Saturday, January 22, 2022
Home > বই আলোচনা > বুকরিভিউ “উসকানিমূলক গল্প”

বুকরিভিউ “উসকানিমূলক গল্প”

Spread the love
গল্পগ্রন্থঃ- উসকানিমূলক গল্প
লেখকঃ- আখতারুজ্জামান আজাদ
প্রকাশনীঃ- দাঁড়িকমা প্রকাশনী

রিভিউঃ- রাকিবুল হাসান শ্রাবণ

রেটিংঃ গল্প- ৪.৫/৫
প্রচ্ছদ+বাইন্ডিংসঃ- ৪/৫

বই কেনার প্রাথমিক ধাপে আমি ফ্ল্যাপের লেখা পড়ি। মূলত বইয়ের ভিতরের গল্পের একটা ধারনা ফ্ল্যাপের লেখায় চলে আসে। ‘উসকানিমূলক গল্প’ বইটি আমি স্টলে দাঁড়িয়ে একটুও পড়তে পারিনি। যদিও আজাদ ভাইয়ের লেখা কবিতা আমি আগেও পড়েছি। তবে কবিতা নয়। এবার তার লেখা গল্প পড়ার আগ্রহ থেকেই বইটি পড়া শুরু করেছি।

বরাবর একদম শুরু থেকে শুরু করি যে কোন বই, যেমন উৎসর্গ থেকে পড়ি । এটিও ঠিক যথা সম্ভব শুরু থেকে পড়তে শুরু করলাম। খুচরা আলাপ, ভূমিকা, মুখবন্ধ, আঁতুড় কথা অনেকে অনেক নামে প্রকাশ করেন। তিনি মুখবন্ধ বলেছেন। মুখবন্ধ পড়ে একটা ধাক্কার মত খেতে হলো।

লেখক প্রথম জীবনে গল্প দিয়ে তার সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। যদিও আমরা তাকে কবি হিসেবে চিনি। তিনি কবি হিসেবে আমাদের মাঝে কতটা জায়গা করতে পেরেছেন সে বিষয়ে না বললেও চলবে। আসি মূল কথায়।

একজন লেখকের বাবা মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন আর লেখক তার পাশে বসে লিখে যাচ্ছেন একটার পর একটা গল্প। এটা নিছক আনন্দের কোন বিষয় নয়। একমাত্র সাহিত্যের অস্থি-মজ্জায় অবগাহন না করলে কোন লেখক এটা করতে পারবে বলে মনে হয় না। বই পড়ার আগে আপনাকে মুখবন্ধ পড়তে বলবো আমি।

মোট নয়টি গল্প একদম আলাদা প্লটে সাজানো। আমি সংক্ষেপে প্রতিটা গল্পের মূলভাব তুলে ধরবো-

প্রথম গল্পটি “পহেলা এপ্রিল।” এ গল্প মূলত নাজনুর নামে একজন নাইকার জীবনকে কেন্দ্র কোরে বেড়ে উঠেছে। তার নাইকা হওয়ার শুরুর কথা। তারপর মিডিয়াতে টিকে থাকার লড়াই আর এ লড়াই করতে তাকে কতজনের বিছানায় শুতে হয়েছে এ সব। তারপর এ পথ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নাজনুরের জীবনে ঘটে যায় অনেক কিছু। একজন সত্যিকার প্রেমিক প্রেমিকার জন্য কি করেন এটা এ গল্পে তুলে ধরেছেন লেখক।

পরের গল্প “জোয়ার্দার জংশন।” এ গল্প মূলত আমাদের সমাজের চাটুকার মানুষদের কথা উঠে এসেছে। চাটুকারিতা করে মানুষ নিজের অবস্থান কতটা বড় করতে চায় এমন কিছু দৃশ্য তুলে ধরেছেন লেখক। সফলতার জন্য কতটা নিচে নামা যায় এ গল্পে তা সুন্দর ভাবে প্রকাশ করেছেন লেখক। সফলতা বা ভলোবাসা টাকা পয়শা দিয়ে কেনার বিষয় না এবং ভালোবাসার সুন্দর মিলন দিয়েই শেষ করেছেন গল্পটা।

তিন নাম্বার গল্প ” দৈনিক দাবানল।” এটাও ঠিক আগের গল্পের মতই। তবে আলাদা একটা গল্প। আগের গল্পের সাথে মিল শুধু নিজের অবস্থান বড় করতে গিয়ে মানুষ নিজেকে কতটা পাল্টে নেয়। একটা সস্তা পত্রিকাকে দেশের প্রথম সারি পত্রিকায় রুপান্তর করতে সম্পাদক একজন রিপোর্টারকে কেমন করে ব্যবহার করেন। আর একজন রিপোর্টারের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে, খেলা কোরে কি করে রাতারাতি তার অবস্থান পাল্টে নেন একজন সম্পাদক- লেখক তা তুলে ধরেছেন।

তার পরের গল্প গুলো ‘চোখ’ ‘চিত্রামহল’ ‘আঠারো হাজার লাইক’ ‘বীরেন ভট্টের অমরত্ব’ ‘অন্তঃসত্ত্বা’ এবং ‘প্রক্সি।’ প্রতিটা গল্পে লেখক আমাদের সমাজের কিছু আলাদা দৃশ্যপট বর্ননা করেছেন। আমরা যত্রতত্র ভুল মানুষকে ভালোবেসে জীবনের কত কি নষ্ট করি। এ সবি উঠে এসেছে গল্পে গল্পে।

আমরা নিজেকে সবার উপরের আসনে দেখতে সর্বদা চেষ্টা করি। সোজা পথে না হোক বাঁকা পথে হলেও আমাদের তা চাই চাই। সে অবস্থানে যেতে আমরা আমাদের নিজেকে পর্যন্ত খারাপ বা নষ্ট করে দিতেও পারি। এ সবি গল্পে গল্পে লেখক বুঝিয়েছেন।

কয়েক হাজার লাইকের জন্য এক মেয়ের আত্মহনন। সস্তা জনপ্রিয়তা কুড়াতে একজন মানুষকে জীবিত থেকে এক নিমেসে মেরে ফেলা। একটা মেয়েকে আমাদের সমাজের উচু পর্যায়ের বড় মানুষ গুলো কেমন করে ব্যবহার করেন। তারপর কেমন কোরে ছুড়ে ফেলেন নিচে। নিজের মেয়ের জন্য মা এবং শেষে সেই মেয়ে নিজে জনপ্রিয় হওয়ার জন্য কেমন করে নিজের শরীর বিলিয়ে দিতে কুন্ঠাবোধ করে না এ সবি আলাদা আলাদা গল্পে লেখক তুলে ধরেছেন।

গল্প গুলো থেকে অনেক কিছু জানার আছে। এখানে আমাদের সমাজের দৃশ্যপট থেকে গল্প বলা হয়েছে। কোন রূপকথা বা কাল্পনিক কোন কিছু না। আসলে গল্প এমন হওয়া উচিৎ আমি মনে করি।

আমি এ বইয়ের প্রচ্ছদ, বাইন্ডিংস্, এবং গল্প উপস্থাপন সব মিলে ১০ নাম্বার থেকে ৮.৫ দিবো।

প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ভালো লাগার জায়গা থাকে। আমার জায়গা থেকে আমি এ বইয়ের মূল্যায়ন করেছি। আপনাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে পড়ে মূল্যায়ন করুন। ধন্যবাদ।

রিভিউ টি হবহু বইয়ের গ্রুপ  গ্রন্থ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেয়া।

আপনিও যোগদিনগ্রন্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে  ।

Facebook Comments