Sunday, January 16, 2022
Home > আমাদের কথা > আমার শুয়া চান পাখি ।। আতাউর রহমান খসরু

আমার শুয়া চান পাখি ।। আতাউর রহমান খসরু

Spread the love

আবহমান কাল থেকেই বাঙালি বিরহী। বাংলার প্রাচীন সাহিত্যে বিরহের ধারাই বেশি প্রবল। মধ্য যুগের সাহিত্য ধারায় আমরা দেখি বিরহের আবেশে তুমুল জনপ্রিয় শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, লাইলি মজনু, বেহুলা ও মহুয়ার উপাখ্যান। বাংলার প্রাচীন সংগীতেও বিরহ প্রবল।বাংলা ভাষায় মুসলিম শিল্পী-সাহিত্যিদের চর্চায় ফুঁটে উঠেছে কারবালার হৃদয়বিদারক চিত্র।

এই যে বাংলা সাহিত্য-সংগীতে বিরহের প্রাবল্য তা কেনো? কারণ, প্রকৃতি বাঙালিকে অনেক প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত। প্রকৃতি তাকে প্রেমিক মন দিয়েছে কিন্তু সৌম্য শরীর দেয় নি, তাকে আকাঙ্ক্ষা দিয়েছে কিন্তু যুদ্ধ জয়ের শক্তি দেয় নি, তাকে শস্যের প্রাচুর্য দিয়েছে কিন্তু ঐশ্বর্যের ধন ভাণ্ডার দেয় নি। ঝড়-বৃষ্টি, খড়া-বন্যা, দুর্ভিক্ষ-মহামারি মতো বিপযয় বাঙালির চিরকালের সাথী।

এজন্য বাঙালি সমাজের সবচেয়ে সুখী মানুষটার ভেতরেও বাস করে একটি চির বিরহী সত্ত্বা। বাংলার গান, কবিতা ও সাহিত্য এ বিরহী সত্ত্বাকে বুকে ধরে তার শৈশব, কৈশোর ও প্রাক যৌবনকাল পার করেছে।

এখনো বাংলা লোক সংগীতের প্রধান ধারাগুলো বিরহপ্রবণ। আধুনিক বাঙালি সমাজেও তা সমানভাবে জনপ্রিয়।

বাংলা লোক সংগীতের একজন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী আবদুল বারী সিদ্দিকী। বারী সিদ্দিকী নামেই তিনি খ্যাত। তার সংগীতে বাঙালির বিরহী প্রাণসত্ত্বাই যেনো বার বার প্রাণ পেয়েছে। হৃদয়ছোঁয়া অসংখ্য গানের গায়ক ও স্রষ্টা তিনি। বাঙালি প্রাণের বিশুদ্ধতম সুর ধ্বনিত শিল্পীর কণ্ঠে।

আশৈশব আমি একজন সংগীতপাগল মানুষ। সংগীতের সুরে সুরে আমি আমার অন্তরাত্মাকে খুঁজে ফিরি। যে ক’জন বাঙালি সংগীত শিল্পীর সুরে আমার হৃদয় জাগে বারী সিদ্দিকী ছিলেন তাদের অন্যতম।

আজ তিনি মায়ার সংসার ছেড়ে চলে গেলেন পরপারে। প্রিয় শিল্পীর প্রতি রইলো আমার বিনম্র।

Facebook Comments