Monday, January 17, 2022
Home > Uncategorized > একজন সুখি মানুষের গল্প : আহমদ মুশাহিদ

একজন সুখি মানুষের গল্প : আহমদ মুশাহিদ

Spread the love

আহমদ মুশাহিদ : জনাব আতাউর রহমান, অবসর প্রাপ্ত হেলথ সুপারভাইজার উপজেলা শাখা, একসময় এই চাকুরী ছিল অনেক সম্মানের এবং গুরুত্বপূর্ণ। প্রান্তিক উপজেলার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার জন্য সরকারী হেলথ অফিসারই ছিল নির্ভরতার শেষ ঠিকানা। তাই সবাই জনাব আতাউর রহমান সাহেবকে ডাক্তার সাহেব বলেই সম্মান করেন, তিনি এক সময় শিক্ষকতায় জড়িত ছিলেন, তাই সম বয়সি অনেকে মাস্টার সাব হিসাবেও ডাকেন।

ব্যাক্তি জীবনে চার ছেলে চার মেয়ের জনক। উনার সুখের গল্প এই আট সন্তানকে নিয়েই। তিনি জীবনে অর্থের লোভ কখনো করেননি। বরং সর্বদা তার চাওয়া ছিল নিজে সৎ থাকব, ছেলে মেয়েকে মানুষ করে গড়ে তুলব। আর ছেলে মেয়েকে মানুষ করতে উনার কৌশল ছিল, কখনো তাদের অবৈধ খাবার খাওয়াব না, কোনো অবৈধ টাকার কাপড় পড়াব না। এই একটি কৌশলে তিনি সত্য-সত্যই আট ছেলে মেয়েকে মানুষ করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি কোনো ছেলে মেয়েকে বলিনি নামাজ পড়, পর্দায় থাক। কিন্তু আমার ছেলে মেয়ে কেমন করে যেন নিজ হতেই নামাজ পড়া শুরু করে, মেয়েরা পর্দায় অভ্যস্থ হয়ে পড়ে। তিনি আরো বলেন, আমি আমার সব সন্তানকে সমান ভাবে ভালবাসতাম, তারা কিছু চাওয়ার আগেই জানার চেষ্টা করতাম তাদের কিছু প্রয়োজন আছে কি না, থাকলে সমর্থের অনুপাতে তাদের প্রয়োজন মিটাতে চেষ্টা করেছি। তারাও যখন দেখেছে তাদের আব্বার সামর্থ এই পরিমাণ’ই, তখন তারা মেনে নিত। কোনো দিন এমন হয়নি, আমি কিছু তাদের দিয়েছি আর তারা অপছন্দ করেছে। আরো বলেন, আমার সব ছেলে মেয়ের নামে কখনো আমার কাছে কোনো বিছার আসেনি, তাই আমি মনে করি তারা সবাই সঠিক পথেই আছে। এমন কি তাদের আটজনের বিয়ে হয়েগেছে অনেক আগেই, কিন্তু কারো শ্বশুর বাড়ি হতে বা ছেলেদের স্ত্রীদের পক্ষ হতে বা মেয়েদের স্বামীর পক্ষ হতে আজ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি আমার সন্তানদের বিপক্ষে।

জনাব আতাউর রহমানকে বলা হল, আচ্ছা বুঝলাম আপনার সন্তানরা ভাল মানুষ, কিন্তু ছেলেদের বউ আর মেয়েদের স্বামীও তো খারাপ হতে পারত, কিন্তু তাদের বিপক্ষেও আপনার সন্তানদের কি কোনো অভিযোগ নাই, না থাকলে তো মনে হয় তারাও আপনার সন্তানদের মত ভাল, কথা হল এই রকম চারজন মেয়ের জন্য চারজন ভাল স্বামী এবং চারজন জেলের জন্য চারজন ভাল স্ত্রী কি করে বাচাই করলেন?

জনাব আতাউর রহমান সাহেব একটি উচ্চ স্বরে হাসি দিলেন, তারপর নিচ দিকে চেয়ে বললেন কোন ছেলে কোন মেয়ের জন্য কোন স্থান থেকে বিয়ের আলাপ আসছিল, দীর্ঘ আলাপের শেষে বললেন, আমি ছেলে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া বা বিয়ে করানোর সময় দেখেছি ছেলে বা মেয়ের বাবা কেমন? মার বাবার বাড়ি কেমন? যদি মনে হয়েছে আমি দশজন লোকের সামনে আমার বিয়াইকে জড়িয়ে ধরে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দিত পারব, তিনি আমার বিয়াই, তাহলেই আমি বিয়েতে রাজি হয়ে গেছি, কখনো দেখিনি ছেলের শ্বশুর বাড়ির টাকা কেমন আছে, মেয়ের শ্বশুর বাড়ির টাকা কেমন আছে। কারন টাকার প্রয়োজন খাওয়ার জন্য আর যার যত রিজিক সে এই পরিমাণই খাবে। টাকা হলেই বেশি খাওয়া যায়না। তাই টাকা আমার যেমন কখনো লোভ ছিলনা, সন্তানের শ্বশুর বাড়ির টাকার প্রতিও আমার লোভ ছিলনা।

তিনি আরো বলেন, আমি এমন কি ছেলেদের বউ সম্পর্কেও খোজ খবর নেইনি মেয়ে কেমন, আর আমার মেয়েদের বিয়ের সময় খবর নেইনি ছেলে কেমন! আমার বিশ্বাস ছিল পিতা মাতার উপর সন্তানের চরিত্র নির্ভর।
আলহামদুলিল্লাহ আমার ধারণা ঠিক হয়েছে।

বাস্তবতা সত্যই জনাব আতাউর রহমানের মত। সৎ পথের উপার্যন এবং অর্থের নির্লোভ জীবনের সুখের জন্য প্রধান শর্ত। বিয়ে করার সময় পরিবার দেখা প্রয়োজন অর্থ নয়।

স্ব-জায়গায় নম্র ভদ্র শিক্ষিত মার্জিত নরম চরিত্রের আট সন্তানের গর্বিত পিতা জনাব আতাউর রহমান সাহেবের বর্তমান বয়স ৮০ বৎসর। বার্ধক্য জনিত কিছু রোগ এখন কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছে, তবে কেমন আছেন জানতে চাইলে বলেন, ডাক্তারের নিকট গেলে এটা ওটা বলে, তবে আমার মনে হয় আমি ভাল’ই আছি। সারা দিন নাতি নাতনীদের সাথে খেলা করি বিকাল হলে বাজারে যাই, এই বয়সে এর থেকে বেশি সুস্থ থাকার কামনা করিনা!

আর তিনি কিন্তু এখন শুধু সন্তানদের নিয়ে গর্ব করেন না, বরং শুনেছি তিনি এখন মানুষের সাথে এই গল্পও করেন, উনার কতজন নাতি নাতনী আলেম হাফেজ মুফতি। আমরাও গর্ব করি, আমাদের নানা একজন শ্রেষ্ঠ নানা।

এটা কয়েক দিনের সাক্ষাৎকারের সমস্টি, বিস্তারিত অনেক লম্বা। সর্বশেষে বলা হল, আপনি তো একজন সুখি মানুষ, তিনি হাস্যজ্জল মুখে স্বীকার করলেন হ্যা আমি দুনিয়াতে সুখেই থেকেছি এখন পরকালে সুখি হতে পারলেই বলব আমি সুখি মানুষের একজন। ঈমানের সহিত দীর্ঘ হায়াত এবং সুস্থার জন্য দোয়া করি, আমিন।

Facebook Comments