিবি, দোস্তো?’
_____আমি বললাম, ‘চিনিস?’
_____ও তড়বড় করে বললো, ‘হিন্দুপাড়ার রতন বাবুর মেয়ে, এইটে পড়ে, প্রতিদিন এই সময় কোচিঙে পড়তে যায়, সন্ধ্যের দিকে ফেরে।’
_____‘হিন্দু?’
_____ ‘হুঁ।’
_____‘সুবিধে হলো। নজর রাখিস— কোন্ দিন একা পড়তে যায়। লাইন করে দেবো।’
_____‘থ্যাংকিউ, দোস্তো।’
_____সাজিদের আনন্দ আর দেখে কে! কিন্তু আমি গম্ভীর হয়ে যেতে থাকলাম ক্রমে— ধর্ষণ করতে কেমন লাগে? এদেশে পুলিশ হেফাজতে ধর্ষণ হয়। চলন্ত বাসে ধর্ষণ হয়। ক্যান্টনমেন্টের কঠিন নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ধর্ষণ হয়। অভিজাত হোটেলে ধর্ষণ হয়। জন্মদিন, বিয়ের অনুষ্ঠানে ধর্ষণ হয়। রোজার দিনে ইফতারির আয়োজনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ হয়। স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীর উপর ধর্ষণ হয়। মসজিদের ইমাম দ্বারা আরবি-আমপারা পড়তে আসা শিশুর উপর ধর্ষণ হয়। লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকে অনেকের দ্বারা একই জনের উপর ধর্ষণ হয়। পিতার দ্বারা কন্যার উপর ধর্ষণ হয়। শিশুর উপর ধর্ষণ হয়। তরুণীর উপর ধর্ষণ হয়। বৃদ্ধার উপর ধর্ষণ হয়। এতো এতো ধর্ষণ কেনো? ঘরে স্ত্রী আছে, এবং সেই স্ত্রীর সাথে নিয়মিত সঙ্গম করছে, তারপরেও সে পুরুষ সুযোগ পেলেই বাইরের কাউকে জোরপূর্বক সঙ্গম করছে। আজকাল ভালোবাসার নাম করে মেয়ে পটানো খুব কিছু শক্ত না। পটানোর পর ক’দিন ঘোরাঘুরি করে, হোটেলে-টোটেলে ভালো ভালো খাইয়ে, উপলক্ষে বা অনুপলক্ষে নানান জিনিস উপহার দিয়ে-টিয়ে হঠাৎ একদিন বিছানায় নিতে চাইলে মেয়েটা কি না করে? বাঁধা দেয়? পুরুষের সাথে নারীর প্রেম মানে তো কেবল মনপ্রত্যাশা থাকে না, পুরুষের শরীরটাও তো উপভোগের প্রবল একটা ইচ্ছে থাকে। তাই বরং নিজে থেকেই হাসতে হাসতে শুয়ে পড়ে। শরীর খুলেখেলে কাছে টেনে নেয়। কতো সহজে সঙ্গম করা যায়! আমি নিজে, সেদিন বিন্তীকে দিয়েই তো বুঝেছি। অথচ সেদিকে না এগিয়ে ছেলেপেলেরা কী করছে? পুলিশের হাতে ধরা পড়লে হাঁড়ে হাঁড়ে ঠ্যাঙানি, জেল-জরিমানা, সাধারণ জনগণের হাতে ধরা পড়লে গণধোলাই, সবার ছি ছি— কতো ভয়! তারপরেও ছেলেপেলেরা রাস্তা থেকে মেয়ে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক সঙ্গম করছে। জোরপূর্বক সঙ্গম, যাকে বলে— ধর্ষণ। ধর্ষণ করতে কেমন লাগে? সাধারণ, সম্মত সঙ্গমের চেয়ে ধর্ষণেই অতি বেশি আনন্দ বুঝি?
_____মেয়ে দুটোকে এখনো দেখা যাচ্ছে। অনেক দূরে চলে গেছে। একটু পরেই অস্পষ্ট হয়ে যাবে। আমি মনে মনে বললাম— এবার একটা ধর্ষণ করা দরকার।
.
ঠিক দু’দিন পর বিকেলবেলা সাজিদ আমার বাসায় হাজির!
_____‘দোস্তো, আজকে মালটা একা একা কোচিঙে গেছে! এই এখন গেলো!’
_____আমি কিছু বলার আগে ভাববার জন্য একটু সময় নিলাম। পরপরই সাজিদ স্তিমিত হয়ে এলো। বললো, ‘না, দোস্তো— থাক।’
_____আমার মনে মনে হাসি পেলো একটু। মজা করতে বললাম, ‘পরহেজগার হয়ে গেলি নাকি? ভয় লাগছে? গুনাহ হবে? আল্লার গজব পড়বে?’
_____আমার কথাকে উড়িয়ে দিয়ে ও বললো, ‘আরে দূর! মালাউনকে কিছু করলে কিসের গুনাহ রে? কিসের গজব?’
_____তাই নাকি? মালাউন, মানে হিন্দু ধর্ষণে গুনাহ (পাপ) না? হিন্দু ধর্ষণে গজব না?— হঠাৎ করেই আমি ভাবিত হয়ে পড়লাম— গজব? মোসলমান ধর্ষণেই বা গজব কোথায়? আল্লাহর কোরআনে লাথি মারার পর গজবে একজনের পা পড়ে গেছে, কোরআন ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলো বলে গজবে একটা মেয়ে মানুষ বানর সদৃশ কুৎসিত এক প্রাণী হয়ে গেছে, আল্লাহ-নবীকে নিয়ে বাজে গান-বাজনা করার কারণে কনসার্টের স্থানসহ পুরো শহর মুহূর্তে সাগরে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে— এমন কতো গজবের ঘটনা শুনি! আল্লাহর ঘর মসজিদের ভেতর ইমাম কর্তৃক শিশু ধর্ষণের ঘটনা এই সেদিনও পত্রিকায় এসেছে, ইমাম কর্তৃক এমন ধর্ষণের ঘটনা আরো কতো পড়েছি— কতো বড়ো গুনাহ! অথচ সেসব ইমামের উপর কি গজব এসেছে? জন্মদাতা পিতা কর্তৃক কন্যাকে ধর্ষণ এখন প্রায়ই খবরে আসছে— এর থেকে বড়ো গুনাহ পৃথিবীতে আর কী থাকতে পারে! অথচ সেইসব পিতার উপর কি গজব এসেছে? ধর্ষণের কারণে গজব এসেছে— এমন খবর তো আজ অব্দি পেলাম না! তাহলে কি ধর্ষণ কোনো মারাত্মক অপরাধ বা গুনাহ না?
_____ধ্যাৎ! ধর্মের ব্যাপার-স্যাপার বুঝি না— কীসব ভাবতে শুরু করলাম! ভাবনাগুলোকে জোর করে দূরে ঠেলে রেখে বললাম, ‘তাহলে কী?’
_____সাজিদ বললো, ‘যদি কেউ দেখে ফেলে! তারপর মানুষের ছি ছি, থানা, পুলিশ…।’
_____আমি হা হা করে হাসতে হাসতে বললাম, ‘আরে গাধা, কেউ দেখবে না, সেভাবেই কাজ সারবো। আর বাইচান্স যদি দেখেও ফেলে কেউ— কী সমস্যা? হিন্দুপাড়ায় কয় ঘর হিন্দু রে? ঐ কয় ঘর হিন্দু এক হয়েও আমাদের কিছু করতে পারবে না। আর থানা-পুলিশ করা কী? হুমকি দিলে ঘর-দোর ফেলে ইন্ডিয়া না পালিয়ে কূল পাবে? তাছাড়া, প্রতিদিনই তো ধর্ষণের খবর পড়ি তিন-চারটা করে। কয়জন ধর্ষককে পুলিশ ধরে? ধরলেও কী হয়? কারো ফাঁসি-টাসি কিছু হয়? হলে কয়দিন জেল হয়, কিছু জরিমানা হয়। আমাদের কিছুই হবে না। আমরা কার লোক— সেটা তো দেখতে হবে। এবং সবচে বড়ো কথা কী জানিস? লজ্জা। যাকে ধর্ষণ করা হয়, তার যদি লজ্জা-শরম কিছু থাকে— তার চেপে যাওয়ার কথা। কাউকে কিছুই বলার কথা না। এটা জনে জনে বলে বেড়ানোর মতো অর্জিত কোনো কীর্তি না। তারপরেও যদি বলে— সর্বোচ্চ মাকে, মা থেকে কথাটা যায় বাবা পর্যন্ত। আর সেই মা-বাবার মাথায় যদি বুদ্ধি বলে কিছু থাকে, তবে কেস ঐ পর্যন্তই খতম। বুদ্ধি না থাকলে মেয়েসহ সেই মা-বাবার পস্তানোর কোনো শেষ থাকে না। একটা ঘটনা শোন।’
_____একটু থামলাম। সাজিদ দেখি সাগ্রহে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। বললাম, ‘একবার আমাদের গ্রামে একটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটলো। আমার প্রতিবেশী সম্পর্কের এক চাচার মেয়েকে ধর্ষণ করলো সেখানের ইউপি মেম্বারের ছেলে। ব্যাপারটা যখন শুধু দুই ফ্যামিলির জানাজানির ভেতর ছিলো— মেম্বারের পক্ষ থেকে ব্যাপারটা গোপন রেখে মীমাংসার প্রস্তাব এলো। চাচা তখন এলো আমার দাদার কাছে— চাচাজী, এই এই ঘটনা। আমি পুলিশ কেস করতে চাচ্ছি। আমার দাদা এতো করে বোঝালো— এই কাজ করিস না। লোক জানাজানি হলে সবাই ছি ছি করবে। মেয়েটারও জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে। কোনোদিন বিয়ে হবে না। মেম্বার সাহেবের ছেলেটা কাজটা করেছে তো? পুরুষ মানুষ তো। পুরুষ মানুষ যুবক বয়সে এইসব কাজ একটু-আধটু করে। আমরাও যুবক বয়সে কতো কী করেছি! বয়সের একটা বৈশিষ্ট্য থাকে না? বয়স— সব বয়সের দোষ। মেম্বার সাহেবের সাথে গোপনে গোপনে মীমাংসাটা করে ফেল। ভালো হবে। চাচা কী করলো? দাদাকে অমান্য করে গিয়ে থানায় কেস দিলো। গ্রামে পুলিশ এলো। সারা গ্রামে ঢিশব্দ পড়ে গেলো। চায়ের দোকানে, মুদি দোকানে কয়েকজন লোক এক জায়গায় হলেই সেই গল্প। পুকুর ঘাটে, মহিলাদের বৈকালিক আড্ডায় একই ফিসফাঁস, একই কানাকানি। তারপর চাচাদের বাড়ি থেকে বেরোনোই মুশকিল হয়ে পড়লো। তারপর একদিন মেয়েটা গলায় দড়ি দিয়ে মরে গেলো। আর মেম্বারের ছেলেটা কিছুদিন পালিয়ে থেকে পরে গায়ে বাতাস লাগিয়ে বেরিয়ে এলো। ক’দিন পরে দেখা গেলো ছেলেটার বিয়েও আটকালো না। ধর্ষক তাতে কী— বউটাও পেলো সে দেখার মতো সুন্দরী। এখন সে তার সেই সুন্দরী বউকে মোটর বাইকের পেছনে বসিয়ে নিয়ে সারা এলাকা টহল দিয়ে বেড়ায়। কী লাভ হলো চাচার?
_____সাজিদ বললো, ‘ছেলেটার কিচ্ছু হয় নি!’
_____আমি বললাম, ‘আরে দূর! এদেশে টাকা আর ক্ষমতা থাকলে তার কিছুতেই কিছু হয় নাকি? আমাদেরও কিছু হবে না।’
_____একটু যেনো আশা পেলো সাজিদ। বললো, ‘তুই বলছিস?’
_____ঠিক তখনই আমার একটা খবরের কথা মনে পড়ে গেলো। আমি যথেষ্ট উৎসাহ নিয়ে বললাম, ‘আরে এই কয়দিন আগে প্রথম আলো পত্রিকায় একটা খবর এসেছে— চলন্ত বাসে ধর্ষণের আসামির জামিন। দেখেছিস?’
_____উৎসাহ খেলে গেলো দেখলাম সাজিদের চোখেমুখেও। বললো, ‘তাই?’
_____আমি কিছু বললাম না। শুধু মৃদু একটা হাসি দিলাম। ধরা পড়লে সাজিদের বা আমাদের দলের আর কারো জেল-জরিমানা কিছু হলেও হতে পারে। আমার কিছুই হবে না। মেয়র সাহেব এমনিতেও ক্ষমতাসীন দলের। এবং তাঁর ডান হাত আমিই। কারো পেটে ছুরি বসাতে হলে আমাকেই ডাক পড়ে। কারো ঠ্যাং ভেঙে গুড়িয়ে দিতে হলে আমাকেই হাতে হকিস্টিক নিতে হয়। কারো মাথা ফাটাতে হলে আমাকেই তা করতে হয়। এমনকি, কাউকে খুন করতে হলেও আমার উপরেই দায়িত্ব পড়ে। ইতোমধ্যে দুইটা খুন করে ফেলেছি আমি, উনাকে বাঁচাতেই, উনার কথাতেই। আজ অব্দি কতোবার পুলিশে ধরে নিয়ে গেলো— দুই দিনের বেশি আটকে রাখতে পারে নি। মেয়র সাহেব ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছেন। আমাকে ছাড়া মেয়র সাহেব তো নিজের অস্তিত্বই কল্পনা করতে পারেন না। সামান্য একটা ধর্ষণের কেসে সেই আমার কী হবে?
_____আমি বললাম, ‘একটা কাজ কর— কাদের আর আজমকে একটা কল কর। ওদেরকে বল পার্টি অফিসের পশ্চিমে ঝোপজঙ্গল টাইপের যে জায়গাটা আছে, ঐখানে যেনো ওরা চলে আসে। এসে ঝোপের আড়ালে যেনো গা ঢাকা দিয়ে থাকে। আমরাও আসছি। ঐখানটাতে কখনোই তেমন লোকজন থাকে না।’
_____কাদের, আজম— আমারই দলের লোক। আমার বেশির ভাগ কাজেই সাজিদ যেমন সাথে থাকে, ওরাও তেমন। কিন্তু এই বেলা সাজিদ মনে হলো ওদেরকে প্রত্যাশা করলো না। বললো, ‘ওদেরকে কী হবে?’
_____আমি সাজিদের কাঁধে হাত রাখলাম। ছোট্ট করে একটা হাসি দিয়ে দারুণ একটা কথা বলে ফেললাম! কথাটা বলে নিজের প্রতি নিজেই অবাক হয়ে গেলাম। কথাটা আমার মাথায় ছিলো না, আগে কোথাও কাউকে বলিও নি কথাটা, কারো মুখে শুনেছি কখনো, তাও না; কিন্তু কোত্থেকে যে মাথায় এলো কথাটা— কে জানে! কথাটা হচ্ছে— “মেয়ে মানুষ মদের মতো। মেয়ে মানুষ তাসের মতো। মদ যেমন একা খাওয়ার চেয়ে দল বেঁধে খাওয়া বেশি আনন্দের, তাস যেমন একা না খেলে দল বেঁধে খেললে বেশি আনন্দ— মেয়ে মানুষেও তাই।”
.
.
।। ৩ ।।
ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে আছে ওরা তিন জন— সাজিদ, আজম আর কাদের। আমি দাঁড়িয়ে আছি রাস্তার পাশে, ঠোঁটে জ্বলন্ত গোল্ড লিফ। গোল্ড লিফের মাথা থেকে ধোঁয়া উঠে উড়ে যাচ্ছে হাওয়ায়, মিলিয়ে যাচ্ছে শূন্যে। আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ পথের উপর, দূরে— যেখান থেকে মেয়েটাকে প্রথম দেখতে পাওয়া যাবে, আসতে। আসতে আসতে মেয়েটা যখনই এইখানে এসে পৌঁছোবে— অমনি বেরিয়ে আসবে ওরা তিনজনও। তারপর মেয়েটাকে মুখ চেপে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে জঙ্গলের ভেতর। কাজটা করতে হবে বিদ্যুতের গতিতে। কিংবা গতি হবে তারওচে’ অধিক। এমনটাই পরিকল্পনা।
_____আমি দাঁড়িয়ে আছি— কখন মেয়েটাকে দেখতে পাবো? কখন মেয়েটাকে দেখতে পাবো? হঠাৎ একসময় চোখ স্থির হয়ে গেলো আমার। বুকের ভেতর ছলাৎ করে উঠলো রক্ত। কী এক অজানা অথচ প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে যেতে থাকলো আমার ভেতরে, আমার বাইরে, আমার সবখানে। চারপাশে যতোদূর চোখ যায়— আমি বারবার চোখ বুলিয়ে নিতে থাকলাম। না, এখনো পর্যন্ত কোথাও আর কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। রাস্তাটা, জায়গাটা পুরোপুরি নির্জন। জনমানবহীন।
.
আপন মনে, আপন গতিতে মেয়েটা হাঁটছে। কাঁধে সেই পরিচিত ব্যাগ, সেই চেনা পরিচ্ছদ শরীরে। এবং আমার আর মেয়েটার মাঝখানের দূরত্ব কমে আসছে ক্রমে। ক্রমেই…
.
.
.
দাহকালের ধ্বণি—
| এবং আরও একটি ধর্ষণ
| সুপণ শাহরিয়ার
২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

গল্পসূত্র:
*শিশুকে তুলে নিয়ে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতার ধর্ষণ (সম্পাদক ডট কম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭); *হাটহাজারীতে শিক্ষিকার বাড়ির ছাদে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ (সম্পাদক ডট কম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭); *চলন্ত বাসে ধর্ষণের আসামির জামিন (প্রথম আলো, ৩১ আগস্ট ২০১৭); *নারীকে ভোগ্য জ্ঞান করে— সমাজে প্রচলিত এমন নানা ধারণা
.
.
——————–
————————-
।। গল্পের বাইরের কথা ।।
ধর্ষণ বিষয়ক কিছু লিখতে বসলেই আমার একটা গল্প লিখতে ইচ্ছে করে। যে গল্পের অধ্যায় থাকবে ৩টা—
__________১. সংঘটিত ঘটনা।
__________২. ঘটনার প্রেক্ষিতে অপরাধীর বিরুদ্ধে পারিবারিক, সামাজিক, প্রশাসনিক যথার্থ তৎপরতা।
__________৩. অপরাধীর কঠিন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
লিখতে আমি বসিও। কিন্তু দুঃখকর ঘটনা হচ্ছে ১ নং অধ্যায়টা লিখে বাকি দুইটা অধ্যায় আর লেখা হয় না। বাকি দুইটা অধ্যায় লিখতে গেলেই দেখি গল্পটা আর বাস্তব থাকছে না, হয়ে উঠছে কেমন যেনো রূপকথা। রূপকথা আমি লিখতে চাই না। আমি বাস্তব লিখতে চাই।
এই চাওয়া নিয়ে আমি বসে থাকি। বসে থেকে থেকে আমি ক্লান্ত হই। ক্লান্তি নিয়ে তবু বসে থাকি। আমার বসে থাকার সময় ফুরোয় না। আমার বসে থাকার সময় ফুরোয় না। কবে ফুরোবে?

—লেখক

 

পুনশ্চ: আজকের সময়ের প্রেক্ষিতে গল্পটা এখানেই শেষ হলেও গল্পের শেষ হতে এখনো অনেকটাই বাকি আছে। বাকি অংশসহ পুরোটা গল্প মলাটবন্দী বই হয়ে আসছে একুশের বইমেলা ২০১৮-তে। তরুণ লেখক সুপণ শাহরিয়ারের এ বইটা প্রকাশ করছে পরিবার পাবলিকেশন্স। বইটার নাম “দুঃখঘণ্টা”।

Facebook Comments