Wednesday, January 19, 2022
Home > সাক্ষাৎকার > একজন হৃদয় ইসমাইল এবং অন্যান্য

একজন হৃদয় ইসমাইল এবং অন্যান্য

Spread the love

কবি এবং গল্পকার হৃদয় ইসমাইল শান্ত স্বভাবের একজন প্রচারবিমুখ তরুণ। লেখালিখি ছাড়াও তিনি সমাজ উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ সহ সাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করে থাকেন। গতবছর সারাদেশ ব্যাপী ছোটগল্প প্রতিযোগিতা, ‘বাড়ি ফেরার দুরন্ত গল্প’ সিজন-২’এর ফার্স্ট রানার আপ হয়েছেন তিনি। হৃদয় ইসমাইল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশুনা করছেন। আজ অক্ষর বিডি ডট কমের মুখোমুখি হয়েছেন সেই প্রতিভাবান সাহিত্যিক, হৃদয় ইসমাইল। অক্ষর বিডি ডট কম থেকে তার মুখোমুখি হয়েছেন অক্ষরের সম্পাদক শেখ মাহমুদুল ইসলাম মিজু।

অক্ষরঃ আপনার প্রথম বই প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালের বইমেলায়, লেখালিখির শুরু কবে?
হৃদয় ইসমাইলঃ বই পড়ার আগ্রহ খুব ছোটবেলা থেকেই। যখন পড়তাম, ভাবতাম- ইশ আমিও যদি লিখতে পারতাম। এই ভাবনার বীজটি আমার ভেতরে ধীরে ধীরে বৃক্ষ হতে শুরু করে। নিয়মিত ডায়েরী লেখার অভ্যাস থাকায় লেখালেখি বিষয়ক যে কোনো কিছুতে প্রচুর আত্নবিশ্বাস কাজ করতো। স্কুল ও বিভিন্ন রচনা প্রতিযোগিতার একটা প্রাইজ আমার জুটতোই। সেই হিসেবে স্কুল জীবনই ছিলো লেখালেখির শুরু।
অক্ষরঃ আপনার লেখা গুলো ফিকশন হলেও বেশ তথ্যবহুল লেখা, কবিতা অথবা গল্প ছাড়া নন-ফিকশন বই প্রকাশের কোন ইচ্ছে আছে?
হৃদয় ইসমাইলঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার পড়ার বিষয়টির নাম হলো ভাষাবিজ্ঞান। দেশীয় বইয়ের অপ্রতুলতা ও ভিনদেশী বইয়ের জয়জয়কার এই বিষয়ে। কঠিন কঠিন টার্মগুলো বাংলায় রুপান্তর করলে হয়ে পড়ে আরো কাঠখোট্টা ও দুর্ভেদ্য। নানান কসরত করে ছেলেমেয়েরা বোঝার চেষ্টা করে। ছেলেমেয়েরা যেনো কঠিন টার্মগুলো সহজভাবে পড়েই এই বিষয়ের প্রেমে পড়ে যেতে পারে তা নিয়ে কাজ করার প্লান আছে।
অক্ষরঃ নতুন লেখকদের লেখার অসাড়তা সম্পর্কে কি মতামত আপনার?
হৃদয় ইসমাইলঃ আমি নিজেই তো নতুন লেখক। ২০১৮ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে নতুন উপন্যাসটি সহ আমার বইয়ের সংখ্যা মাত্র তিন। নিজের অসাড়তা দূর করার কাজ করছি।
অক্ষরঃ অনেকেই নিজেদের বায়োগ্রাফি লিখে বই প্রকাশ করে, অথচ বায়োগ্রাফি হয়ে উঠার মতো কোন উপকরণ সেই বইতে থাকে না, আপনি কি মনে করেন এই বিষয়ে?
হৃদয় ইসমাইলঃ উপকরণ থাকার কি প্রয়োজন, তাদের পরিবার ও বন্ধুরা বইটি কিনে বাসায় সাজিয়ে রাখছেন। আদৌতে তারা তো তাই চায়। কম বয়সে আত্মজীবনীগ্রন্থ, কম বয়সে নিজের শ্রেষ্ঠ সমগ্রও করছেন। একটা সময় বইগুলো তাদেরকে উইথড্রো করতে না হোক, আমি তাই চাই।

অক্ষরঃ বর্তমান প্রজন্ম বড্ড বেশি “আমিত্ব” প্রকাশ করে, আপনি কি সহমত?
হৃদয় ইসমাইলঃ হাহা। সোশ্যাল মিডিয়াগুলো এর জন্য দায়ী। যারা ‘আমি’ ‘আমি’ করতে পারছে তাদেরকে অনলাইন সাইটগুলো দ্রুত সবার কাছে পৌছে দিচ্ছে। সমস্যা হলো অনলাইনের ‘আমি’ ‘আমি’ বাস্তবে চলে এলে বড্ড বেমানান লাগে। আত্নমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকা লোকগুলোকে তাই শ্রদ্ধা করি।
অক্ষরঃ আপনার লেখায় কি কোন ব্যক্তিগত আনন্দ কিংবা ট্রাজেডির ছায়া থাকে?
হৃদয় ইসমাইলঃ ছায়া তো থাকেই। ব্যক্তিগত জীবনের নানা অনুষঙ্গ, অভিজ্ঞতা ও দৃশ্যকে পরিমিত করেই তো সাহিত্য। দেখা গেলো, নিজের ভেতরের কোনো সাহসী আচরণ, যেটা কখনোই অন্যকে দেখানো হয়নি। সেটাই গল্পের চরিত্র হয়ে ফুটে উঠলো। “রুম নাম্বার ২০৩” গল্পগ্রন্থটির সাতটি গল্পতেই আমি আমার কাছের পরিচিত সব চরিত্র নিয়ে কাজ করেছি। চরিত্রের সাথে মিশে যেতে এটি অনেক সহায়ক।
অক্ষরঃ নতুন কবিদের কবিতার ভাষাজ্ঞান নিয়ে কি বলবেন?
হৃদয় ইসমাইলঃ শব্দভান্ডারে মস্তিষ্ক থৈ থৈ না করলে কবিতা লিখেও যেমন মজা পাওয়া যায়না। পাঠককেও তৃপ্তি দেওয়া যায়না। এই জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। ভাষাজ্ঞানতো বই পড়েই হবে।
অক্ষরঃ আপনার ২০১৮ সালের বইমেলায় যে উপন্যাসটি প্রকাশিত হচ্ছে তা লিখতে কত সময় লেগেছে?
হৃদয় ইসমাইলঃ দুই বছর বললেও কম হয়ে যাবে। “সে এবং তার ছায়া” উপন্যাসটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছি, কোনো চাপ নেইনি। এর মাঝে লেখা হয়েছে বেশ কিছু গল্প কবিতা। যখন যেটি লিখতে ইচ্ছে হয় সেই ইচ্ছেকেই প্রায়োরিটি দেই আমি। মিস্টেরিয়াস সাইকোলজিক্যাল ঘরানার উপন্যাসটি প্রকাশ করবে দাঁড়িকমা প্রকাশনী।
অক্ষরঃ আপনার লেখক হয়ে উঠার সবচেয়ে স্মরনীয় ঘটনাটি শেয়ার করার অনুরোধ।
হৃদয় ইসমাইলঃ এক বন্ধু আমার শ’খানিক কবিতা সংগ্রহ করে পাণ্ডুলিপি বানিয়ে জন্মদিনে গিফট করেছিলো। তখনো আমার বই বের হয়নি, নিজের প্রিয় সব কবিতার হার্ডকপি আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করে। পরের বছর সেই পাণ্ডুলিপিতেই সাহস পাবলিকেশন্স থেকে বের হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ “বত্রিশ ইঞ্চি স্বর্গ”
অক্ষরঃ প্রিয় সাহিত্যিক সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
হৃদয় ইসমাইলঃ ধন্যবাদ। আপনাকে ও অক্ষর পরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা।

Facebook Comments