Monday, January 17, 2022
Home > ছড়া/কবিতা > ঈশান বড়ুয়ার পাঁচটি কবিতা.

ঈশান বড়ুয়ার পাঁচটি কবিতা.

Spread the love
এক
কুমারী মিথ্যা বলে
অন্ধত্ব গ্রাস করে বিশাল পাকুড়,
কুমারীর আবেগের বুকে,
বৃশ্চিক বিঁধিয়েছে বিষাক্ত শিরদাঁড়া।
বিষ নেমে আসে যে বিনে,কোথায় সে?
মাটিখাদক বাঁধিয়ে নিয়েছে শ্যাওলার
দঙ্গল…
সমুদ্রকে খাদ্যে রূপান্তর ঘটিয়েছে যারা,
মাতমের স্বরে,আহারে!
কংক্রিটে মাটি না পেয়ে মরেছে।
ঘটিয়েছে অর্ধ শরীরের রূপান্তর দুটি দেহে।
কাকের চিৎকারে পৌঁছে যায় খবর…
বয়ে এনেছ সুনিশ্চিত মৃতের খবর,
হাজার বছরের খনি ঘেটে,
ব্যারনের সময় থেকে রক্তের স্রোতে।
ধুয়ে নিয়েছ সাবান আর গানপাউডারে।
যদিও ইতিহাসের শরীরে আজও রক্তের স্বাদ পাওয়া যায়।
দুই
ছাব্বিশে বৈশাখের দুপুর
টিনের থালে গড়িয়ে পরা ঝোল থেকে উঁকি দেই পর্তুগীজ বেনিয়ারা,
খাদ্যসম্ভার এখনও বালুকাময়।
যে তৃণলতা থেকে তুলে এনেছ খাদ্যশস্য,
তার মাটিকে কি বলে ঋতুমতী?
ব্যস্ত পৃথিবী হরদম ডাকে দিশেহারা এক প্রাণ,
পরিণত হচ্ছে প্রতিদিন টাকায়।
তারও পরে একটা জীবন মেটামরফোসিসে ভরপুর।
যারা ধীরে ধীরে কথা বলে পার করে সময়,
তাদের হাতের মুঠোয় রঙীন পরিবহন।
এখনও বেঁচে থাকার তাগিদ দিয়ে ছুটে চলে,
ভাংতি টাকার সওদাগররা।
বোতল ভর্তি জীবন কিনছে অল্প দামে,
ভেঙে ফেলছে ধারালো চঞ্চু!
ডানায় ভর করে চলে সূর্যের অন্যদিন।
অন্যভুবনের পথে ছায়ার শরীরে,
চোখ বন্ধ করে দেখ বেদেনীর সংগ্রাম।
তিন
টেঁটাবিদ্ধ সূর্য
মাথিং,পৃথিবীর মধ্যেখানে দাঁড়িয়েদিকশূণ্য
হয়ে যেতে হয়।
কম্পাসের অবসরে,
কাঁটা কম্পাস মাপে পাহাড়ের ব্যাসার্ধ।
শৈল্পিক নীল মেপে মেপে ঢেলে দেওয়া হয় প্রান্তরে।
যতদূর যাবি নীল নকশা দেখবি শুধু।
ওভাবে পাওয়া যায় না ঠিকানা।
তাই ভূগোলবিদ্যার নামে কামিয়ে নেওয়া যায় সম্পদ।
সম্পদের ভিড়েও যে উজ্জ্বলতা প্রতীয়মান হয় না,
তার অভাব মেটাতে সূর্যকে নামিয়ে আন টেঁটাবিদ্ধ করে।
চার
নীল আপেল চোখের ঘোড়া
নীল আপেল চোখের ঘোড়া আগমনী শব্দের
ব্যাসার্ধ মাপতে ফিতের দূর্বলতা বোঝা যায়।
বোঝা যায় পাহাড়ের আয়তন।
বিন্দু বিন্দু আতরের মধ্যেও অন্য ঘামের গন্ধ
মনে করিয়ে দেয় দক্ষিণ মেরুর রোদের হাহাকার।
এক হাহাকারের মাঝ যাত্রায় বন্দি শিবির থেকে
উৎকীর্ণ চিৎকার প্রতিদ্ধন্দীতা করে গোলকের মাঝবরাবর।
যার নাম বিষুবরেখা হলেও মূলত তা দ্বিখন্ডিত আপেলের সীমারেখা।
আরেক অখন্ডিত নীল আপেল নিয়ে
বালুচরের তট ধরে দৌড়ে বেরায় এক ঘোড়া।
শ্বেতশুভ্র সফেদ এক যোদ্ধা!
পথের মাঝে বিশ্রামাবস্থায় টপাটপ ঝাপিয়ে পড়ে,
যখন ঘুমেরত নীল উচ্চতার স্বপ্ন।
ওই নীল আপেল ধারণ করে আছে পুরো পৃথিবীকে।
যে পৃথিবী বয়ে এনেছে গঙ্গা।
পাঁচ
বিবর্ণ ময়ূর
ও বিবর্ণ ময়ূর
নীল ঝরাও কেন
খুঁটে খুঁটে খেয়ে নাও অমৃতের বীর্যধারা
প্রজ্ঞার মত শীতলে কালো ভ্রোমরা হেলিকপ্টার পাখায় ভেসে যায় দেখনি
ও বিবর্ণ ময়ূর
পায়ের তালে হারিয়ে হারিয়ে কেন যাও
ঝরে যাওয়া পালক কুড়িয়ে অন্নদাতার রূপ নাও
প্রজ্ঞাতন্ত্রের ভাষার মত
ও ময়ূর
ভুলে কেন যাও
এতো শরীরের বয়স
ধারণ কর পারদ ফাটানো তপ্তবাহী রোদ
শঙ্করাচার্যের প্রথম গুণের অসৎ অস্ত্রের বান
ও রঙের ময়ূর
শান্ত কেন কর প্রাণ
মিশিয়ে কেন দাও দিগন্তে
শরীরে শরীরে জন্ম দাও অন্য পৃথিবী
হারিয়ে যাওয়া শহরমুখী রাইফেলে
Facebook Comments