Monday, January 17, 2022
Home > ছড়া/কবিতা > আমি একদিন নিখোঁজ হবো ॥ সাদাত হোসাইন

আমি একদিন নিখোঁজ হবো ॥ সাদাত হোসাইন

Spread the love

নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি
০১.
আমি একদিন নিখোঁজ হবো, উধাও হবো রাত প্রহরে,
সড়কবাতির আবছা আলোয়, খুঁজবে না কেউ এই শহরে।
ভাববে না কেউ, কাঁপবে না কেউ, কাঁদবে না কেউ একলা একা,
এই শহরের দেয়ালগুলোয়, প্রেমহীনতার গল্প লেখা।

০২.
তোমার নামে সন্ধ্যে নামা শহর জানে,
রোজ কতটা আঁধার জমাই অভিমানে!
রোজ কতটা কান্না জমাই বুকের কোণে,
তোমার নামে রাত্রি গভীর শহর জানে।

০৩.
লুকিয়ে রাখা পত্রখানি খুব খেয়ালে হঠাৎ দেখো,
কেমন আছে? কেমন আছে সেই কথারা, সেই ব্যথারা।
শব্দ এবং বাক্য ধূসর, কেমন আছে? শুকিয়ে যাওয়া পাপড়ি ফুলের
একজনমের সকল ভুলের, মাশুলবিহীন কাটিয়ে দেয়া,
একটা জীবন কেমন আছে? কেমন ছিল হারিয়ে ফেলা মনগুলো সব,
বুকের ভেতর ফুলের মেলার বনগুলো সব, কেমন ছিল?

হারিয়ে ফেলা পত্রখানি একটু খোঁজো, একটু দেখ কোন বুকেদের
তেষ্টা এবং সুবাসটুকু লেপটে আছে আখর জুড়ে, যাচ্ছে পুড়ে
ভীষণ দূরে ঝাপসা হওয়া স্মৃতির পাতা, যাচ্ছে পুড়ে। একটু খোঁজো।
একটু বুঝো কত্তটুকু গভীর হলে, বধির হলে, যায় না ছোঁয়া সবটা ডুবেও,
কত্তটুকু! একটু খোঁজো। অনুভূতির সকল ভাষা হোক না ন্যুব্জ, তবুও খোঁজো।

কুড়িয়ে পাওয়া পত্রখানি, পুড়িয়ে দিও, উড়িয়ে দিও, তবুও ভেবো।
পত্রজুড়ে যা পুড়েছে, অগোচরে সবটা ছুঁয়ে একটু কেঁপো, একটু মেপো
কার কতটা পাওনা ছিল, হয়নি উসুল বাকির হিসেব, ফাঁকির হিসাব,
কান্না জলের আঁখির হিসেব, একটু ভেবো।

হয়নি পড়া পত্রখানি একটু পড়, হোক না জড়, হাহাকারের
পাহাড় জনম, হোক না বড়, তবুও তুমি একটু পড়, হয়নি পড়া
পত্রখানি, একটু পড়। পত্রজুড়ে তাকিয়ে দেখো,
একজনমের সবটা জলে, জীবন নদীর পাত্রখানি, কেমন করে
চুপটি করে রইল হয়ে পত্রখানি। তোমার আমার এই জীবনের
গল্পখানি, হয়নি জানা, হয়নি মানা, কেবল জানি হারিয়ে গেল,
হাহাকারের সকল ভুবন বাড়িয়ে গেল, মাড়িয়ে গেল, অপাঠ্য সেই পত্রখানি।
হারিয়ে গেল, শূন্য এবং পূর্ণ স্মৃতির পাত্রখানি, পত্রখানি, হারিয়ে গেল।

তোমাকে
০১.
বৃষ্টি এলো যেই,
মেঘলা মেয়ে ভাসল জলে মনের অজান্তেই।
মেঘলা মেয়ে বৃষ্টি ছুঁয়ে, কাঁদল ভীষণ একা,
কাজল ধুয়ে বিষণ্নতার, বাদল দিল দেখা।

বৃষ্টি এলো বলে,
দুপুর রোদের সেই ছেলেটা, ভাসল অথৈ জলে।
কাঁদুক মেয়ে, কাঁপুক ছেলে, বৃষ্টি নামুক রোজ,
জলের ভেতর, লুকিয়ে থাকুক, মনের গহীন খোঁজ।
বৃষ্টি এলো তাই,
সেই ছেলেটা, মেঘলা মেয়ে, একলা একা নাই।

০২.
আমারও যে একলা লাগে, একলা লাগে খুব,
সন্ধ্যেবেলা গন্ধ বুকে যখন দহে ধূপ।
যখন অমন শূন্য আকাশ নীলের ভেতর ডুব,
আমার তখন একলা লাগে, একলা লাগে খুব।
একলা লাগে যখন তুমি রাতের মতন চুপ,
যখন তুমি অন্য মানুষ, অচেনা নিশ্চুপ।
তখন আমার হারিয়ে যেতে ইচ্ছে জাগে খুব,
আমার ভীষণ একলা লাগে, একলা লাগে খুব।

আয়না
হাত বাড়িয়ে ছুঁতেই দেখি, তোমার ছায়ায় তুমি নেই,
দাঁড়িয়ে ছিলাম সবুজ ঘাসে, ঘাসের নিচে ভূমি নেই।
তোমার সজল চোখের ভাষায়, যা ভেবেছি রাত্রিদিন,
মেঘের প্রহর কাটলে দেখি, ছুটেছে ট্রেন যাত্রীহীন।
একলা পথিক পথের ধুলোয়, হাঁটল যে পথ হাত ছুঁয়ে,
অবাক আলোয় দেখল জীবন, ডুবছে ভীষণ রাত ছুঁয়ে।
এক জীবনের আঁতুড় ঘরে, যা জন্মেছে বিশ্বাসের,
আরেক জীবন শুধবে সে ঋণ, অপেক্ষাটা নিঃশ্বাসের।
হাত বাড়িয়ে ছুঁতেই দেখি, তোমার ছায়ায় তুমি নেই,
সবুজ ঘাসের বুকের ভেতর, জলজ জীবন, ভূমি নেই।

Facebook Comments